ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

Epstein Files: আধুনিককালের সবচেয়ে ভয়ংকরতম দলিল

জেফরি এপ্সটাইনের বিচার চলাকালীন যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং বিচারের নথিপত্র একত্রে এপ্সটাইন ফাইল্স নামে পরিচিত। জেফরি এপ্সটাইন প্রয়োজনে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য সবার ছবি ও তথ্য সংগ্রহে রাখতো। পরবর্তীতে তাই হবে উঠে সত্যের সবচেয়ে বড় দলিল। কিন্তু জেলে এপ্সটাইন রহস্যজনক মৃত্যুর কারণে আর আদালতে দাখিল করা হয়নি মানব পাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুকাম, এমনটি মানুষ খেয়ে নেয়ার মতো বিভৎস সব অপরাধ হয়েছে বলে দাবি তোলা এই ফাইলগুলো।

সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার পর শেষ পর্যন্ত DOJ প্রকাশ করতে সমর্থ হয় এই ফাইলের একাংশ। তাতেই তোলপাড় হয়ে গেছে বিশ্ব। এতে উঠে এসেছে ক্ষমতাধরদের ভয়ংকরতম শখ। রাজনৈতিক, বিলিয়নিয়ার, ফিল্মস্টার, রকস্টার, খেলোয়াড়, বিজ্ঞানী কে নেই সেই তালিকায়! প্রকাশিত অংশে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামই এসেছে সাড়ে ৪ হাজারবারেরও বেশি। এ থেকে পরিষ্কার হয় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই ফাইল প্রকাশের কথা বললেও, জয়ের পর কেন ফাইলগুলো প্রকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো।
এতদিনের স্বীকৃত ভালো মানুষগুলোর মুখোশ উন্মোচন হতেই বিশ্ব চমকে উঠেছে। মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা বিল গেটস, নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির মা, টাইটানিক সিনেমার নায়ক লিয়োনার্দো ডিকেপ্রিও, সর্বকালের সেরা সংগীতশিল্পী মাইকেল জ্যাকসন এমনকি পঙ্গুত্ব বরণ করা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংদের দিকেও আঙুল তোলে এই ফাইল।
এপ্সটেইস ফাইলগুলো হলো- একটা আয়না। বিচারের উর্ধ্বে চলে যাওয়া মানুষের আয়না। মুখোশের পেছনের এক সত্য। আমরা বলি আদিম মানুষরা হিংস্র ছিল। নরবলী দিতো। কিন্তু বর্তমানে কেমন? যেখানে আইন দাঁড়াতে পারে না, সেখানেই মানুষ ছাড়িয়ে যায় তার হিংস্রতার মাত্রা।
পশ্চিমা সংস্কৃতি ও তাদের মৌখিক মানবাধিকারের বুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই ভয়ংকর দলিল।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টা হলো, এই বিভৎস কেলেঙ্কারির ঘটনার পেছনে কতিপয় বাংলাদেশী এবং এক বাংলাদেশী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
কোম্পানিটি বাংলাদেশী গবেষণা প্রতিষ্ঠান icddr,b
তাছাড়া শেখ হাসিনার নাম  সরাসরি উল্লেখ না থাকলে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister-PM) কথা উল্লেখ আছে এসব নথিপত্রে!
এই তালিকায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোঃ ইউনূসের নামও বহুবার ১১টা ফাইলে উঠে এসেছে ।
পাওয়া গেছে বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ফেনী-৩ আসবে মনোনীত প্রার্থী  আব্দুল আউয়াল মিন্টু দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনের নির্বাচন প্রচারণায় ৫ হাজার ডলার অর্থায়ন করেছিলেন তিনি। 
উঠে এসেছে আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম এর নাম। এই শহীদুল আলম সামুদ ফ্লোটিলা দিয়ে বিখ্যাত হওয়া শহীদুল আলম নয়তো?

এই তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মাইমুল খান।

তাছাড়া
১৫৭টা পিডিএফে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।

তবে এই ফাইলে নাম থাকার মানেই কেউ অপরাধী তা ভেবে নিতে নিষেধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারবিভাগ। তারা বলেছেন এখানে অনেক নাম এসেছে শুধুই প্রসঙ্গক্রমে।

তথ্যসূত্র:

মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো