ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

আমেরিকার গ্রেট সিল আর ইলুমিনাতি

আমেরিকার গ্রেট সিল দেখেছেন? বিশেষ করে এর পেছনের অংশটা খুব আলোচিত। অনেকে এটাকে ইলুমিনাতির প্রতীক দাবী করে আর এ ও দাবী করে যে ইলুমিনাতিরা দাজ্জালের অনুসারী।
ড্যান ব্রাউনের উপন্যাস ‘এঞ্জেলস এন্ড ডেমনস’ বইয়ের কারণে ইলুমিনাতি নামটা দুশো বছর পর আবার ফিরে আসে আর তাকে এই প্রতীকের সাথে তুলনা করা হয়। তার উপন্যাসে বড় ভূমিকা ছিল এই ইলুমিনাতির। সে বইয়ের জন্য ইলুমিনাতির প্রতীকও ডিজাইন করিয়েছিল। যা আসলে ইংরেজিতে ছিল, জার্মান ভাষায় না, মানে প্রতীকের থিম এক হলেও তা আসল ইলুমিনাতির প্রতীকের মতো ছিল না। যেমন বাস্তবে ইলুমিনাতি ছিল না। বাস্তবে ইলুমিনাতি (যার অর্থ আলোকিত করা) ছিল একটা সংশয়বাদী ও নাস্তিকদের সংগঠন, যারা ধর্মীয় উপকথার দাজ্জাল বা মাসিহ কোনোটাকেই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কথা না। আর কাপালিকদের মত শয়তানের উদ্দেশ্যে বলি বা নরবলি দেয়ারতো প্রশ্নই উঠে না। তারা সৃষ্টিকর্তায় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের চেয়ে, জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাতে বেশি পছন্দ করতো। ঐ সময়ে মানে ১৭৭৬ সালের দিকে  গির্জার অবিচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গড়ে উঠে গোপনে এই সংগঠন। ১৭৮৪-১৭৮৫ সালের দিকে এই তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে এর সকল নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয় আর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম ভাইশৌপ্টকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। ১৭৮৮ সালের আগেই ইলুমিনাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায় আর বদনাম রটিয়ে দেয়া হয় একটি শয়তানের পূজারি সংগঠন হিসেবে। তবে অনেকে আজও মনে করে ইলুমিনাতি টিকে আছে আর ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার পর থেকে তারাই গোপনে বিশ্ব শাসন করছে। যদিও বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। মুক্তচিন্তা, নারীবাদ বা বর্ণবাদবিরোধীরা নিজেদের ইলিুমিনাতির উত্তরসূরী মনে করে বলেই এই নামটা আজও ইতিহাসে টিকে আছে।

এই চোখকে দাজ্জালের না বরং এই চোখকে রোমান ও ফরাসী খ্রিস্টানরা দৈবদৃষ্টি, জ্ঞানের চোখ বা ত্রিনয়ন বলে মনে করতো। তা থেকেই ধার করা হয়েছে এই তিনকোণার ভেতরের আলোকিত চোখ। মুদ্রার ওপর জ্ঞানের চোখ এটা অবশ্য আমেরিকান সংস্কৃতির প্যারোডি হিসেবে দেখতেই আমার ভালো লাগে।
তবে এই পিরামিড ইলুমিনাতির পিরামিডের চেয়ে যে কত বেশি ভয়ংকর সে ব্যাপারে কিছু হালকা মেজাজে কথা বলবো।
পিরামিডের ১৩টি ধাপ তাদের তখনকার ১৩ রাজ্যের বা কলোনির প্রতিনিধিত্ব করে। আর তারা আমেরিকার ভিত মজবুত প্রমাণ করতেই মিশরীয় সাংস্কৃতি থেকে পিরামিডকে 
তুলে নিয়ে এই গ্রেট সিলে বসিয়ে দেয়। এখানে অসম্পূর্ণ পিরামিডের মানে আমেরিকা গঠনের কাজ এখনও চলমান। বর্তমানে কোনো দেশে তেল পাওয়া গেলেই তার ওপর হামলা বা ১৩ থেকে ৫০টি রাজ্যে (ভেনুজুয়েলাকে ট্রাম্প পাগলা যদিও আমেরিকার ৫১তম রাজ্য ঘোষণা করে বসে আছে) বেড়ে উঠা তাদের এই অগ্রাসনেরই প্রতিনিধিত্ব করে।
এটার ইলুমিনাতির সাথে সম্পর্ক আসলে তেমনভাবে নেই। যেটা এই সিলের ওপর-নিচের লেখাগুলোই প্রমাণ করে।

ওপরে লাতিনে লেখা Annuit Cæptis [অর্থ: তিনি (সৃষ্টিকর্তা) আমাদের অনুমতি দিয়েছে।] (যদিও সৃষ্টিকর্তা আদতে নেমে এসে তাদের বলেনি তোমরা রেড ইন্ডিয়ানদের মেরে দেশ দখল করো। আমরা তোমাদের মারার অনুমতি দিয়েছি। এটা তাদের নিজস্ব মোটিভ। ক্রুসেডের মোটিভও এটাই ছিল।)

নিচে Novus Ordo Seclorum [অর্থ: নতুন যুগের শুরু] (মানে আমেরিকার নেতাগিরির শুরু আরকি)

তাদের সাংস্কৃতির না গেলেও পিরামিডের মতো এই রোমান ও লাতিনে  লেখার কারণ ছিল ইংরেজি সময়ের সাথে সাথে বদলায় কিন্তু লাতিন অনেকটা সংস্কৃতের মতো এলিটদের ভাষা ছিল যা যুগের পর যুগ তেমনই থাকে।

পিরামিডের নিচের ধাপে লেখা MDCCLXXVI রোমান সংখ্যায় তাদের স্বাধীনতার বছর ১৭৭৬। কাগজে-কলমে আরকি। তারাও মূলত আমেরিকা শাসন করা শ্বেতাঙ্গদেরই বংশধর। সরাসরি না, ফিরিঙ্গি টাইপ। আমেরিকার আসল আদিবাসী ছিল রেড ইন্ডিয়ানরা, যাদের ওপর ভয়ানক নির্যাতন-দমন-নিপিড়নের মাধ্যমেই জন্ম নেয় নতুন আমেরিকা। 

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তাদের গ্রেট সিলে তাদের সংস্কৃতির কোনো উপাদানই নেই। আসলে তাদের কোনো সংস্কৃতি তখনও ছিলই না। তারা ছিল রোমান-লাতিন খ্রীষ্ট সংস্কৃতির ভক্ত শুধু। ধার করতে হয়েছিল মিশর থেকেও। মরতে হয়েছিল অনেক আদিবাসীকে।

মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো