ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’ ‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশন কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

মনে হয় না কি অতি সাধারণ একটা গল্প? চাইলে তো আমিও লেখতে পারি এমন। কিন্তু এই অতি সাধারণ রূপকথার গল্প কিভাবে ছড়িয়ে পরলো সারা দুনিয়ায় কখনো ভেবেছেন?

হ্যামিলন (Hameln/Hamelin) শহরটা কিন্তু বাস্তবেই ছিল, ছিল সেখানে ইঁদুরের প্রকোপও। তারচেয়ে জোরালোভাবে যা তখন ছিল তা হলো ইঁদুর বাহিত প্লেগ। সময়টা কারো মতে ১২৮৪ আবার কারো মতে ১৩৪৬-১৩৫৩। হঠাৎ করে প্লেগ ছড়িয়ে পড়লো চতুর্দিকে। মহামারির প্রাথমিক শিকার হলো ছোট ছোট বাচ্চারা। মা-বাবারা সন্তান হারিয়ে শোকার্ত তবে মেয়র উদাসীন। ভাবখানা এমন যে রোগ হয়েছে, সেরেও যাবে। এটা নিয়ে এত হৈচৈ করার কি আছে?
ঐসময়ের আইন ছিল প্রচণ্ড কড়া, লেখকেরও তো প্রাণের মায়া আছে। কিন্তু তিনি মৌন থাকতে পারলেন না শাসকের উদাসীনতায়। জন্ম দিলেন প্রতিবাদী এক বাঁশিওয়ালার। যে বাঁশিওয়ালা সরাসরি বলে দিলো মেয়রের শপথ ভুলে যাওয়াই দায়ী এ শিশুগুলো হারিয়ে যাওয়ার পেছনে। প্লেগ রূপী বাঁশিওয়ালা তারই উদাসীনতায় কেড়ে নিলো এতগুলো শিশুর জীবন। নিয়ে উধাও হয়ে গেল চিরতরে।
জনগণের চাপা ক্ষোভ মহামারির চেয়েও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিলো এই গল্প। যা আজও সময়ের বেড়াজাল ছিঁড়ে, মহামারির যন্ত্রণা ভুলে টিকে আছে। লেখক কে আমার এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই, খুব সম্ভবত কারোই নেই। তিনি মহাকালে হারিয়ে গেছেন আর দশজন শহুরে নাগরিকের মতোই।

লেখক যা বলতে পারে না, তাও বলতে ভয় পায় না তার জন্ম দেয়া কালো অক্ষরগুলো। এখানেই একজন লেখকের সার্থকতা।

কয়েকটি তথ্য:

  1. হ্যামিলন শহরটা জার্মানিতে এখনও এত বছর পরেও একই নামে টিকে আছে।
  2. ১২৮৪-১৩৮৪ সালের ভেতরই কোনো ইঁদুরবাহিত মহামারিতে জন্ম হয় এই গল্পের।
  3. বর্তমানের হ্যামিলন শহর,
  4. মানচিত্রে হ্যামিলন,
  5. সেই শহরে এই কাল্পনিক গল্পের ভাস্কর্য পর্যন্ত আছে।

  6. গল্পে ২৬ জুন সেখানে আভির্ভাব হয় এই রহস্যময় বাঁশিওয়ালার। যাকে এই শহর যুগ যুগ ধরে উৎযাপন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ২৬ জুন বিশ্ব ইঁদুর ধরা দিবস পালিত হয়।

জনপ্রিয় পোস্টগুলো

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর লেখা বইগুলো