ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

ইহুদী-খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ ইবরাহিম (আ) এর প্রথম পুত্র সম্পর্কে কী বলে?

খ্রিস্টান ও ইহুদিরা দাবী করে আব্রাম/ইব্রাহিমের প্রথম পুত্র যাকে কুরবানী করা হয় তার নাম, আইজ্যাক/ইসহাক ছিলো। কিন্তু ইহুদিদের তোরাহ/তাওরাতের এবং বাইবেলের ওল্ড টেস্টেমেন্ট এর জেনেসিস (যার বাংলা আদিপুস্তক) খণ্ডের অধ্যায় ১৬তে সরাসরি হাগার/হাজর (যাকে বাঙালিরা হাজেরা নামে চিনে) এর ঘরে ইশ্মায়েল/ইসমাইলের জন্মের কথা বলা আছে। যে তার প্রথম সন্তান। স্পষ্ট কথা। যেমনটা আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি।

ইসমাইলের জন্মের সময় ইব্রাহিম (আ.) এর বয়স ৮৬ বছর, আর ইসহাকের জন্মের সময় তার বয়স ১০০ এরও বেশি। (অধ্যায় ১৭তে বলা আছে, পরের স্ক্রিনশর্টে)

ইসমাইল (আ.) যে ১২ জন মহান নেতার পিতা হবে আর তার বংশধরদের থেকে যে একটা মহান জাতির সৃষ্টি হবে তা তারা কিছুতেই মানতে চায় না। কারণ ঐ জাতিটা মুসলিম। ইসমাইল (আ.) এর বংশে এই একজনই নবী এসেছে। এবং তিনিই শেষ নবী, হযরত মোহাম্মদ (সা.)। আর কোনো নবীই আসেনি। 

তাদের ব্যাখ্যা মতে, ইসমাইলের পুত্রদের মধ্যে সেই ১২ নেতা হলেন নবায়োৎ, কেদর, অদবিয়েল,মিবসম, মিশ্মা, দূমা, মসা, হদদ, তেমা, যিটূর, নাফীশ এবং কেদমা।

ঐতিহাসিকভাবে কুরাঈশরা কেদরের বংশধর। অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পূর্বপুরুষ কেদর।

তারা সম্ভবত ইশ্মায়েলকে গায়েব করে দেয়ার কারণও এটাই। মুহাম্মদ (সা.) ইসমাইলের বংশধর, যেখানে বনি ইসরায়েল (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এবং তাদের সকল নবী ইসহাকের বংশধর। তারা নিজেদের বংশকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট বংশ বা জাতি মনে করে। এই অহংকারটাই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

কিন্তু তাদের এমন দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ তাদের ধর্মগ্রন্থেই এখনও রয়ে গেছে।

বিঃদ্রঃ খ্রিস্টানদের নিউ টেস্টেমেন্ট হলো, যিশু খ্রিস্ট/ঈসা (আ.) এর ওপর নাজিল হওয়া ইঞ্জিল আর ওল্ড টেস্টেমেন্ট হলো, আগের নবিদের কিতাবের সংগ্রহ। সবগুলো একসাথে মিলে হয় বাইবেল। (যদিও প্রত্যেকটাই তারা নিজ নিজ প্রয়োজনে যথেষ্ট কাঁট-ছাঁট করেছে। যার কারণে আর তা অনুযায়ী আমল করার অনুমতি ইসলাম ধর্মে নেই।

মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো