পোস্টগুলি

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’ ‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশন কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

পরমাণু আইন ভেঙে কি শুরু হতে যাচ্ছে পরমাণবিক যুদ্ধ?

ছবি
আমেরিকার নাভাডার এরিয়া ৫১ এর আশেপাশের অঞ্চল কেঁপে উঠছে রহস্যময় ভূ-কম্পনে। রহস্যময় ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে ইরানেও। তবে কি প্রথম ভয়ংকরতম পারমাণবিক যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব? ভূঃঅভ্যন্তরীণ পারমাণবিক পরীক্ষার ফলেই এমন কম্পন অনুভূত হচ্ছে বলে দাবী পর্যালোচকদের। এদিকে একই সময়ে আমেরিকায় চলছে সরকার পতনের আন্দোলন। তাদের দাবি আগে ট্রাম্পকে তার নিজের ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে হবে। মোড় ঘুরে যাচ্ছে যুদ্ধের। তাই হয়তো পরমাণু অস্ত্রই হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড। ইরান যে আমেরিকার এতদিনের দম্ভ এভাবে চুর্ণবিচুর্ণ করে দিবে তা জানতে বোধহয় ট্রাম্প এই মৌচাকে ঢিল ছোড়ার দুঃসাহস দেখাতো না। (কার্টুন দুটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কতদিন চলবে?

ছবি
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে যারা ইতিমধ্যে হাপিয়ে উঠেছেন তাদের বলতে চাই আপনাদের জন্য সমবেদনা। এ যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এর দুটো কারণ। ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের যে যুদ্ধবিরতির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিপক্ষকে শক্ত হবার সুযোগ দিয়েছে তা আর দিবে না। দ্বিতীয় কারণটা হলো, ইরান তার সন্তান আর অভিভাবক শূন্য হবার প্রতিশোধ নিবেই। তারা শিয়া, কিসাসে বিশ্বাসী। আমেরিকা পিছাতে পারবে কারণ পিছু হাটলে তার বিশ্বব্যাপি আগের মাতব্বরী চলবে না, আর ইরান পিছু হাটলে তা হবে জাতির সাথে বেঈমানি। এখনও আমেরিকাও তাদের পুরো শক্তি ব্যবহার করেনি, ইরানও করেনি। তাদের তুরুপের তাস এখনও তাদের হাতেই আছে। মানে তারা এখনও মূল খেলা শুরুই করেনি। আমেরিকা এখনও বোম্বার বা নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেনি। ইরানও তাদের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ব্যবহার না করে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। আগে মাঠ পরিষ্কার করছে। মূল খেলা এখনও বাকি। যুদ্ধে না গিয়েও সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। যারা আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। মানে আমাদের বাংলাদেশও বিপদে আছে। মিসাইলের বিপদ না থাকলেও অর্থনীতির বিপদ আছে। ডলার ভিত্তিক অর...

এআই আর আমার মেঘদূত বিষয়ক আলোচনা

ছবি
  (রবীন্দ্রভক্তদের কাছে শুরুতেই ক্ষমা চাচ্ছি। তাকে ছোট করা এখানে উদ্দেশ্য না। তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য বাদে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবদান রেখেছিলেন যা বাংলা সাহিত্যে বিরল।) আমি:  মেঘদূতের মত মন্দাক্রান্ত ছন্দ কি আধুনিক কোনো বাংলা কবি ব্যবহার করেছে? এআই: আধুনিক বাংলা কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বুদ্ধদেব বসু মন্দাক্রান্তা ছন্দের সবচেয়ে সার্থক এবং নিপুণ ব্যবহার করেছেন। তবে মনে রাখা ভালো, সংস্কৃতের 'অক্ষরবৃত্ত' (মাত্রার ওজন অনুযায়ী) আর বাংলার 'অক্ষরবৃত্ত' (অক্ষর গণনা অনুযায়ী) কিছুটা আলাদা। বাঙালি কবিরা মন্দাক্রান্তার সেই ৪+৬+৭ এর রাজকীয় ঢঙটিকে বাংলায় অভিযোজিত করেছেন। এখানে প্রধান কয়েকজনের উদাহরণ দেওয়া হলো: ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সবচেয়ে সফল প্রয়োগকারী) রবীন্দ্রনাথ কালিদাসের 'মেঘদূত' এবং মন্দাক্রান্তা ছন্দের প্রেমে পাগল ছিলেন। তিনি সরাসরি মন্দাক্রান্তার ১৭ অক্ষরের কাঠামো ব্যবহার করে বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন। তাঁর 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'মেঘদূত' কবিতাটি এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ: "কোথা হতে আচম্বিতে / এল আজি এ শ্রাবণ-দিবসে / সহসা মেঘের ঘনঘটা। / গ...

পরিশ্রম ও কর্মসংস্থান

  পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি একথা ভুলে যান। এটা ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সবচেয়ে বড় মুলা। বাংলাদেশে শ্রমের মূল্য সবচেয়ে কম। খালি বাংলাদেশ কেন সারা পৃথিবীর সম্পদের ১% সম্পদও এত বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতে নেই। ধরুন, আপনি একজন শ্রমিক। কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনি একটা পণ্য তৈরি করে পান ৫০ টাকা, আপনার কোম্পানি কাঁচামাল কিনছে ৩৫০ টাকার। এখন তারা যদি আপনার বেতনের চেয়ে ১২ গুণ বেশি অর্থাৎ ৬০০ টাকা লাভ করতে না পারে, তবে আপনার ছাঁটাই কেউ আটকাতে পারবে না। এটাই গার্মেন্টসগুলোর নিয়ম। ঐ জিনিসটা ১০০০ টাকা যদি বিক্রি করা হয় তবে ৩৫০ টাকা বিনিয়োগের কারণে তারা যেখানে আয় করবে ৬০০ টাকা আপনি আপনার পরিশ্রম দিয়ে আয় করবেন ৫০ টাকা। ১০০০ টাকায় কিনে কারা? আপনি আমিই কিনি। কারণ আমাদের হাতে খুব বেশি অপশন নেই। আপনার কোম্পানি থেকে না কিনেন অন্য কোম্পানি থেকেও এমন দামেই কিনতে হবে। এ নিয়ে মুখ খুললে ছাঁটাই হবেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রশাসনের গুলি খাবেন আর যারা লাভ করার তারা ঠিকই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে চিরকাল। ওনারা টাকা উড়াবে, আপনাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাবে। ওনারা আপনাকে কোনোদিন সাবলম্বী হতেই দেবে না, এমন...

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন

  আজও মনে আছে, সপ্তম কি অষ্টম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের সেই বিখ্যাত লাইন— “ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ভারতবর্ষ অধিকার করেন।” সমাজের শিক্ষক ক্লাসে প্রশ্ন করেছিলেন, “কে রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেন?” জবাব দিয়েছিলাম, “ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন।” “ধুর বেটা! সেন পাস কই?” বলে পিঠে ফেলেছিল একটা সেই লেভেলের ঢিসুম। এখনও মনে আছে। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লেখক যতি চিহ্ন ব্যবহার করেনি, তার ফল ভোগ করতে হয়েছিল, এই নির্দোষ বালকটিকে। হে লেখক সম্প্রদায়, আপনাদেরকে একটাই অনুরোধ; এরপর থেকে লেখার মধ্যে ঠিকঠাকভাবে যতি চিহ্ন ব্যবহার করবেন। আপনাদের সৃষ্ট একটা অতি সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, আরেকজনের কান্নার কারণ হতে পারে।