বাংলাদেশের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা ব্যবস্থা
সম্প্রতি ইউনেস্কো (UNESCO) প্রকাশিত 'বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যান' প্রতিবেদনে উঠে এসেছে- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে বাংলাদেশের অবস্থান সবার তলানিতে। মানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষ শিক্ষকের হার সর্বনিম্ন। এতে অবাক হবার কিছু নেই। মাস্টার্স পাস না করলে দপ্তরির চাকরিতে নিয়োগ নেয়া হয় না, তবু বলবো নেই। এটা পরিসংখ্যানে প্রকাশ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে, তবে প্রকাশ হবার আগেও অদৃশ্য ছিল না।
বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম হলো গিনিপিকের শিক্ষাক্রম। এক সরকার এসে এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেয়, তো আরেকজন ঐ পদ্ধতি। এটা যে শুধু একটা এক্সপেরিমেন্ট না, এটা একটা প্রজন্মের অসংখ্য ভবিষ্যৎ তা আমাদের সরকার প্রধানরা বোধহয় ভুলে যান। তাই এখানে না দক্ষ শিক্ষক উঠে আসে, না দক্ষ শিক্ষার্থী।
তাছাড়া এই উপমহাদেশকে বিজ্ঞান নয় ইতিহাস শাসন করে, তাই এখানে মেধা-অপচয় সর্বোচ্চ। এখানে মেধা বা দক্ষতার চেয়ে মনে রাখার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এখানে বাচ্চাদের সারাদিন-রাত নিউটন-আইনিস্টাইন গিলানো হয় নিয়ম করে, কিন্তু হজম করতে শিখায় না বিধায় বিজ্ঞানের কোনো উপকারই হয় না। দিনশেষে ম্যাক্সওয়েলের শর্ত আর শ্রিডিঞ্জারের সমীকরণ কোনো কেরানির মগজের এক কোণায় জড়োসড়ো হয়ে পরে থাকে অপরাধীর মত।বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম হলো গিনিপিকের শিক্ষাক্রম। এক সরকার এসে এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেয়, তো আরেকজন ঐ পদ্ধতি। এটা যে শুধু একটা এক্সপেরিমেন্ট না, এটা একটা প্রজন্মের অসংখ্য ভবিষ্যৎ তা আমাদের সরকার প্রধানরা বোধহয় ভুলে যান। তাই এখানে না দক্ষ শিক্ষক উঠে আসে, না দক্ষ শিক্ষার্থী।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব, শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি, পরীক্ষায় দুর্নীতি এমনকি পাঠদান উপকরণের সীমাবদ্ধতার কথাও নাহয় আজ বাদ দিলাম।
একটা প্রবাদ আছে- জ্ঞানহীন জীবন অন্ধ, জীবনে অব্যবহৃত জ্ঞান পঙ্গু। বাংলাদেশের অনেক ডিগ্রির প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশের জ্ঞান মূলত পঙ্গু।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন