আমেরিকার গ্রেট সিল আর ইলুমিনাতি
এই চোখকে দাজ্জালের না বরং এই চোখকে রোমান ও ফরাসী খ্রিস্টানরা দৈবদৃষ্টি, জ্ঞানের চোখ বা ত্রিনয়ন বলে মনে করতো। তা থেকেই ধার করা হয়েছে এই তিনকোণার ভেতরের আলোকিত চোখ। মুদ্রার ওপর জ্ঞানের চোখ এটা অবশ্য আমেরিকান সংস্কৃতির প্যারোডি হিসেবে দেখতেই আমার ভালো লাগে।
তবে এই পিরামিড ইলুমিনাতির পিরামিডের চেয়ে যে কত বেশি ভয়ংকর সে ব্যাপারে কিছু হালকা মেজাজে কথা বলবো।
পিরামিডের ১৩টি ধাপ তাদের তখনকার ১৩ রাজ্যের বা কলোনির প্রতিনিধিত্ব করে। আর তারা আমেরিকার ভিত মজবুত প্রমাণ করতেই মিশরীয় সাংস্কৃতি থেকে পিরামিডকে তুলে নিয়ে এই গ্রেট সিলে বসিয়ে দেয়। এখানে অসম্পূর্ণ পিরামিডের মানে আমেরিকা গঠনের কাজ এখনও চলমান। বর্তমানে কোনো দেশে তেল পাওয়া গেলেই তার ওপর হামলা বা ১৩ থেকে ৫০টি রাজ্যে (ভেনুজুয়েলাকে ট্রাম্প পাগলা যদিও আমেরিকার ৫১তম রাজ্য ঘোষণা করে বসে আছে) বেড়ে উঠা তাদের এই অগ্রাসনেরই প্রতিনিধিত্ব করে।
এটার ইলুমিনাতির সাথে সম্পর্ক আসলে তেমনভাবে নেই। যেটা এই সিলের ওপর-নিচের লেখাগুলোই প্রমাণ করে।
নিচে Novus Ordo Seclorum [অর্থ: নতুন যুগের শুরু] (মানে আমেরিকার নেতাগিরির শুরু আরকি)
তাদের সাংস্কৃতির না গেলেও পিরামিডের মতো এই রোমান ও লাতিনে লেখার কারণ ছিল ইংরেজি সময়ের সাথে সাথে বদলায় কিন্তু লাতিন অনেকটা সংস্কৃতের মতো এলিটদের ভাষা ছিল যা যুগের পর যুগ তেমনই থাকে।
পিরামিডের নিচের ধাপে লেখা MDCCLXXVI রোমান সংখ্যায় তাদের স্বাধীনতার বছর ১৭৭৬। কাগজে-কলমে আরকি। তারাও মূলত আমেরিকা শাসন করা শ্বেতাঙ্গদেরই বংশধর। সরাসরি না, ফিরিঙ্গি টাইপ। আমেরিকার আসল আদিবাসী ছিল রেড ইন্ডিয়ানরা, যাদের ওপর ভয়ানক নির্যাতন-দমন-নিপিড়নের মাধ্যমেই জন্ম নেয় নতুন আমেরিকা।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তাদের গ্রেট সিলে তাদের সংস্কৃতির কোনো উপাদানই নেই। আসলে তাদের কোনো সংস্কৃতি তখনও ছিলই না। তারা ছিল রোমান-লাতিন খ্রীষ্ট সংস্কৃতির ভক্ত শুধু। ধার করতে হয়েছিল মিশর থেকেও। মরতে হয়েছিল অনেক আদিবাসীকে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন