ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’ ‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশন কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

শতকড়ি খেলার নিয়ম

খেলার বিবরণ:

শতকড়ি একটা ব্রেইন গেমস। এটিকে দাবার জটিল সংস্করণ বলতে পারেন। যা স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা আর তাম্রমুদ্রা ব্যবহার করে খেলা হতো। এটা সম্পূর্ণ রণকৌশলের খেলা। মুদ্রা আর রাজাদের সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এই খেলা।
এগুলো দাবার মতো কোনো গুটি দিয়ে না বরং মুদ্রা দিয়ে খেলা হতো। খেলার সুবিধার্থে মুদ্রাগুলোর ওপরে চিহ্ন যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

খেলার গুটিগুলো ও তার মান:

১. সৈন্য/পদাতিক 💂 (মুদ্রা ২)-দাবার সৈন্য/বোড়ে/Pawn এর মতো।
২. অশ্বারোহী 🏇 (মুদ্রা ৩)-দাবার ঘোড়া/Knight এর মতো।
৩. তীরন্দাজ 🏹 (মুদ্রা ৪)-দাবার গজ/Bishop এর মতো।
৪. হাতি 🐘 (মুদ্রা ৫)-দাবার নৌকা/Rook এর মতো।
৫. সেনাপতি 🫅 (মুদ্রা ৬)-দাবার মন্ত্রী বা Queen এর মতো।
৬. রশদ 💰 (শুরুতে ৪টি মুদ্রা-৩টি রৌপ্য ও ১টি স্বর্ণ)-দাবার রাজার মতো। তবে পুরোপুরি না। নিয়মে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হবে।


নিয়ম:

দাবার মতো,

১. সৈন্য/পদাতিক 💂 (মুদ্রা ২)-শুরুর ঘর থেকে ১ বা ২ ঘর সোজা যেতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে ফাঁকা ১ ঘর সোজা বা প্রতিপক্ষের গুটি কাঁটার ক্ষেত্রে ১ ঘর কোণাকুণি যায়। সৈন্য পেছনে যেতে পারে না।
২. অশ্বারোহী 🏇 (মুদ্রা ৩)-সোজা ২ ঘর গিয়ে ১ ঘর পাশে যায়। দাবায় একে ঘোড়ার আড়াই চাল বলে। মাঝে কিছু থাকলেও সে যেতে পারে।


৩. তীরন্দাজ 🏹 (মুদ্রা ৪)-কোণাকুণি বাঁধা পাবার আগ পর্যন্ত যেকোনো ঘরে যেতে পারে।


৪. হাতি 🐘 (মুদ্রা ৫)-সোজাসুজি বাঁধা পাবার আগ পর্যন্ত যেকোনো ঘরে যেতে পারে।

৫. সেনাপতি 🫅 (মুদ্রা ৬)-সোজাসুজি ও কোণাকুণি বাঁধা পাবার আগ পর্যন্ত যেকোনো ঘরে যেতে পারে।


৬. বর্ডারে সৈন্য 💂-সৈন্য শেষ ঘরে পৌঁছাতে পারলে সে অশ্বারোহীতে পদোন্নতি পায়।


এই খেলার অতিরিক্ত নিয়ম:

১. রশদ ও তার রৌপ্যমুদ্রা: রশদের স্বর্ণমুদ্রা স্থানান্তরযোগ্য না। এটা কেঁটে ফেলতে পারলেই বিজয়ী।


২. রৌপ্যমুদ্রার স্থানান্তর: রৌপ্যমুদ্রা যেকোনো দিকে পদোন্নতি বা বিভাজন শর্তে এক ঘর যেতে পারবে। এক বারে একটা রৌপ্যমুদ্রাই নড়ানো যাবে শুধু।


২. রৌপ্যমুদ্রার সাহায্যে পদোন্নতি: অন্য গুটির ওপর দিয়ে গিয়ে রৌপ্যমুদ্রা যে গুটির ওপর বসবে তার এক ধাপ পদোন্নতি হবে আর সরিয়ে নিলে এক ধাপ অবনতি হয়ে আগের পদে ফিরে যাবে।

৩. রৌপ্যমুদ্রার সাহায্যে বিভাজন: রৌপ্যমুদ্রাওয়ালা গুটি তীরন্দাজ বা তার চেয়ে বড় মানের হলে সে দুটি গুটিতে ভাগ হতে পারবে। আগের গুটির ২ ধাপ অবনতি হবে আর রৌপ্যমুদ্রা আরেকগুটি নিয়ে নতুন সেন্য তৈরি করে। ঐ সৈন্য তার রৌপ্যমুদ্রা স্থানান্তর করতে পারবে না আর।


৪. ভুল চালে বন্দি: বর্ডারে বিভাজন করলে নতুন আসা সৈন্য পদোন্নতি পাবে না, উল্টো ব্লক হয়ে অরক্ষিত পরে থাকবে। নাড়ানো যাবে না, যতক্ষণ না তাকে আরেকটা রৌপ্যমুদ্রা দিয়ে অশ্বারোহী বানানো হচ্ছে ততক্ষণ যে বন্দি থাকবে।
৫. রশদ দখল: এই খেলায় কিস্তি (check) হয় না। সরাসরি রশদ দখল করা যায়। দাবার ভাষায় যাকে বলে কিস্তিমাত বা checkmate.
৬. বিজয়ী: রশদ দখল করলে খেলা শেষ। কিন্তু আপনি বিজয়ী কিনা বা কত মুদ্রা জিতেছেন তা নির্ভর করবে আপনার কাঁটা গুটি সংখ্যার ওপর।

বিঃদ্রঃ আগের প্রচলিত শতকড়িতে সেনাপতি, হাতি আর তীরন্দাজ সর্বোচ্চ ২ ঘর যেতে পারতো। যে ব্যাপারটা আগে দাবায়ও ছিল। কিন্তু এতে করে খেলা লম্বা সময় চলে। তাই খেলোয়াড়রা যেন বিরক্ত না হয়ে যায় তাই অল্প সময়ে খেলা শেষ করে দিতে দাবায় মন্ত্রী, গজ আর নৌকার ক্ষেত্রে যতদূর যেতে পারে নিয়ম যুক্ত করা হয়। আমিও একই কারণে শতকড়ি থেকে এই নিয়মটা তুলে আধুনিক দাবার মতো শর্টকাট মুড বানিয়ে দিয়েছি, যেন খেলা দ্রুত শেষ হয়।

জনপ্রিয় পোস্টগুলো

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর লেখা বইগুলো