পোস্টগুলি

সাহিত্য বিশ্লেষণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’ ‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশন কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

এআই আর আমার মেঘদূত বিষয়ক আলোচনা

ছবি
  (রবীন্দ্রভক্তদের কাছে শুরুতেই ক্ষমা চাচ্ছি। তাকে ছোট করা এখানে উদ্দেশ্য না। তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য বাদে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবদান রেখেছিলেন যা বাংলা সাহিত্যে বিরল।) আমি:  মেঘদূতের মত মন্দাক্রান্ত ছন্দ কি আধুনিক কোনো বাংলা কবি ব্যবহার করেছে? এআই: আধুনিক বাংলা কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বুদ্ধদেব বসু মন্দাক্রান্তা ছন্দের সবচেয়ে সার্থক এবং নিপুণ ব্যবহার করেছেন। তবে মনে রাখা ভালো, সংস্কৃতের 'অক্ষরবৃত্ত' (মাত্রার ওজন অনুযায়ী) আর বাংলার 'অক্ষরবৃত্ত' (অক্ষর গণনা অনুযায়ী) কিছুটা আলাদা। বাঙালি কবিরা মন্দাক্রান্তার সেই ৪+৬+৭ এর রাজকীয় ঢঙটিকে বাংলায় অভিযোজিত করেছেন। এখানে প্রধান কয়েকজনের উদাহরণ দেওয়া হলো: ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সবচেয়ে সফল প্রয়োগকারী) রবীন্দ্রনাথ কালিদাসের 'মেঘদূত' এবং মন্দাক্রান্তা ছন্দের প্রেমে পাগল ছিলেন। তিনি সরাসরি মন্দাক্রান্তার ১৭ অক্ষরের কাঠামো ব্যবহার করে বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন। তাঁর 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'মেঘদূত' কবিতাটি এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ: "কোথা হতে আচম্বিতে / এল আজি এ শ্রাবণ-দিবসে / সহসা মেঘের ঘনঘটা। / গ...

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

ছবি
মনে হয় না কি অতি সাধারণ একটা গল্প? চাইলে তো আমিও লেখতে পারি এমন। কিন্তু এই অতি সাধারণ রূপকথার গল্প কিভাবে ছড়িয়ে পরলো সারা দুনিয়ায় কখনো ভেবেছেন? হ্যামিলন (Hameln/Hamelin) শহরটা কিন্তু বাস্তবেই ছিল, ছিল সেখানে ইঁদুরের প্রকোপও। তারচেয়ে জোরালোভাবে যা তখন ছিল তা হলো ইঁদুর বাহিত প্লেগ। সময়টা কারো মতে ১২৮৪ আবার কারো মতে ১৩৪৬-১৩৫৩। হঠাৎ করে প্লেগ ছড়িয়ে পড়লো চতুর্দিকে। মহামারির প্রাথমিক শিকার হলো ছোট ছোট বাচ্চারা। মা-বাবারা সন্তান হারিয়ে শোকার্ত তবে মেয়র উদাসীন। ভাবখানা এমন যে রোগ হয়েছে, সেরেও যাবে। এটা নিয়ে এত হৈচৈ করার কি আছে? ঐসময়ের আইন ছিল প্রচণ্ড কড়া, লেখকেরও তো প্রাণের মায়া আছে। কিন্তু তিনি মৌন থাকতে পারলেন না শাসকের উদাসীনতায়। জন্ম দিলেন প্রতিবাদী এক বাঁশিওয়ালার। যে বাঁশিওয়ালা সরাসরি বলে দিলো মেয়রের শপথ ভুলে যাওয়াই দায়ী এ শিশুগুলো হারিয়ে যাওয়ার পেছনে। প্লেগ রূপী বাঁশিওয়ালা তারই উদাসীনতায় কেড়ে নিলো এতগুলো শিশুর জীবন। নিয়ে উধাও হয়ে গেল চিরতরে। জনগণের চাপা ক্ষোভ মহামারির চেয়েও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিলো এই গল্প। যা আজও সময়ের বেড়াজাল ছিঁড়ে, মহামারির যন্ত্রণা ভুলে টিক...

আমার চোখে হিমু ও হুমায়ূন

ছবি
হুমায়ূনকে নিয়ে যেমন সমালোচনা বেশি তেমনই তার হিমুকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বেশি। এর জন্য দায়ী হুমায়ূন আহমেদ নিজেই। তিনি মৃত্যুর বর্ণনাও এমনভাবে লেখতেন যে পাঠকের মনে হবে— আহা কি দারুণ মৃত্যু! এমন মৃত্যুই তো চাই। হিমুকে সবজায়গাতেই মহাপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছে লেখক। কিন্তু সে কি আসলেই মহাপুরুষ? নাকি একজন সব হারানো ব্যক্তি? যে নিঃস্ব মানুষদের গণ্ডিতে ঘুরপাক খায়, কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে ভয় পায়। সে নিজের জন্য একটা কাল্পনিক জগত তৈরি করে নিয়েছে। যেখানে সে মহাপুরুষ, সে মুখ দিয়ে যা বলে তাই সত্যি হয়ে যায়। পাঠকরা ফ্যান্টাসিতে ভোগে সেও হিমুর মত যা ইচ্ছে করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো হিমু নিজে যা চায় তা কখনোই করতে পারে না। যেমন সে কোনোদিন তার মায়ের ছবিটা পর্যন্ত দেখতে পারবে না। কারণ তার বাবার শর্ত অনুযায়ী তা একবার দেখেই তাকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এমনকি তার বাবার এমন উদ্ভট শর্ত ভাঙার সাধ্যও নেই তার। কেন তার সাধারণ জীবনযাপনে এত অনিহা? জানা যায়, তার প্রাথমিক জীবন কেটেছে সর্বাবস্থায় অন্যদের ক্ষতি করতে চাওয়া মামাদের আর একজন ভয়ংকর উন্মাদ বাবার সাথে। তাই তার বদ্ধ ধারণা, যে কিছু করে না সেই সবচ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ‘আমাদের ছোট নদী’

ছবি
  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত এক কবিতা ‘আমাদের ছোট নদী’। এটা শুধুই কি ছেলে ভুলানো ছড়া নাকি নিজের ও নিজের সমাজের প্রতিই কবির উপহাস? কবিতাটি বিশ্লেষণ করা যাক। তবে আগেই বলে দেই এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।” সাধারণভাবে যদিও এর অর্থ দাঁড়ায়, আমাদের ছোট নদীটা আঁকাবাঁকা হয়ে চলে গেছে। বৈশাখ মাসে তার পানি কমে হাটু সমান হয়ে যায়। গরু ও গরুর গাড়ি পার হচ্ছে নিয়মিত, যদিও তার দুই ধার উঁচু এবং পাড় ঢালু। যাদের ফেঁসে যাওয়া গাড়ি ঠেলার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানে, মানুষ সচরাচর ঐ পথে যায় না যে পথে ফেঁসে যাবার ভয় আছে। এতো মোটর গাড়ির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য আর সেটাতো গরুর গাড়ি। দুই জোড়া চরণের মূল বিষয় দুটি হলো, ‘ছোট নদী’ ও ‘গরু’। গরু যেন আলাদাভাবে বোঝা যায় এজন্যই গরুর গাড়ি ‍ তিনি একসাথে লেখেনি। পুরোনো ইংরেজি রীতি অনুযায়ী এ দুটোর ইংরেজি করতে পারেন- ‘Ford’ ও ‘Ox’। হ্যা, অক্সফোর্ড নাম এ দুটো শব্দ থেকেই উৎপত্তি। অক্সফোর্ডের উদ্যত ষাঁড়েরাই দখলদার ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দিতো, দখল করতো দেশের পর দে...