ক্যারিবিয়ান জলদস্যু জ্যাক
তবে বাস্তবতা ছিল তারচেয়ে অনেক বেশি হিরোইক। জ্যাক স্পেরো চরিত্রটা গড়ে উঠেছে ইংরেজ জলদস্যু জ্যাক ওয়ার্ড (আনুমানিক, ১৫৫৩-১৬২২) এর ছায়া অবলম্বনে। যাকে আরবীয়রা চিনতো জ্যাক আসফুর (অর্থ চড়ুই, যা ইংরেজিতে Sparrow) বা ইউসুফ আসফুর নামে আর ইউরোপীয়রা চিনতো জ্যাক বার্ডি ওয়ার্ড (Jack Birdie Ward) নামে।
সিনেমায় তার জাহাজের নাম `ব্ল্যাক পার্ল' হলেও বাস্তবে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাহাজের নাম ছিল ‘লিটল জন’। যেটি সে আইল অফ উইট (Isle of Wight) এলাকা থেকে দখল করে এই নাম দিয়েছিলো। এই জাহাজের আগের নাম ছিলো ভাইলেট (Violet)। তাছাড়া সে ব্রিটিশ জাহাজ ‘লায়ন’স হোয়েল্প’ (Lyon's Whelp), ফরাসি জাহাজ ‘দ্যা গিফট’ (The Gift) ও ভেনিসীয় জাহাজ ‘সোদেইনা’ (Soderina)-এর মতো সেরা জাহাজগুলো হাতিয়ে নিয়েছিল।
তার শত্রু হিসেবে দেশের নাম উল্লেখ করতে হবে কিন্তু তার সহযোগী যোদ্ধারা তার মতোই গুটি কয়েক। তার মধ্যে মাত্র তিনজনই সবচেয়ে আলোচিত।
- রিচার্ড গিফোর্ড (Richard Gifford): জ্যাকের সবচেয়ে বেশিদিন কাছে থাকা সঙ্গি। ব্রিটিশ জাহাজ ‘লায়ন’স হোয়েল্প’ দখলের অন্যতম কমান্ডার এই ব্রিটিশ দস্যু।
- অ্যান্থনি জনসন (Anthony Johnson): কামান চালানোয় সে ছিল অসাধারণ। বলা হয়, জ্যাক ওয়ার্ডের কঠিন কঠিন যুদ্ধ জয়ে তার অসামান্য ভূমিকা ছিল।
- সাইমন ডি ডান্সার (Simon De Danser): যাকে আপনি মুভির বারবোসার সাথে তুলনা করতে পারেন, এই ওলন্দাজ দস্যু কখনো তার সহযোগী ছিল তো কখনো প্রতিদ্বন্ধী। বলা হয় তার কাছ থেকেই জ্যাক ইউরোপীয় ভারি জাহাজ চালানো শিখেছিল।
কিন্তু রাণী এলিজাবেথের মৃত্যুর পর জেমস যখন ক্ষমতায় আসে তখন সে স্পেনের সাথে চলা সেই যুদ্ধ বন্ধ করে স্পেনের সাথে সন্ধি করেন এবং ব্যক্তিগত জলদস্যুদের (Privateers) লাইসেন্স বাতিল করে দেন। ফলে যার বিরুদ্ধে রাজা যুদ্ধ করেছে তারা হয়ে যায় বন্ধু আর যারা তার জন্য যুদ্ধ করেছে তারা হয়ে যায় শত্রু। রাজার এমন দ্বিচারিতা মেনে নিতে পারেনি জ্যাক।
প্রথমে সে নৌবাহিনীতে পুনরায় যোগ দেয়, কিন্তু নৌবাহিনীর ওপর রাজার ব্যবহার ও বেতন কোনোটাই তার পছন্দ হয়নি। ফলে ১৬০৪ সালে তার সাথের ৩০ জন নৌসেনাকে সঙ্গি করে এক বণিকের ২৫ টনের এক নামহীন মালবাহী জাহাজ নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে। কেন ঐ বণিকেরই জাহাজ নিয়ে পালিয়েছিল, ঐ লোকের সাথে তার কোনো শত্রুতা ছিল কিনা সে বিষয়ে এখন আর স্পষ্ট জানা যায় না।
কিন্তু শীঘ্রই সে ফিরে আসে। রাজার নৌপ্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো রকম রক্তপাত ছাড়াই ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জাহাজ লায়ন’স হোয়েল্প নিয়ে পালিয়ে যায় তার দল। যা ছিল ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জন্য সবচেয়ে লজ্জাজনক হার।
ওয়ার্ড জানতো ইংল্যান্ডের আশেপাশে থাকলে ধরা পরবে তাই সে আটলান্টিক থেকে ভূমধ্যসাগরে চলে যায়। কিন্তু সে বুঝতে পারে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে টেক্কা দিয়ে টিকতে হলে তাকে আরও শক্তিশালী জাহাজ নিতে হবে। তাই সে তার চির প্রতিদ্বন্ধী স্পেনীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ দ্যা গিফট দখল করে। যা ৩২টি কামানে সাজানো স্পেনের সেরা যুদ্ধ জাহাজ ছিল। ১৬০৫ সালে এই জাহাজ দখল করার পরই শুরু হয় সাগর জুড়ে জ্যাকের দাপট। রাজা সন্ধি করলেও তার পূর্ববর্তী মিশন স্পেন ও ভেনিসের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ চলতেই থাকে।
ঐ সময় রাজা জলদস্যুদের তাদের দখল করা আংশিক সম্পত্তির বিনিময়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। তখন সে তার মাতৃভূমিতে ফিরার ও দস্যুতা ছাড়ার আবেদন করে। কিন্তু রাজা তা নাকচ করে দেয়। যেহেতু সে তার দেশে ফিরতে পারবে না তাই সে তার স্ত্রীকে তিউনিসে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
তখনই জ্যাক ওয়ার্ড তার ঐতিহাসিক উক্তিটি করেছিল-
১৬০৭ সালে জ্যাক ভেনিসীয় দেড় হাজার টনের বাণিজ্যিক জাহাজ সোদেইনা (Soderina) দখল করে, যা তাকে সেই সময়ের সবচেয়ে ধনী মানুষদের একজন করে তোলে।
সে স্থায়ীভাবে তিউনিসিয়ায় চলে যায় এবং সেখানে বাড়ি বানায়। সমুদ্র ছাড়া সেখানেই সে তার বাকি জীবন কাটিয়েছে। সে সময় সে ইউরোপের বড় বড় শক্তিকে টেক্কা দেয়ার জন্য সে নিজের নৌবাহিনী বানিয়ে ফেলেছিলো।
সে ছোট ছোট অসংখ্য জাহাজ দিয়ে আক্রমণ করে দিশেহারা করে ফেলতো বড় বড় বাহিনীর বিশাল বিশাল জাহাজকে। তার এই ছোট কিন্তু দ্রুত জাহাজগুলোই তার বার্ডি বা আসফুর নাম এনে দেয়। কারণ এগুলো পাখির মতো ফুুরুত করে কোথ থেকে চলে আসতো বুঝে উঠতেই পারতো না তারা। ফলে মজার মজার রূপকথা ছড়িয়ে পড়ে জ্যাক বার্ডি ওয়ার্ডের নামে সারা দুনিয়াজুড়ে। তার সেই নৌ বহরের বিখ্যাত জাহাজই ছিলো তার সেই ‘লিটল জন’। এ নামটা এসেছে আরেক কিংবদন্তি রবিন হুডের গল্প থেকে। রবিন হুডের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল লিটল জন। ধারণা করা হয়, জ্যাক নিজেকে রবিন হুড মনে করতো। আর ঐ জাহাজ ছিল তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত লিটল জন।
তখনই জ্যাক ওয়ার্ড তার ঐতিহাসিক উক্তিটি করেছিল-
"Tell the King of England that he may be King of the land, but I am King of the sea!"
(ইংল্যান্ডের রাজাকে বলে দাও, সে মাটির রাজা হতে পারে, কিন্তু সমুদ্রের রাজা আমিই!)
যা ওয়ার্ডের অহংকার, আত্মবিশ্বাস ও বিপ্লবের প্রতীক।১৬০৭ সালে জ্যাক ভেনিসীয় দেড় হাজার টনের বাণিজ্যিক জাহাজ সোদেইনা (Soderina) দখল করে, যা তাকে সেই সময়ের সবচেয়ে ধনী মানুষদের একজন করে তোলে।
সে স্থায়ীভাবে তিউনিসিয়ায় চলে যায় এবং সেখানে বাড়ি বানায়। সমুদ্র ছাড়া সেখানেই সে তার বাকি জীবন কাটিয়েছে। সে সময় সে ইউরোপের বড় বড় শক্তিকে টেক্কা দেয়ার জন্য সে নিজের নৌবাহিনী বানিয়ে ফেলেছিলো।
সে ছোট ছোট অসংখ্য জাহাজ দিয়ে আক্রমণ করে দিশেহারা করে ফেলতো বড় বড় বাহিনীর বিশাল বিশাল জাহাজকে। তার এই ছোট কিন্তু দ্রুত জাহাজগুলোই তার বার্ডি বা আসফুর নাম এনে দেয়। কারণ এগুলো পাখির মতো ফুুরুত করে কোথ থেকে চলে আসতো বুঝে উঠতেই পারতো না তারা। ফলে মজার মজার রূপকথা ছড়িয়ে পড়ে জ্যাক বার্ডি ওয়ার্ডের নামে সারা দুনিয়াজুড়ে। তার সেই নৌ বহরের বিখ্যাত জাহাজই ছিলো তার সেই ‘লিটল জন’। এ নামটা এসেছে আরেক কিংবদন্তি রবিন হুডের গল্প থেকে। রবিন হুডের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল লিটল জন। ধারণা করা হয়, জ্যাক নিজেকে রবিন হুড মনে করতো। আর ঐ জাহাজ ছিল তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত লিটল জন।
১৪৯২ সালে মুসলিম প্রধান স্পেনের মুসলিম সরকারের পতন হয়। আত্মসমর্পন চুক্তি ভঙ্গ করে স্পেনীয় ইনকুইজিনের মাধ্যমে মুসলিম ও ইহুদীদের (যদিও ইহুদীরা সংখ্যায় অনেক কম ছিল) ওপর নির্যাতন শুরু হয় ও খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তারা গোপনে তখনও ইসলাম পালন করতো। তাদের তারা বলতো মরিস্কো।
সবচেয়ে ভয়ংকর আঘাতটা আসে রাজা তৃতীয় ফিলিপ যখন ১৬০৯ সালের ৯ এপ্রিল আইন জারি করে সকল মরিস্কোকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কেউ নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে না চাইলে, হঠাৎ হঠাৎ বন্দরের পথে আতর্কিত হামলা চালিয়ে কিংবা ছিদ্র নৌকায় মানুষকে তুলে দিয়ে অগণিত মানুষকে হত্যা করা হয় তখন। ধারণা করা হয় এই মৃতের পরিমাণ কয়েক হাজার থেকে লাখ হতে পারে। এটাই ছিল তখনকার ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতিনিধন। সেসময় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ দেশ ছাড়া হয়েছিলো বলে মনে করা হয়। ইনকুউজিনের সময়ই মানুষকে দীর্ঘ সময় কষ্ট দিয়ে মারার নানা কৌশল আবিষ্কার হয়েছিলো। এই মানুষগুলোকে যখন কোনো দেশ আশ্রয় দিচ্ছিল না তখন অগণিত মুসলিম নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে তাদের তিউনিসিয়া ও আফ্রিকার আলজেরিয়ায় পৌঁছে দেন জ্যাক। তার এই রবিন হুড টাইপের আদর্শবাদই তাকে আফ্রিকার মানুষদের কাছে মহানায়ক বানিয়ে দেয়। একদিকে ইউরোপের বড় বড় সাম্রাজ্যের নথিতে যে সাক্ষাৎ শয়তান, অন্যদিকে নিপীড়িত মানুষের কাছে সে যেন দেবদূত।
তার জীবন বড় বড় পরাশক্তির সাথে যুদ্ধ করে কেটেছে। তাই তাকে হত্যা করতে ভেনিসের নাইটস অফ মাল্টা ও স্প্যানিশ নৌবাহিনী মিলে তিউনিসিয়ায় একদিন আতর্কিত হামলা করে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরে। কিন্তু কামানের নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে ও অগভীর সাগরের রণকৌশলে সেখান থেকেও বেঁচে ফিরেন জ্যাক ওয়ার্ড। এটাই তার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জয় হিসেবে ‘দ্য ব্যাটেল অফ তিউনিসিয়া’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর আঘাতটা আসে রাজা তৃতীয় ফিলিপ যখন ১৬০৯ সালের ৯ এপ্রিল আইন জারি করে সকল মরিস্কোকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। কেউ নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে না চাইলে, হঠাৎ হঠাৎ বন্দরের পথে আতর্কিত হামলা চালিয়ে কিংবা ছিদ্র নৌকায় মানুষকে তুলে দিয়ে অগণিত মানুষকে হত্যা করা হয় তখন। ধারণা করা হয় এই মৃতের পরিমাণ কয়েক হাজার থেকে লাখ হতে পারে। এটাই ছিল তখনকার ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতিনিধন। সেসময় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ দেশ ছাড়া হয়েছিলো বলে মনে করা হয়। ইনকুউজিনের সময়ই মানুষকে দীর্ঘ সময় কষ্ট দিয়ে মারার নানা কৌশল আবিষ্কার হয়েছিলো। এই মানুষগুলোকে যখন কোনো দেশ আশ্রয় দিচ্ছিল না তখন অগণিত মুসলিম নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে তাদের তিউনিসিয়া ও আফ্রিকার আলজেরিয়ায় পৌঁছে দেন জ্যাক। তার এই রবিন হুড টাইপের আদর্শবাদই তাকে আফ্রিকার মানুষদের কাছে মহানায়ক বানিয়ে দেয়। একদিকে ইউরোপের বড় বড় সাম্রাজ্যের নথিতে যে সাক্ষাৎ শয়তান, অন্যদিকে নিপীড়িত মানুষের কাছে সে যেন দেবদূত।
তার জীবন বড় বড় পরাশক্তির সাথে যুদ্ধ করে কেটেছে। তাই তাকে হত্যা করতে ভেনিসের নাইটস অফ মাল্টা ও স্প্যানিশ নৌবাহিনী মিলে তিউনিসিয়ায় একদিন আতর্কিত হামলা করে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরে। কিন্তু কামানের নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে ও অগভীর সাগরের রণকৌশলে সেখান থেকেও বেঁচে ফিরেন জ্যাক ওয়ার্ড। এটাই তার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জয় হিসেবে ‘দ্য ব্যাটেল অফ তিউনিসিয়া’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
আটোমান বা উসমানীয় সুলতান স্পেনে তাকে তার অসংখ্য মানুষ বাঁচানোর মতো মহৎ কাজের জন্য সম্মানীত করে এবং দস্যুতা ছেড়ে সে তিউনিসিয়ার তার বাকি জীবন তার পরিবার, প্রিয় বিড়াল আর পাখিদের নিয়ে কাটিয়ে দেয়। সেখানেই সে ও তার দলের কয়েকজন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তার নতুন নাম হয় ইউসুফ। তার তিউনিসিয়ার শাসক ওসমান দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে তাকে নৌবাহিনীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়। হয়ে উঠেন ইউসুফ রেইস। রেইস ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের নৌবাহিনীর একটা বড় পদ। বলা হয়ে থাকে, সে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনীকে এতো ভালো প্রশিক্ষণ দিয়েছিল যে পরবর্তী কয়েক দশক ইউরোপীয় জাহাজগুলো সেই এলাকা এড়িয়ে চলেছে।
তিউনিসিয়ায় বসবাসকালে তিনি একজন মরিস্কোকে বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়, তবে তার নাম জানা যায়নি। কোনো কারাগারে পচে না, বরং ১৬২২ সালে তিউনিসিয়ায় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে স্বাধীন ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবেই নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় এই সাগরের রবিন হুডের।
আরও কিছু তথ্যসূত্র:
- https://en.wikipedia.org/wiki/Jack_Ward
- https://www.historydefined.net/pirate-john-ward/
- https://military-history.fandom.com/wiki/Jack_Ward
- https://www.virtualmosque.com/society/entertainment/the-legend-of-captain-jack-from-birdy-to-sparrow/
- https://www.communityad.co.uk/exclusives/famous-faversham-face-captain-jack-birdy-ward/
- https://pdsh.fandom.com/wiki/John_Ward
- https://kids.kiddle.co/Jack_Ward
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন