বাংলা মহাকাব্য
মাইকেল মধুসূদন দত্ত যখন বাংলায় প্রথম মহাকাব্য রচনা করেন তারপর থেকে কবিদের একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কে মহাকাব্য লিখতে পারে, এটা এক বড় যোগ্যতা? এ উন্মাদনা পরবর্তী ৬ দশকের বেশি সময় ধরে চলেছিল। রবীন্দ্রনাথও যে একসময় মহাকাব্য লেখার চিন্তা করেছিলেন সে ব্যাপারে তো সে তার পঞ্চভূতে বলেছেনই। অনেকেই শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সফলতা পেয়েছিলো খুব কম মহাকাব্যই। আমার অনুসন্ধান মতে মাত্র ১২টি। আর মহাকবি মাত্র ৯ জন। তারা হলেন- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিমোহন মুখোপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র সেন, মানকুমারী বসু, মোজাম্মেল হক, কায়কোবাদ, ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও যোগীন্দ্রনাথ বসু।
বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্যের টাইমলাইনকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়।
→ পৌরাণিক মহাকাব্যের যুগ
১৯ শতকের শেষ ৪ দশক (১৮৬১-১৯০০ সাল)
১. মেঘনাদবধ কাব্য-মাইকেল মধুসূদন দত্ত
২. বৃত্রসংহার (দুই খণ্ড)-হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩. মুকুট উদ্ধার-হরিমোহন মুখোপাধ্যায়
৪. বীরকুমার বধ কাব্য-মানকুমারী বসু
৫. রৈবতক-নবীনচন্দ্র সেন
৬. কুরুক্ষেত্র-নবীনচন্দ্র সেন
৭. প্রভাস-নবীনচন্দ্র সেন
(নবীনচন্দ্রের তিন মহাকাব্যতে একসাথে মহাকাব্য ত্রয়ী বলা হয়।)
২. বৃত্রসংহার (দুই খণ্ড)-হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
৩. মুকুট উদ্ধার-হরিমোহন মুখোপাধ্যায়
৪. বীরকুমার বধ কাব্য-মানকুমারী বসু
৫. রৈবতক-নবীনচন্দ্র সেন
৬. কুরুক্ষেত্র-নবীনচন্দ্র সেন
৭. প্রভাস-নবীনচন্দ্র সেন
(নবীনচন্দ্রের তিন মহাকাব্যতে একসাথে মহাকাব্য ত্রয়ী বলা হয়।)
→ ঐতিহাসিক বা আদর্শগত মহাকাব্যের যুগ
২০ শতকের প্রথম দুই দশক (১৯০১-১৯২১ সাল)
৮. হজরত মোহাম্মদ-মোজাম্মেল হক
৯. মহাশ্মশান-কায়কোবাদ (পিডিএফের ৫৪ পৃষ্ঠা থেকে শুরু)
১০. মহাশিক্ষা কাব্য-ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইংরেজ কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিল। কোথাও পাওয়া যায়নি)
১১. পৃথ্বীরাজ-যোগীন্দ্রনাথ বসু
১২. শিবাজী-যোগীন্দ্রনাথ বসু
তাছাড়া, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় কালিদাসের ‘কুমারসম্ভবম্’ মহাকাব্যকে কুমার-সম্ভব নামে অনুবাদ করে।
৯. মহাশ্মশান-কায়কোবাদ (পিডিএফের ৫৪ পৃষ্ঠা থেকে শুরু)
১০. মহাশিক্ষা কাব্য-ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইংরেজ কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিল। কোথাও পাওয়া যায়নি)
১১. পৃথ্বীরাজ-যোগীন্দ্রনাথ বসু
১২. শিবাজী-যোগীন্দ্রনাথ বসু
তাছাড়া, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় কালিদাসের ‘কুমারসম্ভবম্’ মহাকাব্যকে কুমার-সম্ভব নামে অনুবাদ করে।
যদিও আজ আমরা মহাকাব্য বলতে মাইকেলের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-ই চিনি। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের আরো অনেক রত্ন অবহেলায় লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে। এর মধ্যে কয়টা আজও লাইব্রেরীতে পাওয়া যায় আমার জানা নেই। অন্তত আমি তো শুধু লাইব্রেরীতে মেঘনাদবধ কাব্য-ই পেয়েছিলাম।
আমার তালিকায় কিছু মহাকাব্য বাদ পরে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার জানা কোনো নাম আমাকে জানাতে পারেন।তথ্যসূত্র:
- অধ্যাপক সাধনকুমার ভট্টাচার্যের মহাকাব্য জিজ্ঞাসা বইয়ের পরিশিষ্ট অংশ থেকে শিবাজি নামটা পাওয়া গেছে।
- শিরাজী উপন্যাস সমগ্রের ৩১-৩৫ পৃষ্ঠা থেকে ‘মহাশিক্ষা কাব্য’ নামের মহাকাব্যটি যে সমাপ্ত হয়েছিল তা জানা যায়। যদিও তা ইংরেজ কর্তৃক নিষিদ্ধ হবার কারণে আজ বিলুপ্ত। এর আগে নূর পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে এর কয়েকটি সর্গ প্রকাশিত হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় আর্কাইভ ঘাটলে হয়তো তা পাওয়া যেতে পারে।
- এছাড়াও সংস্কৃত সাহিত্যের বিখ্যাত মহাকাব্যগুলোও এখানেরই ফসল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,
২. মহাভারত-ব্যাস
৩. রঘুবংশ-কালিদাস
৪. কিরাতার্জ্জুনীয়-ভারবি
৫. নৈষধ চরিত-শ্রীহর্ষ
৬. শিশুপালবধ-মাঘ
৭. বুদ্ধচরিত-অশ্বঘোষ


খণ্ডকাব্যের তালিকা করলে সে তালিকা মহাকাব্যের তালিকা থেকে আরও অনেক লম্বা হবে। শত ছাড়াবে নিঃসন্দেহে।
উত্তরমুছুন