পোস্টগুলি

স্মৃতিচারণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রথম ধোঁকা খাওয়ার স্মৃতি

প্রত্যেক সফল ব্যক্তির প্রথম সফলতার গল্প থাকে। সে হিসেবে ব্যর্থ ব্যক্তি হিসেবে আমার প্রথম ধোঁকা খাওয়ার গল্পটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। আমি তখন হাজী মোহাম্মদ আলী একাডেমিতে পড়ালেখা করতাম। আমার বাড়ি থেকে অনেকটাই দূরে। আমার দৈনিক হাত খরচ বরাদ্দ ছিল দশ টাকা। তখন তত যাত্রি ছিল না, তাই রাস্তায় রিকশা চলতো না আর অটো তখনো আসেনি। তাই একমাত্র ভরসা পায়ে হাঁটা। সেহেতু পুরো টাকাটা মূলত টিফিনের খরচ। ক্লাস টু পর্যন্ত সমস্যা ছিল না, কারণ সকালেই ক্লাস শেষ হয়ে যেত, দিব্যি প্যাকেটে ৫ টাকা লেখা কার্ল চিপস ৭ টাকা দিয়ে কিনে ৩ টাকা বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরতাম। ঐ টাকাটা আমি একটা ডানোর বয়ামে রাখতাম, যদিও প্রায়ই বয়ামের টাকার হিসেবে গরমিল লাগতো, তবে বড়দের চোর বলার ক্ষমতা ছিল না, তাই কিছুই বলতাম না। সে হিসেবে এম.আর.পি থেকে ২টাকা বেশি দিয়ে চিপস কেনাকে প্রথম ধোঁকা হিসেবে ধরা যায়। কিন্তু ঐটা যেহেতু অন্য বাচ্চাদের থেকেও ঐ চিপস বিক্রেতা আদায় করতো তাই ব্যক্তিগত ধোঁকার তালিকায় রাখলাম না। সমস্যা দেখা দিলো ক্লাস থ্রি থেকে যখন সারাদিন ধরে ক্লাস চলতে থাকলো। কর্মচারির বেতনের মতো আমার হাত খরচের বরাদ্দও বাড়েনি। এই অকালে চিপস বাদ, বৃ...

আমি এবং আমার গোলক নিক্ষেপ

বর্তমান সময়ে আমি এক শক্ত মানসিকতার চরিত্র হলেও আগে আমি মানসিক আর শারীরিক দুই ভাবেই ছিলাম কিছুটা দুর্বল। প্রাথমিক লেভেলে পড়ার সময় সহপাঠীদের অনেক অত্যাচার যাদের সহ্য করতে হয়, আমি তাদেরই একজন। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ার কালে আমিও পাল্টা দিতে শুরু করলাম আরকি। তবু আমি গড়পড়তা কিছুটা দুর্বলই ছিলাম। অন্তত আমার সহপাঠীদের তেমনই ধারণা ছিল। আমি সাধারণত খেলাধুলায় অংশ নিতাম না বলেই বোধহয় এই ধারণা তৈরি হয়েছিল। সপ্তম কি অষ্টম শ্রেণির দিকের কথা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। এমন সময় শান্ত আমাকে ধরে নিয়ে গেল। সে গোলক নিক্ষেপ দেবে, আমাকেও দিতে হবে। আমি যখন গোলক হাতে নিলাম, আমার সব সহপাঠীরা উপহাস করতে শুরু করলো। তাদের মতে, আমি আর শান্ত নাকি মেয়েরা যতটা দূরত্বে ছুড়েছে, আমরা ততটাও পারবো না। আপনার মনে হতে পারে আমি এ ব্যাপারে জ্ঞান দেবো কিংবা বলবো ওইদিন সবার চেয়ে দূরে ছুড়ে মেরে সবাইকে চুপ করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এটা যেহেতু বাস্তব ঘটনা, তাই এমন নাটকীয় কিছুই সেদিন ঘটেনি। একজন ছেলের জীবনের সবচেয়ে অপমানজনক ঘটনাগুলোর একটা হয়েই থেকে গেলো এটা। আমি গোলকটা মাটিতে নামিয়ে রেখে চলে আসলাম খেলার মাঝখান থেকে। শান্ত ছুড়লো...

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন

  আজও মনে আছে, সপ্তম কি অষ্টম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের সেই বিখ্যাত লাইন— “ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ভারতবর্ষ অধিকার করেন।” সমাজের শিক্ষক ক্লাসে প্রশ্ন করেছিলেন, “কে রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেন?” জবাব দিয়েছিলাম, “ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন।” “ধুর বেটা! সেন পাস কই?” বলে পিঠে ফেলেছিল একটা সেই লেভেলের ঢিসুম। এখনও মনে আছে। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লেখক যতি চিহ্ন ব্যবহার করেনি, তার ফল ভোগ করতে হয়েছিল, এই নির্দোষ বালকটিকে। হে লেখক সম্প্রদায়, আপনাদেরকে একটাই অনুরোধ; এরপর থেকে লেখার মধ্যে ঠিকঠাকভাবে যতি চিহ্ন ব্যবহার করবেন। আপনাদের সৃষ্ট একটা অতি সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, আরেকজনের কান্নার কারণ হতে পারে।

আমি এবং নির্বাচন

এ  আর কি নির্বাচন! নির্বাচন হতো আমাদের স্কুল-কলেজে। কি পরিমাণ রাজনীতি যে সেখানে ছিল চিন্তা করতে পারবেন না। আমি জীবনে কখনো নির্বাচনে জয়ী হইনি। স্কুল জীবনে নিজে থেকে দাঁড়াইও নাই। তো একবার ক্লাস সেভেন কি এইটে বন্ধুরা আমাকে জোর জবরদস্তি করে দাঁড় করিয়ে দিলো। মজার ব্যাপার হলো, আমার সেই একমাত্র নির্বাচনে আমি এক ভোটও পাইনি। নিজেরটাও না। কারণ আমার নিজের পক্ষে নিজেকে সাপোর্ট করাটা বিবেকে বাঁধছিল। যেহেতু একটাও ভোট পাইনি তাই আমি জেনে গিয়েছিলাম সবগুলোই পল্টিবাজি করেছে। পরে অজুহাত দিলো, “তোর পরে যে দাঁড়িয়েছে, ও না দাঁড়ালে সবাই ভোট তোকেই দিতো বিশ্বাস কর।” সেদিন প্রতারিত হয়ে আমার লুবাবার চেয়ে বেশি কান্না পেয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। তবে এটাই আমার প্রথম নির্বাচন না। আমি সবসময়ই যেহেতু শিক্ষকদের মোস্ট ফেভারিট ছিলাম। তাই ক্লাস থ্রি কি ফোরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্যাপ্টেন বানিয়ে দিয়েছিল। দায়িত্ব সামান্যই কারা বিশৃঙ্খলা করছে তার নোট রাখা। আমার অবশ্য ঐদিন বাড়িতে ছুটি নিয়ে আগে চলে আসার কথা ছিল। এক ছেলেকে নাম লেখার দায়িত্ব দিয়ে চলে এলাম। ঐ দিনই ওদের মারামারি হবার ছিলো! আর ঐ ছেলেটাও আমার বি...
ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘সিলেট জয়ের নৈপথ্যে’, ‘কালিদাসের মেঘদূতের প্রমিত অনুবাদ’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।
FS Quote