পোস্টগুলি

বিজ্ঞান লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

প্রজেক্ট: দশক রোধবক্স (Decade Resistance Box)

ছবি
আমি আগে বাইনারি রোধবক্সের সার্কিট দিয়েছিলাম। সবচেয়ে কম রোধ ব্যবহার করে ঐ সার্কিট বানানো সম্ভব হলেও তা বানাতে আমাদের একটু সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কারণ রোধগুলো একটা একটা বিক্রি করছিল না দোকানিরা। ৫টা, ১০টা, ৫০টা বা ১০০টার সেট হিসেবে সাধারণত বিক্রি করে তারা। তাই ডেসিমাল রোধবক্স আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। কারণ পাওয়া সহজ। ১০টা করে ১ ওহম, ১০ ওহম, ১০০ ওহম, ১০০০ ওহম রোধ আর ৪টা ১২ পিনের রোটারি সুইচ কিনে নিন। এবার তার আর তাঁতাল নিয়ে কাজে লেগে যান। (সার্কিটের সবুজ তারটা রোটারি সুইচের কমনে যুক্ত হবে, ফলে তা স্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন মান তৈরি করতে পারবে।) উপকরণ: ১০টি ১ ওহম রোধ-১০ ওয়াট কমপক্ষে (সিরামিক): ১৫০-২০০ টাকা ১০টি ১০ ওহম রোধ-১ ওয়াট কমপক্ষে (মেটাল): ২০-৩০ টাকা (৯টি ব্যবহার করবো) ১০টি ১০০ ওহম রোধ-১/৪ ওয়াট কমপক্ষে (মেটাল): ১০ টাকা  (৯টি ব্যবহার করবো) ১০টি ১০০০ ওহম রোধ-১/৪ ওয়াট কমপক্ষে (মেটাল): ১০ টাকা (৯টি ব্যবহার করবো তবে ১-১০০০ ওহমের রোধবক্স বানাতে চাইলে একটাও লাগবে না।) ৪টি {১-১০০০০ ওহম}/৩টি {১-১০০০ ওহম} ১২ পিনের রোটারি সুইচ: ৩২০-৪৮০ টাকা (ভালো মানের, সিরামিক/তাইওয়া...

প্রজেক্ট: বাইনারি রোধবক্স

ছবি
সরল সার্কিট চিত্র: এটাই একটি রোধবক্সের সার্কিট রোধবক্সের বিবরণ: ১.৫ ভোল্ট বা তার নিচের বিভবে সরাসরি যুক্ত করলেও নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে। মানে দুই পাশে একটা পেন্সিল ব্যাটারি ধরে রাখলেও নষ্ট হবে না। ১. সুইচ ১১টা- সর্বনিম্ন রোধের রকার সুইচ (২০০-৩৫০ টাকা) দারাজে আরও কম দেখাচ্ছে। ২. বাইন্ডিং পোস্ট ২টি (৩০-৬০ টাকার ভেতরে):  দারাজে বেশি দেখাচ্ছে। মেকার্স বিডির দামও বেশি। এমনিতে আমার কাছে আছে। ঠিক আছে নাকি চ্যাক করা দরকার। ৩. রোধ ১০টা-১% বা তার কম   টলারেন্স   (পটুয়াটুলি/সাইন্স ল্যাব ১০০ টাকার মধ্যে): ৫ Watt- 1Ω   (১% টলারেন্স  সিরামিক  পাওয়া যায়) , 2Ω (১% টলারেন্স Metal Film পাওয়া যায়), ২ Watt- 4Ω  (১% টলারেন্স Metal Film পাওয়া যায়), ১ Watt- 8Ω   (১% টলারেন্স Metal Film পাওয়া যায়) , 16Ω   (১% টলারেন্স Metal Film পাওয়া যায়), ০.৫ Watt- 32Ω (৩০+২), 64Ω (৬২+২), 128Ω (১২০+৮), 256Ω (২৪০+১৬), 512Ω (৫০০+১২) অর্থাৎ সরাসরি  না পাওয়া গেলে,  ১Ω-১ [ সিরামিক,  ৫ ওয়াট] ২ Ω-৩  [ সিরামিক,  ৫ ওয়াট] ৪Ω-১ [ Metal Film, ২ ওয়াট]  ৮Ω-২...

আমাদের স্কুল-কলেজের ল্যাবের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকে কেন?

ছবি
ল্যাবে ঢুকলেই দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ যন্ত্র নিখুঁত মান দেয় না তো ঐ যন্ত্র একেবারেই নষ্ট। কখনো ভেবে দেখেছেন এমন হয় কেন? কারণ আর কিছুই না। আমাদের শিক্ষার্থী বা প্রশিক্ষক কেউই খেয়াল রাখে না, একটা যন্ত্রের সহ্য ক্ষমতা কতটা। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটা যন্ত্রাংশের একটা সহনীয় ক্ষমতা থাকে। রোধবক্স রোধবক্সের কথাই ধরুন। আমাদের ল্যাবে ১Ω-১০০০Ω পর্যন্ত মানের যে রোধবক্সগুলো থাকে সেগুলো সাধারণত ৫ ওয়াটের হয়ে থাকে। একটা রোধবক্সের প্রত্যেকটা রোধ বা এর অভ্যন্তরীণ রোধ সমান ভোল্টেজ সহ্য করতে পারে না। যত কম রোধ তা সাধারণত তত কম ভোল্টেজ সহ্য করতে পারে। আপনি সরাসরি ১২ ভোল্টের ব্যাটারির দুই প্রান্তে লাগিয়ে দিয়েও ৩০Ω এর চেয়ে বড় যেকোনো মানের রোধ পরিক্ষা করতে পারবেন সহজেই। কিন্তু সরাসরি ব্যাটারির দুই প্রান্ত কানেক্ট করে যখন আপনি ২৮.৮Ω এর চেয়ে কম মানের রোধ তুলবেন তখনই তা গরম হতে শুরু করবে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাবে। পরে শর্ট সার্কিট হবে, মানে রোধবক্সের ঐ রোধটা আর কাজ করবে না। এখন তাহলে প্রশ্ন হলো, যদি কাজ করা না যায় তাহলে এই রোধগুলো কেন দেয়া হয়? উত্তর হলো, কম ভোল্টে ব্যবহার করার জন্য। বিশেষ করে রোধবক্...

পারমাণবিক বোমার সমীকরণ

ছবি
  জানেন পুরো মানবজাতিতে ধ্বংস করতে সাধারণ আকারের কয়টা  পারমাণবিক বোমা মানে  নিউক্লিয়ার বোমা প্রয়োজন? পৃথিবীতে বর্তমানে নিউক্লিয়ার বোমা মজুদ আছে ১২,০০০ থেকে ১২,৩০০টির মতো। যার পরিমাণ বাস্তবে আরও অনেক বেশি। কারণ কোনো দেশই তাদের প্রকৃত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা পুরোপুরি প্রকাশ করে না। বর্তমানে যে কয়টা আছে তার পরিমাণও পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছে। যার মধ্যে শুধু অনলাইন করাই আছে ৯,৬০০টি। অর্থাৎ লোকেশন ক্লিক করে বাটন টেপা মাত্রই ছুটে যাবে গন্তব্যে আর শুরু হবে ধ্বংসলিলা এমন ওয়ারহেড আছে ৯,৬০০টি। ইলন মাস্কের এআই গ্রক বলছে, পুরো পৃথিবী ধ্বংস করতে এতগুলো বোমার কোনো প্রয়োজনই হবে না। মাত্র ৫-১০% বোমা অর্থাৎ ৫০০-১,০০০টি বোমাই দুনিয়া থেকে মানুষকে চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তাহলে কী উদ্দেশ্যে রাশিয়া ৫,৪৫৯টি, আমেরিকা ৫,১৭৭টি আর চীন ৬০০টি পারমাণবিক বোমা মজুদ রেখেছে। মানে গণিতের ভাষায় রাশিয়া আর আমেরিকা এককভাবে ৫ থেকে ১০বার পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। যদিও তা বাস্তবে সম্ভব নয়। কারণ ১ম বার মানুষ বিলুপ্ত হবার পরই পৃথিবীতে ২য় বার হামলা চালানোর কেউ থাকব...

বিজ্ঞানের এক অবহেলিত বিস্ময়!

ছবি
আমার মনে হয় বিজ্ঞানের সবচেয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কারটা ছিল ১৮১৬ সালে রবার্ট স্টার্লিংয়ের পেটেন্ট করা স্টার্লিং ইঞ্জিন (Stirling Engine)। অন্য সব যন্ত্র যেখানে তাপ উৎপাদন করে চলেছে, সেখানে এই ইঞ্জিন পারিপার্শ্বিক তাপকে শোষন করেই চাকা ঘুরায়। স্কটল্যান্ডের ধর্মযাজক ও প্রকৌশলী  রবার্ট স্টার্লিং এই যন্ত্র নকশা করার পেছনের কারণটাও ছিলো সেরা। তখনকার প্রচলিত বাষ্পীয় ইঞ্জিন প্রায়ই বিষ্ফোরণ হতো। এতে মারা পরতো মানুষ। ক্ষয়-ক্ষতিও হতো প্রচুর। এর প্রতিকার হিসেবে তিনি খুঁজতে থাকেন বিষ্ফোরণের ভয় নেই এমন কোনো ইঞ্জিন। শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হন সে ইঞ্জিন বানাতে। হ্যা, তার এই ইঞ্জিনই সেই ইঞ্জিন যা কখনো বিষ্ফোরিত হবার ভয় নেই। ফলে টিকে থাকে অনেকদিন। তার এই ইঞ্জিন যেন তাপগতিবিদ্যার মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যুর বিরুদ্ধে লাইফ সাপোর্ট। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এই প্রজেক্টটা আজীবন হয়তো বাচ্চাদের প্রজেক্ট হয়েই থেকে যাবে। আমার ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এই প্রজেক্টটা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে।
FS Quote