ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কতদিন চলবে?


ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে যারা ইতিমধ্যে হাপিয়ে উঠেছেন তাদের বলতে চাই- আপনাদের জন্য সমবেদনা। এ যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।
এর দুটো কারণ। ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের যে যুদ্ধবিরতির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিপক্ষকে শক্ত হবার সুযোগ দিয়েছিল তা আর ইরান পুনরাবৃত্তি করবে না। দ্বিতীয় কারণটা হলো, ইরান তার সন্তান আর অভিভাবক শূন্য হবার প্রতিশোধ নিবেই। তারা শিয়া, কিসাসে বিশ্বাসী।
আমেরিকা পিছাতে পারবে না কারণ পিছু হাটলে তার বিশ্বব্যাপি আগের মাতব্বরী চলবে না, আর ইরান পিছু হাটলে তা হবে জাতির সাথে বেঈমানি। এখনও আমেরিকাও তাদের পুরো শক্তি ব্যবহার করেনি, ইরানও করেনি। তাদের তুরুপের তাস এখনও তাদের হাতেই আছে। মানে তারা এখনও মূল খেলা শুরুই করেনি। আমেরিকা এখনও বোম্বার বা নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেনি। ইরানও তাদের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ব্যবহার না করে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আশেপাশের মার্কিন ঘাটিগুলোতেই শুধু হামলা চালাচ্ছে। আগে মাঠ পরিষ্কার করছে। মূল খেলা এখনও বাকি।
যুদ্ধে না গিয়েও সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। যারা আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। মানে আমাদের বাংলাদেশও বিপদে আছে। মিসাইলের বিপদ না থাকলেও অর্থনীতির বিপদ আছে। ডলার ভিত্তিক অর্থনীতিতে ধ্বস নামবে, পেট্রোলের দাম হবে আকাশছোঁয়া।
বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সিংহভাগ থাকে মধ্যপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পরায় যে ক্ষতি হবে, মালিক পক্ষের তা কাটিয়ে উঠার একমাত্র সমাধান হবে কর্মী ছাঁটাই। ফলে প্রবাসীদের একটা বড় অংশ কাজ হারাতে চলেছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে আমদানি-রপ্তানি চেইন ভেঙে পরায় গার্মেন্ট শিল্পেও ধ্বস নামবে। ফলাফল এখানেও কর্মী ছাঁটাই। বেকারত্ব বাড়বে।
মানে সরাসরি যুদ্ধে যোগ না দিলেও আমাদের দেশ অর্থনীতির দু’ভাবেই বড় আঘাত পেতে চলেছে।
তবে কারো কি এ যুদ্ধ থেকে সুুবিধা না? অবশ্যই হবে যদি তারা কাজে লাগায়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান-জার্মানি কাগজে-কলমে স্বাধীন। প্রত্যেকটিতে ১৮০টির মতো আমেরিকান সামরিক ঘাটি আছে, যা জাপানকে সবসময় নজরদারিতে রাখে। তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া থেকে আটকায়। ইরানের ধাক্কা সামলাতে যখন আমেরিকা জাপান-জার্মানির নিয়োজিত সৈন্যদের সরিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে আনবে তখন সামুরাই-নাৎসিদের পুনর্জন্ম হতে আমেরিকাকে পুরোপুরি উৎখাত করাও অসম্ভব কিছু না। এখন একটাই দেখার বিষয়, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

আরেকটা মজার তথ্য:

ইরান কেন এ যুদ্ধ হারবে না তার একটা দুর্দান্ত উদাহরণ আছে সান জু এর `Art of The War' বইয়ে।
তিনি দাবি করেছিলেন অস্ত্র-শস্ত্র একটা বাহিনীকে শীক্তশালী করে ঠিকই কিন্তু জিততে তার প্রয়োজন উদ্দেশ্য। আমেরিকান কোনো সৈনিক কী বলতে পারবে এ যুদ্ধে তারা কেন জড়াবে? ট্রাম্প আদেশ করেছে তাই করছে এটা কোনো উদ্দেশ্য হয় না। বিশ্বযুদ্ধ বলুন আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, উদ্দেশ্যের অভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাতে হয়েছে অনেক সেনা বাহিনীর। তার প্রধান কারণ উদ্দেশ্য। তাদের কোনো প্রকৃত উদ্দেশ্য নেই। ফলাফল সৈন্যরা জীবন বাজি রেখে এ যুদ্ধ জিততে চেষ্টা করবে না। অন্যদিকে ইরানের উদ্দেশ্য আছে। ইরান ‘Do or Die’ পরিস্থিতিতে আছে। সে জানে সে যদি হেরে যায় তার জন্য একটা মেসাকার অপেক্ষা করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মিানি বা জাপানের সাথে যা ঘটেছিল তারই পুনরাবৃত্তি করবে আমেরিকা। তারা বিশ্বের পরাশক্তির বিরুদ্ধে যে বুক পুলিয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আছে তা নষ্ট করে আমেরিকার আধিপত্য যখন তথন সামরিক অগ্রাসন কোনোভাবেই মেনে নিবে না। তাই তার জয় নিশ্চিত। কারণ তার আত্মসমর্পনের রাস্তা খোলা নেই।
অন্যদিকে ট্রাম্পকে না তার সৈনিকরা বিশ্বাস করে, না তাদের জনগণ। সত্যি বলতে আমেরিকার উন্নয়নে তার কোনো অবদানই নেই। যদিও সে দাবি করে সে আটটা যুদ্ধ থামিয়েছে। কিন্তু তার বিরোধী দল তাকে উপহাস করে লেজ গুটিয়ে পালানো টার্কি মুরগি হিসেবে। তারা বলে সে শুধু সুযোগ বুঝে পালাতেই জানে।
অন্যদিকে রেখে-ঢেকে প্রকাশ করা হয়েছে এপ্সটেইন ফাইল। যা থেকে কোনোক্রমেই মুছে ফেলা যায়নি ট্রাম্পের উপস্থিতি। 
বস্টনের এক ফ্লাইওভারে আন্দোলনকারীরা টানিয়ে দিয়েছে, “যুদ্ধাপরাধ যৌন অপরাধকে চাপা দিতে পারবে না।” যা সরাসরি ট্রাম্পের এপস্টাইল ফাইলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। 

মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধ সমর্থন করে। আর এটাও শুধু ট্রাম্পের পার্টির মুষ্ঠিমেয় মানুষ। আমেরিকানরা আন্দোলন করছে ট্রাম্পের এত যুদ্ধ করতে ইচ্ছে করলে সে যেন তার নিজের ছেলেকে পাঠায়।




মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো