আধুনিক কালের ইমাম ও আলেম
আজ জুম্মার নামাজে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। আশেপাশে কেউ হয়তো গাঁজা খেয়ে এসেছে। এ গন্ধের সাথে পরিচয় হয়েছিলো চট্টগ্রাম মেলে নরকবাসের কালে, সে গল্প আগেই বলেছিলাম। গাঁজার গন্ধ সবসময় না পাওয়া গেলেও ধুমপায়ীদের মুখের গন্ধ যে প্রায়ই পাওয়া যায় তা আশা করি সব মুসল্লিই স্বীকার করবেন। অথচ কোরআনে স্পষ্ট লেখা আছে, মাতাল অবস্থায় নামাজের কাছেও যেও না। (সুরা নিসা)
হাদীসে আছে, পিঁয়াজের গন্ধ নিয়ে মিসওয়াক না করে নামাজে না দাঁড়াতে। এতে অন্যদের মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। অথচ আমাদের সমাজে মাদকদ্রব্য সেবন করে চলে আসছে। নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায়ও অনেকের কাছে সিগারেট থাকে। নামাজের আরকান-আহকাম এতে কতটা পূরণ হয় হুজুরদের কাছেই প্রশ্ন থাকলো।
কিন্তু আমাদের ইমামরা এসব বলবে না কখনোই। অবশ্য স্বীকার করতে হবে আহলে হাদীসদের মসজিদগুলো আমাদের মসজিদ থেকে এগিয়ে আছে। ওদের মসজিদে আতরের গন্ধই পেয়েছি এ অব্দি।
যাই হোক, আমাদের ইমামরা এ ব্যাপারে কখনো মুখ খুলবে না। খুলবে কেন? খুললে তো চাকরি যাবে। কারণ মসজিদের মোতোয়াল্লি চেইন স্মোকার। একই ঘটনা দেখেছি মন্ত্রীবাড়ি-এমপিবাড়ির মসজিদগুলোতেও। তারা কখনো মন্ত্রীদের ভুল তুলে কথা বলেনি, তবে যেসব কেন্দ্রীয় মসজিদের সভাপতি বর্তমানে বিএনপির বা জামায়াতের লোক, তারা অবশ্য কাফির-মুনাফিক থেকে শুরু করে শয়তান-দাজ্জাল সব ধরনের ইসলামিক পরিভাষার গালি দিয়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ আমাদের মসজিদও সত্যি বলতে রাজনীতির হাতের গুটি হয়ে গেছে। কারা করেছে? তথাকথিত ইমাম ও আলেমরাই করেছে। তারা আর ধর্মের পক্ষে না, দলের পক্ষে মিম্বারে উঠে।
এজন্যই বোধহয় কেয়ামতের ছোট আলামত হিসেবে বলা হয়েছিল, কেয়ামতের আগে আলেমরা হবে সবচেয়ে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
অবশ্য এক্ষেত্রে আরেকটা বড় বিষয় গোপন করা হয়েছে। প্রশ্নটা হলো আলেম কারা? তারা একথা কখনোই বলে না আলেম কারা। আমাদের মাথায় ফিট হয়ে গেছে তারাই আলেম। তারা যা করে তাই আলেমের কাজ, তারা যা পরে তাই আলেমের পোশাক, তারা যা পড়ে তাই এলম।
প্রথম কথা আলেম হলো জ্ঞানী। যারা মুখস্থ করছে কিন্তু কি করছে, কেন করছে তা জানে না তারা আলেম নয়। নিজেদের এলম জাহির করে যারা ইবনে সিনা আর জাবির ইবনে হাইয়ানদের কাফির ঘোষণা দিয়েছিল তারাও তাদের চেয়ে বড় আলেম বলা যায় না। তারা ওয়াজের নামে যে ইসলামের আড়ালে গানের আর আলিফ লায়লার আয়োজন করে তা কি আলেমের লক্ষণ? আসল হাদীস আর আরব উপকথার মাঝে যারা পার্থক্য ধরতে পারে না তাদের বাহ্যিক জ্ঞান তো দূরের কথা, ইসলামিক জ্ঞান পরিপূর্ণ আছে বলে বিশ্বাস হয় না। তবু আমাদের তাদেরই মানতে হয়, কারণ প্রকৃত ইসলাম বহু আগেই হারিয়ে গেছে। হাজী শরীয়তুল্লাহ চেষ্টা করেছিল ইসলামের নামে অইসলামিক কার্যকলাপ আলাদা করতে, অনেকটা সফলও হয়েছিল বোধহয়। কিন্তু এখন যে ইসলামের চাদর দেখি তার একটু দূরে দূরেই ফুটো।
এজন্যই বোধহয়, ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল, শেষ জামানায় ঈমান ধরে রাখা হয়ে কয়লা ধরে রাখার মতো।
কারণ এখানে মসজিদে আল্লাহর নাম আছে, আল্লাহ নেই।
(১৯ ডিসেম্বর ২০২৫)