পোস্টগুলি

সমসাময়িক ভাবনা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’ ‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশন কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

কে এই কান্ট?

ছবি
কিছু মানুষ গণতন্ত্র  নেই বলে ইরানকে অশিক্ষিত বর্বর দাবি করলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই উঠে আসে ইরানি রাজনীতিবিদদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। যেখানে আলী আরদাশির লারিজানি যিনি বর্তমানে ইরানের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ডের প্রাক্তন কর্মকর্তা ছিলেন তার ২০০৪ সালে প্রকাশিত তিনটা বইয়ের প্রত্যেকটার শিরোনামেই উঠে আসে কান্টের নাম। বই তিনটি ছিল The Mathematical Method in Kant ’s Philosophy, Metaphysics and the Exact Sciences in Kant ’s Philosophy এবং Intuition and the Synthetic A Priori Judgments in Kant ’s Philosophy এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক এই কান্টটা কে? পুরো নাম ইমানুয়েল কান্ট। ১৮ শতকের বিরাট দার্শনিক (তাছাড়া পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের তার অবদান ছিল)। তার দর্শনে এবং তার আগের দর্শনে আকাশ-পাতাল তফাৎ। এই জার্মান দার্শনিকই আধুনিক দর্শনের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন। জন্ম নিয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও তাতে মানবাধিকারের সংজ্ঞা। (আগেই বলে রাখি তার এই তত্ত্বগুলো একটু জটিল, শুনতে অনেকটা প্যারাডক্সের মতো।) তার বিখ্যাত কিছু দর্শন ১. নীতিবিদ্যা: তিনি নীতির একটা অসাধারণ সংজ্ঞা দেন। সা...

ভবিষতের বাতাস

ছবি
১০ মিটার জায়গাও পেলাম না যেটুকু ২০২৬ সালে এসে স্বাস্থ্যকর দেখাচ্ছে। চট্টগ্রামের কিছু অংশ শুধু বায়ুর দূষণমাত্রা চলনসই। স্বাস্থ্যকর না, তবে শ্বাস নেয়ার উপযুক্ত। মানে এখনও পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেনি। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা কলকারখানা, এমনকি পরিষ্কারের নামে খোলা পরিবেশে বিশাল এলাকাজুড়ে আবর্জনা পোড়ানো, রাস্তাভরা ধুমপায়ীদের ধুমপান সবকিছুই একটু একটু বিষ ঢালছে আপনার-আমার শ্বাসে। আপনি বলবেন আমি আর কি এমন করি। আসলে আপনার-আমার অতি সামান্য কাজগুলোই হুমকি হয়ে উঠছে আপনার ও আপনার আপনজনদের। ইদানিং এই স্যাঁতসেঁতে সমাজে শেওলার মতোই জন্ম নিচ্ছে ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল তবু বেড খালি নেই। রোগী নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল। রোগী পচছে করিডোরে। ঠিক আবর্জনাগুলোর মতোই। রোগ নিরাময়ের কোনো লক্ষণই নেই? কেন নেই? জবাব আপনি-আমিই। যেই খাবার খাচ্ছি তাতে বিষ, যেই বাতাস নিচ্ছি তাতে বিষ, যে পানি খাচ্ছি তাতেও পাইপ আর টাংকির মাইক্রোপ্লাস্টিক এমনকি যে ঔষধ খাচ্ছি তাতেও বিষ। এবার বলুন, কোন দুঃখে আপনি-আমি বা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ্য...

পারমাণবিক বোমার সমীকরণ

ছবি
  জানেন পুরো মানবজাতিতে ধ্বংস করতে সাধারণ আকারের কয়টা  পারমাণবিক বোমা মানে  নিউক্লিয়ার বোমা প্রয়োজন? পৃথিবীতে বর্তমানে নিউক্লিয়ার বোমা মজুদ আছে ১২,০০০ থেকে ১২,৩০০টির মতো। যার পরিমাণ বাস্তবে আরও অনেক বেশি। কারণ কোনো দেশই তাদের প্রকৃত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা পুরোপুরি প্রকাশ করে না। বর্তমানে যে কয়টা আছে তার পরিমাণও পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছে। যার মধ্যে শুধু অনলাইন করাই আছে ৯,৬০০টি। অর্থাৎ লোকেশন ক্লিক করে বাটন টেপা মাত্রই ছুটে যাবে গন্তব্যে আর শুরু হবে ধ্বংসলিলা এমন ওয়ারহেড আছে ৯,৬০০টি। ইলন মাস্কের এআই গ্রক বলছে, পুরো পৃথিবী ধ্বংস করতে এতগুলো বোমার কোনো প্রয়োজনই হবে না। মাত্র ৫-১০% বোমা অর্থাৎ ৫০০-১,০০০টি বোমাই দুনিয়া থেকে মানুষকে চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তাহলে কী উদ্দেশ্যে রাশিয়া ৫,৪৫৯টি, আমেরিকা ৫,১৭৭টি আর চীন ৬০০টি পারমাণবিক বোমা মজুদ রেখেছে। মানে গণিতের ভাষায় রাশিয়া আর আমেরিকা এককভাবে ৫ থেকে ১০বার পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। যদিও তা বাস্তবে সম্ভব নয়। কারণ ১ম বার মানুষ বিলুপ্ত হবার পরই পৃথিবীতে ২য় বার হামলা চালানোর কেউ থাকব...

এই যুদ্ধ কোনদিকে যাচ্ছে?

ছবি
 

পরমাণু আইন ভেঙে কি শুরু হতে যাচ্ছে পরমাণবিক যুদ্ধ?

ছবি
আমেরিকার নাভাডার এরিয়া ৫১ এর আশেপাশের অঞ্চল কেঁপে উঠছে রহস্যময় ভূ-কম্পনে। রহস্যময় ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে ইরানেও। তবে কি প্রথম ভয়ংকরতম পারমাণবিক যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব? ভূঃঅভ্যন্তরীণ পারমাণবিক পরীক্ষার ফলেই এমন কম্পন অনুভূত হচ্ছে বলে দাবী পর্যালোচকদের। এদিকে একই সময়ে আমেরিকায় চলছে সরকার পতনের আন্দোলন। তাদের দাবি আগে ট্রাম্পকে তার নিজের ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে হবে। মোড় ঘুরে যাচ্ছে যুদ্ধের। তাই হয়তো পরমাণু অস্ত্রই হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড। ইরান যে আমেরিকার এতদিনের দম্ভ এভাবে চুর্ণবিচুর্ণ করে দিবে তা জানতে বোধহয় ট্রাম্প এই মৌচাকে ঢিল ছোড়ার দুঃসাহস দেখাতো না। (কার্টুন দুটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কতদিন চলবে?

ছবি
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে যারা ইতিমধ্যে হাপিয়ে উঠেছেন তাদের বলতে চাই আপনাদের জন্য সমবেদনা। এ যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এর দুটো কারণ। ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের যে যুদ্ধবিরতির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিপক্ষকে শক্ত হবার সুযোগ দিয়েছে তা আর দিবে না। দ্বিতীয় কারণটা হলো, ইরান তার সন্তান আর অভিভাবক শূন্য হবার প্রতিশোধ নিবেই। তারা শিয়া, কিসাসে বিশ্বাসী। আমেরিকা পিছাতে পারবে কারণ পিছু হাটলে তার বিশ্বব্যাপি আগের মাতব্বরী চলবে না, আর ইরান পিছু হাটলে তা হবে জাতির সাথে বেঈমানি। এখনও আমেরিকাও তাদের পুরো শক্তি ব্যবহার করেনি, ইরানও করেনি। তাদের তুরুপের তাস এখনও তাদের হাতেই আছে। মানে তারা এখনও মূল খেলা শুরুই করেনি। আমেরিকা এখনও বোম্বার বা নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেনি। ইরানও তাদের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ব্যবহার না করে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। আগে মাঠ পরিষ্কার করছে। মূল খেলা এখনও বাকি। যুদ্ধে না গিয়েও সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। যারা আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। মানে আমাদের বাংলাদেশও বিপদে আছে। মিসাইলের বিপদ না থাকলেও অর্থনীতির বিপদ আছে। ডলার ভিত্তিক অর...

পরিশ্রম ও কর্মসংস্থান

  পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি একথা ভুলে যান। এটা ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সবচেয়ে বড় মুলা। বাংলাদেশে শ্রমের মূল্য সবচেয়ে কম। খালি বাংলাদেশ কেন সারা পৃথিবীর সম্পদের ১% সম্পদও এত বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতে নেই। ধরুন, আপনি একজন শ্রমিক। কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনি একটা পণ্য তৈরি করে পান ৫০ টাকা, আপনার কোম্পানি কাঁচামাল কিনছে ৩৫০ টাকার। এখন তারা যদি আপনার বেতনের চেয়ে ১২ গুণ বেশি অর্থাৎ ৬০০ টাকা লাভ করতে না পারে, তবে আপনার ছাঁটাই কেউ আটকাতে পারবে না। এটাই গার্মেন্টসগুলোর নিয়ম। ঐ জিনিসটা ১০০০ টাকা যদি বিক্রি করা হয় তবে ৩৫০ টাকা বিনিয়োগের কারণে তারা যেখানে আয় করবে ৬০০ টাকা আপনি আপনার পরিশ্রম দিয়ে আয় করবেন ৫০ টাকা। ১০০০ টাকায় কিনে কারা? আপনি আমিই কিনি। কারণ আমাদের হাতে খুব বেশি অপশন নেই। আপনার কোম্পানি থেকে না কিনেন অন্য কোম্পানি থেকেও এমন দামেই কিনতে হবে। এ নিয়ে মুখ খুললে ছাঁটাই হবেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রশাসনের গুলি খাবেন আর যারা লাভ করার তারা ঠিকই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে চিরকাল। ওনারা টাকা উড়াবে, আপনাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাবে। ওনারা আপনাকে কোনোদিন সাবলম্বী হতেই দেবে না, এমন...

একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি

  ৯ নভেম্বর ২০২৫, খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল পাশের বাড়ির কারো চিৎকারে। সকালে জানতে পারলাম বড় দাদার (দাদার বড়ভাই) বাড়ির যে মহিলা দেখাশোনা করতেন ‘তার মেয়ে শশুরবাড়িতে আত্মহত্যা করেছে’। বাচ্চা হবার কারণে একা খরচ উঠাতে পারছিল না বলেই শশুরবাড়িতে রাখতে বাধ্য হয়েছিল স্বামী। প্রাথমিকভাবে সবাই ধারণা করেছিল, শশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কাহিনীকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলো। মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়নি। শরীরে পাওয়া গেলো রডের আঘাতের চিহ্ন। মানে এটা খুন। তারপর ঘটনা আরেক দফা বদলে গেল। জানা গেল খুনের কারণ। শ্বাশুড়ির পরকিয়া দেখে ফেলেছিল অভাগা মেয়েটি। এটাকে কোনো থ্রিলার গল্প ভাবতে পারেন, তবে এটা বাস্তব ঘটনা। শুধু এটা না, এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে আমাদের চারপাশে। কেন হচ্ছে এই অধঃপতন? কে এই সমাজকে সঠিক পথে নিয়ে আসবে? আরেকটা মজার তথ্য, মেয়েটির মামলা লড়ে লাভ কি হবে, উল্টো মামলা লড়তে গিয়ে হয়তো উকিলকে সামলাতে ভিটেমাটিটাও বেচতে হবে দুই পক্ষের। তাই পঞ্চায়েত মিমাংসা করে দিয়েছে স্বামীর ভিটেমাটি তার বাচ্চার নামে লেখে দিতে হবে। ব্যস! বিচার শেষ। বাচ্চাটি হয়তো বড় হয়ে ...

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ম্যাগাজিন ‘অগ্রপথিক’

ছবি
  রমজানের ক্যালেন্ডার নামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। জানেনই তো বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইডে তথ্য খোঁজা আর সমুদ্রে গুপ্তধন খোঁজা একই ব্যাপার। খুঁজতে খুঁজতে একটা ম্যাগাজিনের হদিস পেলাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটা ম্যাগাজিন প্রকাশ করতো! ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশ করতো অথচ নামই শুনিনি! অবাক কাণ্ড! ম্যাগাজিনটা অজানা থেকে যাওয়ার কারণ কী তাই জানতে ঢুকলাম প্রথম সংখ্যায়। তারপর আরো কয়েকটা সংখ্যায় ঢুকলাম। দেখি বাহ! ইসলামের গুণগানের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর গুণগান বেশি। মনে পড়ে গেল সে যুগটা যে যুগে আমি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করে পুরস্কার জিতেছিলাম ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ আর ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক ফাঁসির রায়’। রাজনৈতিক বই পেয়ে এত বিরক্ত হলাম যে আর কখনো আবৃত্তিই করিনি। সব জায়গায় বঙ্গবন্ধু। সরকারি ল্যাম্পপোস্ট থেকে মানিব্যাগ সর্বত্র সে। যার কারণে ধীরে ধীরে এই মানুষটার প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসতে শুরু করে। লেবু বেশি চিপলে তেঁতো হয়ে যায়। কিন্তু ম্যাগাজিন জলে যায় যাক, কেউ না পড়ুক, সরকারি আমলাদের সরকারকে তো তেল মেখে যেতে হবে। তারা ইদানিং কিছুটা এতিম-প্রায় দশায় আছে। অবশ্য ইদানিং নতুন পা আর প...

আমরাই কী আধুনিক নাকি কুসংস্কারাচ্ছন্ন?

ছবি
রেপটিলিয়ানরা সমাজ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, বিজ্ঞানীরা দ্বারস্থ হতো লুসিফারের; ষাট গম্বুজ মসজিদ বানিয়েছে জ্বিনরা আর পিরামিড এলিয়েনদের তৈরি। আমরা মূলত এমন সব উদ্ভট গল্প জন্ম দিয়েছি আগের মানুষদের সৃষ্টিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। নিজেদের সবচেয়ে বেশি সভ্য প্রমাণ করতে। কিন্তু এসব গাঁজাখুরি গল্পগুলোই আমাদের সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানকে পশ্চাৎমুখী প্রমাণ করে। এসব নবযুগের কুসংস্কার। এগুলোকে মানুষ নিছক কুসংস্কার বলে না খুব সম্ভবত এজন্য যে এটা বিক্রি করা যায় এখনও। আমাদের মেনে নেয়া উচিত আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের থেকে উন্নত ছিল অনেক ক্ষেত্রেই। প্রত্নতত্ত্ব তো তাই বলে।

পরীক্ষা ঘিরে আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা

ছবি
আমার আত্মীয়-স্বজন চিন্তায় আছে ছেলেটার কি হলো, পড়াশোনা করছে না কেন! আবার বন্ধুদের দাবি, পরীক্ষায় কারচুপি করতে না শিখলে সাত কলেজে পাশ আসবে না। দুটো আপাত দৃষ্টিতে আলাদা ঘটনা। কিন্তু প্রশ্ন হলো কতটা! এটা আমার সামনে বসা শিক্ষার্থীর এক পরীক্ষার নকল। তিনটি খাতাই বলা যায়। পৃষ্ঠা যথাক্রমে ৩৬, ৩৪ এবং ৩০। মানে একটা গাইডের পাণ্ডুলিপিই এনেছে বলতে পারেন। ওর নকল কিন্তু একদিনও ধরতে পারেনি শিক্ষক। আর পরীক্ষায় কারচুপি করতে না শিখলে সাত কলেজে পাশ করতে পারবো না বলা ছেলেটা আমার পেছনে বসেছিল। ঐ বেটা অবশ্য তত প্রোফেশনাল ছিল না। একদিন নকল নিয়ে ধরা খেয়েছিল। শাস্তি শুধু নকলটা দেখে আর লেখতে না পারা এবং অন্য জায়গায় বসে পরীক্ষা দেয়া। তবে পরীক্ষক আরেকটা শাস্তি নিজের অজান্তেই দিয়েছিলেন। পরীক্ষককে দেখে তার ফোন আগের বেঞ্চেই লুকিয়ে ফেলেছিল সে। ফলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা আগে শেষ হলেও তার ফোনের জন্য বাহিরে বসে থাকতে হয়েছে ঘন্টাখানেক। মজার ব্যাপার, এই দুই নকলবাজের মধ্যে আমাকে চ্যাক করা হয়েছে দুইদিন। অথচ আমার সামনে-পেছনের দুই জনকে চ্যাক করা হলে যে কাগজ উদ্ধার হত তা কেজি দরে বিক্রি করতে পারতেন পরীক্ষক। কি আর করা, সব ...

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি

আমার দেশের জনগণ ঢুকে পড়লে গুলি আর আমার দেশের পলাতক অপরাধী ঢুকে পড়লে আশ্রয়- এই উদ্ভট বর্ডার নীতিটা আমি আজও বুঝিনি।

প্রসঙ্গ যখন গণভোট গণনা

ছবি
 আওয়ামীলীগ গুজব ছড়াতে একটা আন্দাজে সংখ্যা বসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আসল সংখ্যাটা দিয়ে হিসেব করলেই কারচুপির একটা সমীকরণ দেখাতে পারতো তারা। প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারতো নির্বাচনকে। কিভাবে? প্রথমআলোর তথ্যমতে, হ্যা ভোট: ৪,৮০,৭৪,৪২৯টি না ভোট:  ২,২৫,৬৫,৬২৭টি। মোট= ৭,০৬,৪০.০৫৬ টি বৈধ ভোট । আখতার আহমেদ ঘোষণা করলেন: ৬০.২৬% ভোট পরেছে। মানে বাংলাদেশে মোট ভোটার ১১,৭২,২৫,৪৫০ জন (প্রায়) কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিদিনের তথ্যমতে ১২,৭৬,৯৫,১৮৩ জন ভোটার সমগ্র বাংলাদেশে। তাহলে কি ১,০৪,৬৯,৭৩৩ জন ভোটার হ্যা-না দুটোতেই সিল মেরেছে? এমন চিন্তা মোটের যৌক্তিক না। ভোটারদের সাড়ে বারো ভাগের একভাগ ভুল করা অসম্ভবই না, অবাস্তব। মানে দাঁড়ায়, সংসদ নির্বাচন বাদ দিলাম, শুধু ‘হ্যা’ ভোটের হিসাবেই এক কোটি ভেটারের হিসাব গড়মিল হয়ে গেছে। তারা কতটুকু সুষ্ঠ হিসেব নির্বাচনে করেছে? ভোটের হিসাবই বা কতটা নিঁখুত করেছে? গ্যাজেটে আবার সংখ্যা কিছু এদিক-সেদিক হয়েছে দেখছি।

আমি এবং নির্বাচন

এ  আর কি নির্বাচন! নির্বাচন হতো আমাদের স্কুল-কলেজে। কি পরিমাণ রাজনীতি যে সেখানে ছিল চিন্তা করতে পারবেন না। আমি জীবনে কখনো নির্বাচনে জয়ী হইনি। স্কুল জীবনে নিজে থেকে দাঁড়াইও নাই। তো একবার ক্লাস সেভেন কি এইটে বন্ধুরা আমাকে জোর জবরদস্তি করে দাঁড় করিয়ে দিলো। মজার ব্যাপার হলো, আমার সেই একমাত্র নির্বাচনে আমি এক ভোটও পাইনি। নিজেরটাও না। কারণ আমার নিজের পক্ষে নিজেকে সাপোর্ট করাটা বিবেকে বাঁধছিল। যেহেতু একটাও ভোট পাইনি তাই আমি জেনে গিয়েছিলাম সবগুলোই পল্টিবাজি করেছে। পরে অজুহাত দিলো, “তোর পরে যে দাঁড়িয়েছে, ও না দাঁড়ালে সবাই ভোট তোকেই দিতো বিশ্বাস কর।” সেদিন প্রতারিত হয়ে আমার লুবাবার চেয়ে বেশি কান্না পেয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। তবে এটাই আমার প্রথম নির্বাচন না। আমি সবসময়ই যেহেতু শিক্ষকদের মোস্ট ফেভারিট ছিলাম। তাই ক্লাস থ্রি কি ফোরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্যাপ্টেন বানিয়ে দিয়েছিল। দায়িত্ব সামান্যই কারা বিশৃঙ্খলা করছে তার নোট রাখা। আমার অবশ্য ঐদিন বাড়িতে ছুটি নিয়ে আগে চলে আসার কথা ছিল। এক ছেলেকে নাম লেখার দায়িত্ব দিয়ে চলে এলাম। ঐ দিনই ওদের মারামারি হবার ছিলো! আর ঐ ছেলেটাও আমার বি...

বাহিনীর হাতে আইন গেলে

আইন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর কোনো দলের হাতে গেলে কখনোই তা ফলপ্রসূ হতে দেখিনি। সৃষ্টি হয়েছে শুধুই সে বাহিনীর ত্রাস। জন্ম নিয়েছে ব্রাশফায়ার-ক্রসফায়ার ধরনের কিছু ভীতিকর নাটকীয় শব্দ। সৃষ্টি হতে দেখেছি, জনমনে ভয়। এই বুঝি মিথ্যে মামলা দিয়ে পুলিশ/আর্মি নির্বিচারে মেরে ফেলে... বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কোনো বাহিনীর হাতে বিচারের ক্ষমতা তুলে দেয়া না। যেমনটা সবশেষ আওয়ামীলীগের আমলেই দেখেছি। ফল কেমন হয়েছিলো সবাই তো জানেনই।

এত ফরমালিন তবু পচে

কেউ দুঃখ পেলে পান। আমার দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু সত্যি হলো, বাংলাদেশ হলো সারা দুনিয়ার ডাস্টবিন। আমাদের সরকাররা সারা দুনিয়ার যত বাতিল মাল আছে সব কিনে আনে। তা ফোন-ল্যাপটপ থেকে ট্রেন-প্লেন পর্যন্ত যেকোনো কিছুই বিবেচনা করতে পারেন। আর তা শিক্ষিত নাগরিক মাত্রই চোখে দেখবে। তাই তারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাই ধ্বংস করে দিয়েছে। কেউ যদি স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠে তাকে শায়েস্তা করার জন্য পোষা হচ্ছে রাজনৈতিক ছাত্রদের। এই দূর মুল্লুকে দূর থেকে ভালো কিছু আমদানি করলেও তা এতদূর আসতে আসতে পচে যায়। তা গণতন্ত্রই করুন আর ধর্মতত্ত্বই করুন। পচবেই। এখানে সবই পচে। পচে ফরমালিনও।

বর্তমান প্রজন্ম বখে যাচ্ছে কেন?

  অনেকেই হা হুতাশ করে, বর্তমান প্রজন্ম বখে যাচ্ছে। পর্ণোগ্রাফি, নুডিটি, এলজিবিটি, রুমডেট, ব্রেকআপ জিনিসগুলো ছড়িয়ে পড়ছে মহামারির মত। কেন এমন হচ্ছে তারা উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না। আমার মনে হয় না এটা বোঝা তত বেশি কঠিন কিছু। টম এন্ড জেরিতে কোনো কোনো পর্বে টমের নায়িকা থাকতো আর ডোরেমনে নবিতা সিজুকাকে পছন্দ করতো। এজন্য অভিভাবকদের ধারণা ছিল আমরা ইঁচড়ে পাকা হয়ে যাচ্ছি। আমাদের কার্টুন দেখা থেকে দূরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতো। এদিকে এ প্রজন্মতো অশালীন রিল দেখে বড় হচ্ছে! ভরসা পাই না, এ আকাশ সংস্কৃতির। আবার ইন্টারনেট বয়কট করাও সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। আমাদের নিজস্ব ইন্টারফেস তৈরিই হতে পারে যুগের সঠিক সিদ্ধান্ত। প্লেবয় আমেরিকানদের টার্মস এন্ড কন্ডিশনে না, বাংলাদেশের নিয়ম-কানুনে চলুক আমার দেশের সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের সিনেমা সেই পুরোনো ধনীগরিব খিচুড়ি বা কপি পেস্ট খিচুড়ি থেকে রক্ষা পাক। মানসম্মত কন্টেন্ট পেলে অবশ্যই বাঙালি সমকামিতাময় নেটফ্লিক্সে সময় নষ্ট করবে না। বাঙালির শতকরা নব্বই ভাগের বেশি মানুষ এখনও সমকামীতাকে ঘৃণা করে। তারা দেখছে কারণ তাদের কাছে কন্টেন্ট নেই। এই কন্টেন্টের অভা...

Epstein Files: আধুনিককালের সবচেয়ে ভয়ংকরতম দলিল

ছবি
জেফরি এপ্সটাইনের বিচার চলাকালীন যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং বিচারের নথিপত্র একত্রে  এপ্সটাইন ফাইল্স নামে পরিচিত। জেফরি এপ্সটাইন প্রয়োজনে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য সবার ছবি ও তথ্য সংগ্রহে রাখতো। পরবর্তীতে তাই হবে উঠে সত্যের সবচেয়ে বড় দলিল। কিন্তু জেলে এপ্সটাইন রহস্যজনক মৃত্যুর কারণে আর আদালতে দাখিল করা হয়নি মানব পাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুকাম, এমনটি মানুষ খেয়ে নেয়ার মতো বিভৎস সব অপরাধ হয়েছে বলে দাবি তোলা এই ফাইলগুলো। সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার পর শেষ পর্যন্ত DOJ প্রকাশ করতে সমর্থ হয় এই ফাইলের একাংশ। তাতেই তোলপাড় হয়ে গেছে বিশ্ব। এতে উঠে এসেছে ক্ষমতাধরদের ভয়ংকরতম শখ। রাজনৈতিক, বিলিয়নিয়ার, ফিল্মস্টার, রকস্টার, খেলোয়াড়, বিজ্ঞানী কে নেই সেই তালিকায়! প্রকাশিত অংশে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামই এসেছে সাড়ে ৪ হাজারবারেরও বেশি । এ থেকে পরিষ্কার হয় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই ফাইল প্রকাশের কথা বললেও, জয়ের পর কেন ফাইলগুলো প্রকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো। এতদিনের স্বীকৃত ভালো মানুষগুলোর মুখোশ উন্মোচন হতেই বিশ্ব চমকে উঠেছে। মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা বিল গেটস, নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির...

বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের সমকালীন আলাপ

  শোনেন ভাই, গণতন্ত্র-গণতন্ত্র বলে জিকির করে লাভ নাই। বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। কোনোকালেই ছিল না। বাংলাদেশে আছে গণরাজতন্ত্র। আমরা জনগণ শুধু ঠিক করে দেই কোন রাজপরিবার আমাদের শাসন-শোষণ করবে। এই যে একজন অসুস্থ তার প্রতি মায়াকান্না এটাও দীর্ঘদিনের রাজপরিবারের শাসনের ফল। অসুস্থতার সময় নিজের মায়ের জন্য একদিন এভাবে দোয়া করান, দেখবেন আপনার মা কত খুশি হয়। তা আপনার নেত্রীর সন্তুষ্টির থেকে কতটা বড় তা করার পরই বুঝতে পারবেন। আপনার নেত্রী নামক রাজমাতা আপনার নামটাও জানতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। এই যে আরেকজন মায়ের হয়ে অনবরত ভুলভাল স্টেটমেন্ট দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেউ আটকাচ্ছে না এটাও রাজপরিবারের শাসনের লক্ষণ। লাঙ্গলের হাল কে ধরবে এনিয়ে হালের টং দোকানের ঝড়ো আলোচনার কারণও ঐ। একজনকে মুকুট তুলে দেয়ার চেষ্টা অথচ তার জুজুর ভয় কাটে নাই, এমন অযোগ্যের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের চিন্তা এটাও দীর্ঘদিনের রাজপরিবারের শাসনের সার্থকতা। আমেরিকায় এমন তন্ত্র থাকলে আজও জর্জ ওয়াশিংটন আর আব্রাহাম লিংকনের নাতিপুতিরা শাসন করতো, ওবামা আর ট্রাম্পদের এমন সৌভাগ্য হতো না। (১ ‍ডিসেম্বর ২০২৫)

গলাবাজ নেতা না, উদ্যমী নেতা চাই

যারা মাইক হাতে পেলে কি বলতে হবে আর কি বলতে পারবে এটুকু কমন সেন্স থাকে না তারা নেতা হয় কিভাবে? তোমাদের এই রাজনৈতিক আদর্শে আমি হিসু করি।