পোস্টগুলি

সমসাময়িক ভাবনা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে কী ইরান পরাজিত হতে চলেছে?

একদল ফেসবুক-টিকটকে লেখছে, “ওরা জানে ওরা হেরে যাবে, তবু ওরা মাথা নত করবে না।” মানে সিরিয়াসলি? ইরান হেরে যাবে? একটা দেশ কিভাবে হারে জানেন? আপনার কি মনে হয় খামেনির মৃত্যুতে যুদ্ধ শেষ হবে? না, যুদ্ধ আরো ফুঁসে উঠবে। রাশিয়ার সাথে পারমাণবিক অস্ত্র না ব্যবহারের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি, ভেনুজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া, ‍গ্রিনল্যান্ড দখলে নেয়ার চেষ্টা, ইসরায়েলে অর্থাৎ মুসলিম বিশ্বের ঠিক কেন্দ্রে ওদের ঘাটি শক্ত করা, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ হতে বাঁধা দেয়া সবই পূর্বপরিকল্পিত। এগুলো নিছক ট্রাম্পের ছ্যাবলামি না। কিন্তু তাই বলে ইরান কি হার মেনে নিবে? কিছু দিন আগের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ওরা শোপিস হিসেবে বানায়নি। আরেকটা গাজাও যদি হয়ে যায় তবু ইরান মাথা নত করার কথা না। শেষ পর্যন্ত একসময় যখন দেখবে ইরানের সাথে যুদ্ধ করে কোনো লাভ হচ্ছে না বা দেশ এতোটাই বিধ্বস্ত যে তা দখল করেও লাভ করতে পারবে না, তখন যুদ্ধ দূর্বল হয়ে পরবে, জাতিসংঘের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করবে। গত কয়েকটা যুদ্ধ দেখুন, আফগানিস্তানে পরাজয়ের মাধ্যমে আমেরিকার অধঃপতন শুরু, ইউক্রেনেও পরোক্ষভাবে কিছু উল্টাতে প...

মুসলিমদের বদনামের দায় কার?

ছবি
চলুন, আলোচনা করা যাক সারা দুনিয়ায় মুসলিমদের এত বদনাম কেন। শুধুই কি হলিউড-বলিউডের প্রোপাগান্ডা? ১. গালি দিয়ে কিছু মানুষ ধর্ম প্রচার করতে চায়। ওরা আমাদের ধর্মগ্রন্থ পড়ে না। আমাদের বিচার করে আপনার-আমার কথা দিয়েই। এই কাজটা কিছু ওয়াজের বক্তাকেও করতে দেখেছি। আমার কথা বাদ দিন। কোরানে সূরা আল-আনয়ামের ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আপনাদের জন্য লিখে রেখেছেন, "আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না; কারণ তারাও অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি দেবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের আমল শোভন করে দিয়েছি। অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন তাদের প্রতিপালকের কাছেই; তখন তিনি তাদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।" মানে, ধার্মিক সাজতে গিয়ে এখানে সরাসরি আল্লাহর আদেশই অমান্য করে বসে আছেন।  ২. অপরাধীর অপরাধ ঢাকতে ভিক্টিমের দোষ খুঁজে খুঁজে বের করা। খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) মৃত্যুর সময় ও তাঁর শাসনকালে বারবার মুসলিম প্রশাসন ও সেনাপতিদের অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর অন্তিম অসিয়তে বলে গেছেন, "আমি আমার পরবর্তী খলিফাকে ...

আমি যদি শিক্ষামন্ত্রী হতাম...

ছবি
প্রথমেই বলে নেই আমি কোনোদিন রাজনীতিতে জড়াবো না, তাই আমার শিক্ষামন্ত্রী হবার সুযোগ নেই। যেহেতু আমি প্রায়ই রাজনৈতিকদের বিরুদ্ধে লেখতাম কিন্তু এখন লেখালেখি বন্ধ করতে হবে জেলের ভয় আছে। তাই এটা লেখছি কারণ আমাদের শিক্ষামন্ত্রীরা আসলে খুঁজেই পান না তাদের কী কাজ। কেউ ট্যাব বিতরণ করেন, তো কেউ বিস্কুট। কেউ আবার নকল আর হবে না টাইপ ভাষণ দিতেই মিডিয়া কাঁপান। ভবিষ্যতে যদি আমার পাঠকদের মধ্যে থেকে কেউ শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষাসচিব হন অথবা এখনই উচ্চপদঃস্থ হয়ে থাকেন তবে তিনি এ পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নিবেন আশা করি। তো চলুন বলি আমি যদি শিক্ষামন্ত্রী হতাম, আমি কী কী পদক্ষেপ নিতাম- অপ্রয়োজনীয় বই কমাতাম: শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় বই কমাতাম ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করতাম। বাংলার ও ইংরেজির ২টা করে বই: বাংলার দুটো বই মিলিয়ে একটা করতাম। ব্যাকরণ শিখবে গল্প-কবিতার ভেতর থেকে। প্রাথমিক থেকে রবীন্দ্র-নজরুল-বঙ্কিম ধরনের জটিল সাহিত্য তুলে দিতাম। এটা শুধু বাচ্চাদের সাহিত্যের প্রতি ভয়ই তৈরি করে, কোনো উপকারে আসে না। প্রাথমিকের ভাষা হবে প্রমিত। আর শিক্ষকদের ব্যাকরণ পড়ানোর মতো যোগ্যতা আছে কিনা নিশ্চিত করতাম। আমি নিশ্চিত দেশের ৭০...

সোনালী ব্যাগ কী আসলেই বাঙালি গবেষকের আবিষ্কার বলে মূল্যায়ন হয়নি?

ছবি
সোনালী ব্যাগ। বাঙালির এক আজব আবেগ। যারা এই ব্যাগ নিয়ে আবেগী মন্তব্য করেন যে বাঙালি গবেষকের আবিষ্কার বলে মূল্যায়ন হয়নি তারা প্রত্যেকে কিনলেইতো ব্যাগটা সুপারহিট হয়ে যেতো। এটা নিয়ে কখনোই কোনো কথা বলিনি, তবে আর নিতে পারছি না। গবেষককে ছোট করা এখানে উদ্দেশ্য না, উদ্দেশ্য এটা কেন সফল হয়নি তা বলা। খবরের কাগজে যে কত পরিমাণ এত ব্যাগ নিয়ে প্রচারণা, কান্নাকাটি দেখেছি আল্লাহই ভালো জানেন।  যেমনটা খবরগুলোতে প্রচার হয়েছে আসলেই কি এটা পলিথিনের বিকল্প ছিল? আচ্ছা, তার আগে বলুন, আপনি পলিথিন ব্যবহার করেন কেন? আচ্ছা, আমিই বলি। দুটো কারণে। এক, কোনো কিছুকে পলিথিন পানি থেকে দূরে রাখে আর দুই, সস্তা। আপনি এজন্য পলিথিন কিনেন না যে এটা স্বচ্ছ। এবার আসি এটা কেন বিকল্প হতে পারেনি। প্রথমত এটা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। মানে পলিথিনের যে সুবিধার জন্য আপনি এটা ব্যবহার করবেন, ঐটাই ছিল এই সোনালি ব্যাগের বড় দূর্বলতা। কিন্তু এটাকে এমনভাবে নিউজ করা হয়েছিল যেন এটাই তো আমরা চেয়েছিলাম। পানিতে গলে যাক, মাটিতে ১০০ বছর পরেতো আর থাকবে না। কিন্তু এটাকে স্বচ্ছ করতে ব্যবহৃত রাসায়নিক মাটির জন্য ঠিকই ক্ষতির কারণ হতো। তাই ইউন...

মক্কা প্যাক্ট কী? যোগ দিলে কার কী লাভ?

ছবি
মক্কা জোট একটা সামরিক প্রতিরক্ষা জোট। বড় দেশগুলো থেকে নিজেদের নিরাপত্তা দিতে এসব জোট গঠন করা হয়। সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইউরোপের ন্যাটো। (ন্যাটো শুধু সামরিক জোট নয়। সামরিকের পাশাপাশি অন্যান্য যৌথ সেবাও দেয় সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের।) প্রথমেই স্পষ্ট করছি, এটা প্রতিরক্ষার জোট। কোনো দেশ এ জোটের কোনো দেশে আক্রমণ চালালে প্রত্যেকটা দেশ সর্বসম্মতিতে তার প্রতিরক্ষায় সেনা পাঠাবে। জোটের কোনো দেশ নিজেই গিয়ে যুদ্ধ বাঁধালে সহায়তা করবে না। তুরস্ক মক্কা জোটে সদস্য সংখ্যা মাত্র তিনটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বলার পর থেকেই অনেক মুসলিম দেশ তাকে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে বিশ্বে এই জোটে অংশ নিতে পারে বলে আলোচনায় বাংলাদেশ, ইরান ও মিশর। ইরান ও বাংলাদেশ সরাসরি যোগ দিতে আগ্রহী। মিশরও বলেছে তারা যোগ দেয়ার বিষয়ে ভাবছে। ইরান-সৌদি এক জোটে চলে এলে শিয়া-সুন্নির দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ভেঙে সব মুসলিম দেশ যে তাতে যোগ দিতে চাইবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া বিশ্বে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের কারণে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। যার কারণে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ইসরায়েল ও ভারতের গণমাধ্যম। বাংলাদেশ এ জোটে চলে গে...

আসলেই কি ভালো ছিল অবিভক্ত পাকিস্তান?

ছবি
ইদানিং প্রায়ই শোনা যায় পাকিস্তান থাকলেই ভালো হতো। অনেক দেশের ভিসা থাকতো, সুন্দরী বউ থাকতো কিংবা বিশ্বকাপ থাকতো এমন অনেক রকম উদ্ভট চিন্তাভাবনা করতে দেখছি সবাইকে। সেদিনের পাকিস্তান আসলে কেমন ছিল চলুন তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করি। চিন্তা করবেন না, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের প্রচারিত তথ্য দিবো না, আপনাদের বায়াস মনে হতে পারে। তার আগের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করি। পুরো চিত্রটাই বাংলাদেশ হবার আগ পর্যন্ত। বিশ্বযুদ্ধের পর কলোনি চালানোর মতো ক্ষমতা যখন আর ব্রিটিশদের ছিল না, শাসনের অবসান ঘটিয়ে একে একে সব দেশকে স্বায়ত্বশাসন দিয়ে কেটে পড়তে শুরু করলো ব্রিটেন। ১৯৩৭ সালেই ব্রহ্মদেশ/বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কারণে বিরক্ত হয়ে নিজেদের ভারতবর্ষ থেকে আলাদা জাতি ঘোষণা করে। তারা ইংরেজদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেয়ে ভারতীয়দের (অবশ্যই ভেতরে পাকিস্তানীরাও আছে, কারণ তখন পাকিস্তান বলে আলাদা কিছু ছিল না) থেকে রক্ষা পাওয়া জরুরী মনে করেছিল। ফলে ব্রিটিশদের অধীনে থেকেও ভারতীয় কলোনি ও বার্মা কলোনি আলাদা হয়ে যায়। মাশুলও দিতে হয়েছে, ১৯৪৭ সালে যখন দেশভাগ হয় তখন বার্মার স্বাধীনতা মিলেনি। সে স্বাধীনতা পেয়েছিল আরো এক বছর...

বাংলাদেশের সেনা অভ্যুত্থানের তালিকা

ছবি
আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় পাতায় রক্ত। সেনা বাহিনী বানানো হয়েছিল দেশকে নিরাপত্তা দিতে কিন্তু বাংলাদেশের শিকড়ে রাজনীতি এমনভাবে ছড়িয়ে পরেছে যে সেনারাও কখনো একদল একমত হতে পারেনি। চিন্তা করে দেখুন ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের কথাই । একদল সেনা ছাত্রদের গুলি চালিয়েছে, আরেকদল শেখ হাসিনাকে পালাতে সাহায্য করেছে আরেকদল ভেঙেছে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি। যে দল জিততে চলে সে গ্রুপ তখন সক্রিয় হয়; এটা শুধু সেনা না সাংবাদিক, নাগরিক সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি হয় যখন জয়-পরাজয় অনিশ্চিত হয়ে পরে, তখন দু’পক্ষই সমানে সমান হয়ে মাঠে নেমে পড়ে। কাল যদি বাংলাদেশে কোনো দেশ অগ্রাসন চালায় একদল অগ্রাসীদের পক্ষেও চলে যাবে, তাদের মত হবে এক দুর্নীতি, অনিয়ম, ভেজালে জর্জরিত দেশ পরিশোধনের জন্য এটা প্রয়োজন ছিল।  তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে হয়ে গেছে ছোট-বড় ৩০টি সফল ও ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা। তার মধ্যে পাঁচটা বড় অভ্যুত্থান সরাসরি বাংলাদেশের চিত্রই বদলে দিয়েছিল। মুজিব থেকে এরশাদ এই টাল-মাটাল সময়টাতেই একের পর এক হয়েছিল সবগুলোই অভ্যুত্থান। তালিকাটা দেখুন- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫: সেনা অভ্যুত...

একটা ভয়

ছবি
 আমি ভয় পাই। স্রষ্টাকেও পাই, মানুষকেও পাই। কারণ আমি মানুষকে বুঝতে পারি না। উদাহরণ হিসেবে আমার অপ্রকাশিত ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ বইয়ের এই কবিতার কথাই ধরতে পারেন। গড কমপ্লেক্সের মিথ্যে স্বপ্নের পথে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে, নিজেকে স্রষ্টা করে, নিজের স্বর্গ নিজেই বানাচ্ছে। বলা হচ্ছে কিছুই করতে হবে না তোমাদের, কাজ রোবট আর এআই করবে আমাদের। মানুষ সময় হারাচ্ছে, কাজ হারাচ্ছে কিন্তু হচ্ছে না হুশ। সবাই বেহুশ।  যখন ধনকুবেরদের শ্রমিক দরকার হবে না, তখন আমরা হবো শুধু অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা। যদি তাদের সব সমস্যা সমাধানের থাকে প্রেরণা সমাধান এখন থেকেই তবে কেন শুরু করছে না?? কিছু মানুষ ধরে নেয় এসব নিছক কল্পনা। আরে এআইতো আমরা ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারছি। তারা এটা আমাদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচে বানিয়েছে এমনটাই যদি আপনি ভেবে থাকেন তবে বলবো স্বপ্ন থেকে জেগে উঠুক। এআই আসার পর বিপুল পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন যন্ত্র কায়িক শ্রম ও মেধাশ্রম দুই কাজেই দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই পৃথিবীর এখন আর এত মানুষের প্রয়োজন হবে না। যাদের টাকা আছে শুধু তারাই বেঁচে থাকবে, মানে পুঁজিবাদী বা ধনকুবেররা।   ইয়াহু ইতমধ্যে খব...

নাগাসাকি দিবস

আজ ৯ আগস্ট, ঐতিহাসিক নাগাসাকি দিবস। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় নিউক্লিয়ার বোমা ‘লিটল বয়’ দিয়ে হামলার ৩ দিন পর এ দিনে আমেরিকার B29 সিরিজের এক বিমান দিয়ে ‘ফ্যাটম্যান’ নামক বোমা ফেলা হয় নাগাসাকি শহরে। এ হামলায় তাৎক্ষণিক ও তেজস্ক্রিয়তার ফলে ক্যান্সারের মত রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অসংখ্য নিরীহ মানুষ। ১৯৪৫ সাল শেষ হবার আগেই মৃতের সংখ্যা ৭৪,০০০ ছাড়ায়। যা জাপানকে আমেরিকার বশ্যতা স্বীকারে এবং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে যে জাপান কোনোদিন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তুলে নিতে পারবে না। এভাবেই সমাপ্তি ঘটে সামুরাই বংশধরদের। তারা যুদ্ধ নয়, শান্তিতে বিশ্বাসী এখন। এই যে আজ জাপান এত উন্নত তার মূল কারণ তারা অন্যদের বিষয় নিয়ে নাক গলানোর চেয়ে নিজেদের উন্নয়ন চেষ্টায় মনোযোগী হয়েছে। পৃথিবীতে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হয় আমার ধারণা জাপানে তার প্রভাব পরবে শূন্য। বিজ্ঞান আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে তবে সেজন্য মূল্যও কম দিতে হয়নি।

‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ নামক সমানাধিকারের নামে অসমতা

এ দেশীয় খবরে চিরকাল দেখা যায় ‘ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ’ ধরনের একটা টার্ম! আজকেও দেখলাম। এই শিরোনামের আসলে মানে কি? বিয়ের প্রলোভনে বলতে দু’জনের সম্মতিতে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কটা হয়েছিল, এখন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় তা নারী নির্যাতন আইনের মারপ্যাঁচে ধর্ষণ হয়ে গেছে। ধর্ষণকে এত সিম্পলিফাই করে বা সহজ করে দিয়েন না। ধর্ষণ প্রায় খুনের সমমানের এক অপরাধ । ধর্ষক খুনির সমমানের অপরাধী। কিন্তু এক্ষেত্রে দু’টোর অবৈধ সম্পর্কে কারাগারে একটা যাবে কেন, দু’টোকেই নিন। দুটোই অপরাধী। বিঃদ্রঃ এক্ষেত্রে ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক দেশগুলোতে জনসমক্ষে দুটোকে ১০০ বেত মারার নিয়ম, অন্যদিকে আমেরিকায় ২জনের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাকে অপরাধ ধরাই হয় না। তবে আমাদের গণতান্ত্রিক দেশে একজনের ছয় মাসের জেল-আরেকজনের এক মাসের মধ্যে অপরিচিত প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয় । অন্যদিকে আমেরিকায় দুজনেরই আছে ব্যক্তি স্বাধীনতা। বিশেষ দ্রষ্টব্যের বিশেষ দ্রষ্টব্য, তারা কিন্তু নারী পুরুষ সমান হিসেবেই বিচার করেছে, বাংলাদেশ করছে একপাক্ষিক।

উপায় লোডশেডিং

ছবি
ছবিটা লোডশেডিংয়ের জন্য তোলা যায়নি একে তো বিদ্যুৎ থাকে না, তার ওপর দু’মাস পরপর মূল্যবৃদ্ধি। ২ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করার কথা রূপপুরে সদ্য চালু হওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। মানে বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের জন্য এটা একাই দিনে ৩ ঘন্টার মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা। কিন্তু বিদ্যুৎটা কোথায়? আদানির সাথে আবার নতুন করে চুক্তি করা হয়েছে। যার কারণে বাড়ছে দাম। সেই বিদ্যুৎটাই কোথায়? নিজেদের আগের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পেতাম তাও তো পাচ্ছি না। এখন কেউ কেউ অজুহাত দিবে তেল সংকট। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রই তেলে চলে না, চলে কয়লার সাহায্যে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কয়লা সংকট হয়েছিল বলে কয়েকটা বিদ্যুৎকেন্দ্র অবশ্য গ্যাসে চলে। ভালো সার্ভিস যদি না পায়, জনগণ কেন অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করবে? কারণ তাদের বিকল্প নেই। যত যাই হোক বিদ্যুৎ ছাড়া আমরা অচল। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগায় আমাদের দেশের আমলারা। ইউক্রেনে যুদ্ধ? দাও লোডশেডিং। ইরানে পেট্রোল আটকে দিয়েছে? লাগাও লোডশেডিং। গ্যাস বিক্রেতারা ধর্মঘট ডেকেছে? এই সুযোগ, লোডশেডিং। দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন...

আমেরিকার গ্রেট সিল আর ইলুমিনাতি

ছবি
আমেরিকার গ্রেট সিল দেখেছেন? বিশেষ করে এর পেছনের অংশটা খুব আলোচিত। অনেকে এটাকে ইলুমিনাতির প্রতীক দাবী করে আর এ ও দাবী করে যে ইলুমিনাতিরা দাজ্জালের অনুসারী। ড্যান ব্রাউনের উপন্যাস ‘এঞ্জেলস এন্ড ডেমনস’ বইয়ের কারণে ইলুমিনাতি নামটা দুশো বছর পর আবার ফিরে আসে আর তাকে এই প্রতীকের সাথে তুলনা করা হয়। তার উপন্যাসে বড় ভূমিকা ছিল এই ইলুমিনাতির। সে বইয়ের জন্য ইলুমিনাতির প্রতীকও ডিজাইন করিয়েছিল। যা আসলে ইংরেজিতে ছিল, জার্মান ভাষায় না, মানে প্রতীকের থিম এক হলেও তা আসল ইলুমিনাতির প্রতীকের মতো ছিল না। যেমন বাস্তবে ইলুমিনাতি ছিল না। বাস্তবে ইলুমিনাতি (যার অর্থ আলোকিত করা) ছিল একটা সংশয়বাদী ও নাস্তিকদের সংগঠন, যারা ধর্মীয় উপকথার দাজ্জাল বা মাসিহ কোনোটাকেই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কথা না। আর কাপালিকদের মত শয়তানের উদ্দেশ্যে বলি বা নরবলি দেয়ারতো প্রশ্নই উঠে না। তারা সৃষ্টিকর্তায় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের চেয়ে, জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাতে বেশি পছন্দ করতো। ঐ সময়ে মানে ১৭৭৬ সালের দিকে  গির্জার অবিচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গড়ে উঠে গোপনে এই সংগঠন। ১৭ ৮৪-১৭৮৫ সালের দিকে এই তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে এর সকল নথিপত্র বাজে...

অবিভক্ত বাংলা গঠন কিংবা বাংলার সেভেন সিস্টার দখল প্রসঙ্গে

ছবি
আমার মনে হয় না আমি কখনো সেভেন সিস্টার বা অবিভক্ত বাংলা নিয়ে কোনো কথা বলেছি। অবিভক্ত বাংলা টপিকে যতবার মানুষ কথা বলতে বলেছে আমি ততবারই বলেছি যা ভেঙে গেছে দীর্ঘ সময় পর তা আর জোর করলেই জোড়া লাগে না। ভারতীয় মাধ্যমে ভারতীয় কিছু নেতা বা এদেশীয় কিছু প্রাণী যারা নিজের বাপের জায়গা চাচার থেকে উদ্ধার করতে পারে না তারা প্রায়ই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ফুটেজ খায় অবিভক্ত বাংলা বা সেভেন সিস্টার নিয়ে কথা বলে। যারা বঙ্গভঙ্গের বিরোধী ছিলেন বলে রবীন্দ্রনাথকে উপহাস করে তারাই আবার অবিভক্ত বাংলার কথা বলে, এটা কোন লেভেলের স্যাটায়ার আমার জানা নেই। বাস্তবে এটা কখনোই সম্ভব না। শুধু ভারতের কারণে না, বাংলাদেশের কারণেও। কিছু অতি উৎসাহী ব্লগারের মতো ভারত অনেক বড় দেশ, বিশাল বাহিনী আর পারমানবিক শক্তি এমন সব কথা বলতে যাচ্ছি না। তাদের যেমন বিশাল বাহিনী আছে বিশাল বর্ডার জুড়ে সারাদিন-রাত কুস্তিও করতে হয় আর পারমাণবিক বোমা শোপিস। তারাও জানে জাতিসংঘ না ভাঙলে কোনোদিনই এটা ব্যবহার করতে পারবে না। আমি আজ বলবো বাংলাদেশের জন্য কেন তা সম্ভব নয়। সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু বাদ দিলাম। সংস্কৃতিতেও দু’পাশের পার্থক্য ৭৯ বছ...

একটা খেলা ও টনি স্টার্কের , “আই হ্যাব এ প্ল্যান।”

ছবি
আপনারা সবাই একটা কার্ডের ব্যাপারে জানেন, আর এও জানেন আমি সিম কার্ডের ব্যাপারে বলছি না। একজন ব্যক্তি সেই কার্ডের লোভ দেখিয়ে সিটে বসে গেছে, আপনারা এও জানেন আমি চেয়ার সেটিং খেলার কথা বলছিলাম না। সে বসার আগেই বলেছিলাম সে মূলা ঝুঁলাচ্ছে, আপনারা এও জানেন যার সামনে ঝুঁলানো হয়েছিল সে গাধা ছিল না। আবার হতেও পারে, দৃষ্টিভঙ্গির হিসেবে। এবার টনি স্টার্কের সেই বিখ্যাত সিনেমাটিক ডায়লগের কথা বলি, “আই হ্যাব এ প্ল্যান।” আপনার প্রশ্ন হতে পারে স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড আমি এত ঘুরিয়ে বলছি কেন?  কারণ আমার খেলোয়াড়ের প্রতিপক্ষের সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। একজন তুমুল জনপ্রিয় তরুণ রাজনীতিবিদ যদি এই খেলার গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে সেখানে আমিতো নিছক অপ্রচলিত লেখক। আমার লাশ নিয়ে রাজনীতি করার লোক ও  পাওয়া যাবে না বলেই আমার ধারণা। কোন তরুণের কথা বলছি তাও আপনারা জানেন, তাই আমি আর বললাম না। যাই হোক, “আই হ্যাব এ প্ল্যান।” টপিকে ফেরা যাক। এই কার্ডটা তাসের খেলায় শেষ মুহুর্তের আগে ফেলাই হবে না। পরের খেলা শুরু হবার আগে ফেলা হবে এই ট্রাম্প কার্ড। যেন পরের বোর্ড খেলার জন্য কিছু পুঁজি থাকে। তাহলে তার আগ পর্যন্ত কি কার্ড খেলা বন...

বাংলাদেশের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা ব্যবস্থা

ছবি
সম্প্রতি ইউনেস্কো (UNESCO) প্রকাশিত 'বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যান' প্রতিবেদনে উঠে এসেছে- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে বাংলাদেশের অবস্থান সবার তলানিতে। মানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষ শিক্ষকের হার সর্বনিম্ন। এতে অবাক হবার কিছু নেই। মাস্টার্স পাস না করলে দপ্তরির চাকরিতে নিয়োগ নেয়া হয় না, তবু বলবো নেই। এটা পরিসংখ্যানে প্রকাশ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে, তবে প্রকাশ হবার আগেও অদৃশ্য ছিল না। বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম হলো গিনিপিকের শিক্ষাক্রম। এক সরকার এসে এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেয়, তো আরেকজন ঐ পদ্ধতি। এটা যে শুধু একটা এক্সপেরিমেন্ট না, এটা একটা প্রজন্মের অসংখ্য ভবিষ্যৎ তা আমাদের সরকার প্রধানরা বোধহয় ভুলে যান। তাই এখানে না দক্ষ শিক্ষক উঠে আসে, না দক্ষ শিক্ষার্থী। তাছাড়া এই উপমহাদেশকে বিজ্ঞান নয় ইতিহাস শাসন করে, তাই এখানে মেধা-অপচয় সর্বোচ্চ। এখানে মেধা বা দক্ষতার চেয়ে মনে রাখার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এখানে বাচ্চাদের সারাদিন-রাত নিউটন-আইনিস্টাইন গিলানো হয় নিয়ম করে, কিন্তু হজম করতে শিখায় না বিধায় বিজ্ঞানের কোনো উপকারই হয় না। দিনশেষে ম্যাক্সওয়েলের শর্ত...

কে এই কান্ট?

ছবি
কিছু মানুষ গণতন্ত্র  নেই বলে ইরানকে অশিক্ষিত বর্বর দাবি করলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই উঠে আসে ইরানি রাজনীতিবিদদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। যেখানে আলী আরদাশির লারিজানি যিনি বর্তমানে ইরানের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ডের প্রাক্তন কর্মকর্তা ছিলেন তার ২০০৪ সালে প্রকাশিত তিনটা বইয়ের প্রত্যেকটার শিরোনামেই উঠে আসে কান্টের নাম। বই তিনটি ছিল The Mathematical Method in Kant ’s Philosophy, Metaphysics and the Exact Sciences in Kant ’s Philosophy এবং Intuition and the Synthetic A Priori Judgments in Kant ’s Philosophy এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক এই কান্টটা কে? পুরো নাম ইমানুয়েল কান্ট। ১৮ শতকের বিরাট দার্শনিক (তাছাড়া পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের তার অবদান ছিল)। তার দর্শনে এবং তার আগের দর্শনে আকাশ-পাতাল তফাৎ। এই জার্মান দার্শনিকই আধুনিক দর্শনের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন। জন্ম নিয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও তাতে মানবাধিকারের সংজ্ঞা। (আগেই বলে রাখি তার এই তত্ত্বগুলো একটু জটিল, শুনতে অনেকটা প্যারাডক্সের মতো।) তার বিখ্যাত কিছু দর্শন ১. নীতিবিদ্যা: তিনি নীতির একটা অসাধারণ সংজ্ঞা দেন। সা...

ভবিষতের বাতাস

ছবি
১০ মিটার জায়গাও পেলাম না যেটুকু ২০২৬ সালে এসে স্বাস্থ্যকর দেখাচ্ছে। চট্টগ্রামের কিছু অংশ শুধু বায়ুর দূষণমাত্রা চলনসই। স্বাস্থ্যকর না, তবে শ্বাস নেয়ার উপযুক্ত। মানে এখনও পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেনি। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা কলকারখানা, এমনকি পরিষ্কারের নামে খোলা পরিবেশে বিশাল এলাকাজুড়ে আবর্জনা পোড়ানো, রাস্তাভরা ধুমপায়ীদের ধুমপান সবকিছুই একটু একটু বিষ ঢালছে আপনার-আমার শ্বাসে। আপনি বলবেন আমি আর কি এমন করি। আসলে আপনার-আমার অতি সামান্য কাজগুলোই হুমকি হয়ে উঠছে আপনার ও আপনার আপনজনদের। ইদানিং এই স্যাঁতসেঁতে সমাজে শেওলার মতোই জন্ম নিচ্ছে ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল তবু বেড খালি নেই। রোগী নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল। রোগী পচছে করিডোরে। ঠিক আবর্জনাগুলোর মতোই। রোগ নিরাময়ের কোনো লক্ষণই নেই? কেন নেই? জবাব আপনি-আমিই। যেই খাবার খাচ্ছি তাতে বিষ, যেই বাতাস নিচ্ছি তাতে বিষ, যে পানি খাচ্ছি তাতেও পাইপ আর টাংকির মাইক্রোপ্লাস্টিক এমনকি যে ঔষধ খাচ্ছি তাতেও বিষ। এবার বলুন, কোন দুঃখে আপনি-আমি বা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ্য...
ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘সিলেট জয়ের নৈপথ্যে’, ‘কালিদাসের মেঘদূতের প্রমিত অনুবাদ’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।
FS Quote