ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’ ‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশন কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

বর্তমান প্রজন্ম বখে যাচ্ছে কেন?

 অনেকেই হা হুতাশ করে, বর্তমান প্রজন্ম বখে যাচ্ছে। পর্ণোগ্রাফি, নুডিটি, এলজিবিটি, রুমডেট, ব্রেকআপ জিনিসগুলো ছড়িয়ে পড়ছে মহামারির মত। কেন এমন হচ্ছে তারা উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।

আমার মনে হয় না এটা বোঝা তত বেশি কঠিন কিছু। টম এন্ড জেরিতে কোনো কোনো পর্বে টমের নায়িকা থাকতো আর ডোরেমনে নবিতা সিজুকাকে পছন্দ করতো। এজন্য অভিভাবকদের ধারণা ছিল আমরা ইঁচড়ে পাকা হয়ে যাচ্ছি। আমাদের কার্টুন দেখা থেকে দূরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতো। এদিকে এ প্রজন্মতো অশালীন রিল দেখে বড় হচ্ছে! ভরসা পাই না, এ আকাশ সংস্কৃতির। আবার ইন্টারনেট বয়কট করাও সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। আমাদের নিজস্ব ইন্টারফেস তৈরিই হতে পারে যুগের সঠিক সিদ্ধান্ত। প্লেবয় আমেরিকানদের টার্মস এন্ড কন্ডিশনে না, বাংলাদেশের নিয়ম-কানুনে চলুক আমার দেশের সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের সিনেমা সেই পুরোনো ধনীগরিব খিচুড়ি বা কপি পেস্ট খিচুড়ি থেকে রক্ষা পাক। মানসম্মত কন্টেন্ট পেলে অবশ্যই বাঙালি সমকামিতাময় নেটফ্লিক্সে সময় নষ্ট করবে না। বাঙালির শতকরা নব্বই ভাগের বেশি মানুষ এখনও সমকামীতাকে ঘৃণা করে। তারা দেখছে কারণ তাদের কাছে কন্টেন্ট নেই। এই কন্টেন্টের অভাবই টিকটক সেলিব্রিটিদের জন্ম দিয়েছে। মানুষ যা পাচ্ছে তাতেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে, তবু কেন আমাদের গোপন তথ্য অন্য কোনো দেশের সার্ভারে সংরক্ষিত হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা কতটা রক্ষা হচ্ছে? যখন দরকার হবে শুধু তখনই ইন্টারনেট ব্যবহার করবে এবং সাধারণ যোগাযোগ-কার্যকলাপ-একাডেমিক কার্যক্রম দেশীয় ইন্টারফেসে, এটাই হতে পারে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অবশ্য ইন্টারফেসটিকে ফেসবুক-টুইটার থেকে সস্তা করতে হবে। যেমন আমাদের সিম কোম্পানিগুলো ফেসবুক, ইমু ইত্যাদির জন্য আলাদা করে সস্তা প্যাকেজ রাখে, তেমনটা আমাদের দেশীয় ইন্টারফেসের জন্য রাখা যেতে পারে। এতে আমাদের দেশ আইটি খাতেও এগিয়ে যাবে। এদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার সিএসই, ইইই গ্রেজুয়েট পাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে কি বিসিএসের বাহিরে কিছু আশা করতে পারি না? আশা করতে পারি না, আমাদের সংস্কৃতি ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ?

জনপ্রিয় পোস্টগুলো

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর লেখা বইগুলো