বাইবেল অনুসারে কেয়ামতের খবর কী?
কেয়ামত নিয়ে আমাদের কতই না মাথাব্যথা। মুসলিম-হিন্দু-খ্রীষ্টান সব ধর্মেই আছে নিজস্ব ব্যাখ্যা। কিন্তু কেউ কোনোদিন অন্য জনের মতের সাথে বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখেনি। আজ আপাতত বাইবেলের ধ্বংসতত্ত্ব নিয়েই আলোচনা করি। ইসলাম আর হিন্দু ধর্ম নিয়ে অনেকেই অনেককিছু ইতিমধ্যে জানে।
ইসলামে যেমন ১০টি বড় আলামত আর অসংখ্য ছোট আলামত আছে তেমন বাইবেলেও আছে দাজ্জাল বা এন্টিক্রাইস্ট বাদে আরও ৭টা সিল (বড় আলামত বলতে পারেন)। চলুন এ বিষয়ে আলোচনা করি।
- ১ম সিল: সাদা ঘোড়া ওয়ালা অশ্বারোহীর আবির্ভাব। তার প্রতীক হবে মুকুট আর সাথে থাকবে ধনুক। সে মিথ্যা শান্তির প্রতিশ্রুতি দিবে। সে বিশ্বজুড়ে বিজয়ের ও শান্তির বার্তা দিবে কিন্তু তা হবে চরম ধোঁকা। (অনেকে এটা দাজ্জালের সাথে মিলাতে পারেন, তবে আমি এর অন্য ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি।)
- ২য় সিল: লাল ঘোড়া ওয়ালা অশ্বারোহীর আবির্ভাব। তার সাথে থাকবে তলোয়ার আর সে পৃথিবীতে নিয়ে আসবে যুদ্ধ ও রক্তপাত।
- ৩য় সিল: কালো ঘোড়া ওয়ালা অশ্বারোহীর আবির্ভাব। তার হাতে থাকবে দাঁড়িপাল্লা আর সে দুনিয়ায় নিয়ে আসবে দুর্ভিক্ষ। তার আভির্ভাবের পর ১ দিনের পারিশ্রমিক দিয়ে মানুষের একবেলার খাবারও জুটবে না। তাই মানুষের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।
- ৪র্থ সিল: সবুজ বা ছাইরঙা ঘোড়া (অনেকে এর ব্যাখ্যা করে মৃতদেহের মত রঙ) ওয়ালা অশ্বারোহীর আবির্ভাব। সে পৃথিবীতে নিয়ে আসবে মৃত্যু ও মহামারি।
এই চার সিল বা আলামত আসবে একসাথে। এদের একত্রে বলে ফোর হর্সম্যান (Revelation 6)। এর পরেরগুলো আসবে একের পর এক।
- ৫ম সিল (Revelation 6:9-11): মাটির নিচ থেকে শহীদদের আত্মা প্রতিশোধ নিতে বেড়িয়ে আসতে চাইবে।
- ৬ষ্ঠ সিল (Revelation 6:12-17): বিশাল ভূমিকম্প হবে। ডুমুরের মত পৃথিবীতে খসে পরতে থাকবে তারারা। সূর্য যেন চট জড়িয়ে কালো হয়ে যাবে; চাঁদ হয়ে যাবে লাল। পৃথিবীর রাজা, ধনী ও শক্তিশালীরা গুহায় আশ্রয় নিবে। আর প্রার্থনা করবে “আমাদের ওপর পাহাড় ভেঙে পড়ুক, তাও সৃষ্টার ক্রোধ থেকে বাঁচি।”
- ৭ম সিল (Revelation 8:1): ধ্বংসের পর কিছুক্ষণের জন্য নেমে আসবে নিরবতা। পৃথিবী পুরোপুরি নিশব্দ হয়ে যাবে। তারপর ৭জন ফেরেশতা ৭টি ট্রাম্পেট (ইসলামে ইসরাফিলের শিঙায় ফুঁয়ের ঘটনার মত) নিয়ে বাঁজাতে থাকবে। আর সেখানেই মানব সভ্যতার সমাপ্তি আর পরকালের শুরু।
ধর্মীয় ভবিষ্যতবাণীগুলো মূলত উপমা নির্ভর হয়। কিন্তু রূপক ভাঙার চেষ্টা করলেই এগুলোর সাথে আপনি মিল খুঁজে পাবেন।
চলুক বাস্তব পৃথিবীর আলোকে মিলানোর চেষ্টা করি।
আমি যদি বলি আমি পৃথিবীর বুকে এই চার অশ্বারোহীকে দেখতে পাচ্ছি তবে কি আপনারা খুব অবাক হবেন?
এখনই অবাক হবার দরকার নেই, আমি যা বলতে যাচ্ছি তা আরও অবিশ্বাস্য লাগতে পারে।
আর নেতানিয়াহুর বিশ্বে শান্তি আনার জন্য জাতিসংঘে উত্থাপন করা ম্যাপ তো তার বিজয়ের নামে দেয়া ধোঁকার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তার গ্রেট ইসরায়েল ম্যাপ।
৩য় অশ্বারোহী-রাশিয়া: যদিও রাশিয়ার অফিসিয়াল পতাকাও আমেরিকার মতো সাদা-নীল-লাল, তবু আমি কেন একে কালো পতাকাধারীদের সাথে তুলনা করছি? কারণ রাশিয়ার বর্তমান পতাকা সাদা-নীল-লাল হলেও এর ঐতিহাসিক পতাকা ছিল কালো। যাকে এখনও রাশিয়ান জাতীয়বাদীরা পছন্দ করে এবং নিজেদের ঐক্যের প্রতীকও মনে করে এই পতাকাকে। পরে এই পতাকার পেছনের শুধু লম্বা দাগ তিনটাকে পতাকা বানানো হয়েছে। আরো একটা দেখার মত বিষয় তাদের প্রতীকের ভেতরে ঘোড়াও ছিল আগে। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে হঠাৎ করে তেল-কয়লা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে প্রায়ই অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতে ধ্বস নামিয়ে দেয়। মনে আছে তো তাদের প্রতীক যে দাঁড়িপাল্লা? সোশিয়ালিজমের সাথে মিল পাচ্ছেন কোনো?
৪র্থ অশ্বারোহী-চীন: যদিও চীনের অফিসিয়াল পতাকাও লাল-সাদা তবে তাদের প্রতীক ড্রাগনকে কিন্তু বানানো হয় সবুজ বা ছাই রঙা। কিংবা তাদের ঐতিহাসিক ড্রাগন ফ্ল্যাগও মরা-মরা রঙের। এজন্যই কী চীনকে ৪র্থ অশ্বারোহী বলা ঠিক হবে? না, কখনোই না। তবে তাদের বায়ো উয়েপেন (জীবাণু অস্ত্র) কিংবা তাদের থেকে বারবার ছড়ানো বিভিন্ন মহামারিই বাধ্য করছে তাকে ৪র্থ অশ্বারোহী ভাবতে। তাছাড়া সাইবার এটাকের কথা আসলে তারা অপরাজেয়। সরাসরি যুদ্ধের তত একটা রেকর্ড না থাকলেও অনেক যুদ্ধেই গোপনে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
এই চার অশ্বারোহীর একসাথে কিন্তু উত্থান সম্পন্ন হয়ে গেছে, যেমনটা ভবিষ্যৎবাণীতে ছিল। পৃথিবীর বুকে কয়েক দফা দুর্ভিক্ষ গেছে। আরও হয়তো আসছে।
এবার ৫ম ভবিষ্যতবাণীতে আসা যাক। মাটির নিচ থেকে শহীদদের আত্মা প্রতিশোধ নিতে বেড়িয়ে আসতে চাইবে। মানে জাতীয়তাবাদের উত্থান হতে শুরু করবে। এই অশ্বারোহীরা যাদের অত্মাচার করছিল একদিন তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। উদাহরণ দেখতে চাইলে ফিলিস্তিন, লেবানন, আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, ইউক্রেন, ইরান কিংবা তাইওয়ানের দিকে তাকান।
৬ষ্ঠ ভবিষ্যৎবাণী এখনও আদতে শুরু হয়নি। এটাই সুখের কথা। তবে এটা খুব একটা অবাস্তব যে এমনও বলা যায় না। ঐ যুগের মানুষকে পরমাণু হামলার ব্যাপারে বোঝাতে এর চেয়ে সুন্দর উপমা আর কি হতে পারে? চিন্তা করুন, আকাশ থেকে একের পর এক ওয়ারহেড নামের তারা খসে পরছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাষ্প হয়ে গেল লাখ লাখ মানুষ। শুধু মাটিতে পরে থাকলো তাদের ছায়া।পরমাণু হামলার কারণে রেডিওএক্টিভ কণাগুলো গিয়ে জমা হবে স্ট্যোটোস্ফিয়ারে। যেহেতু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনেক বেশি তাই আমাদের পর্যন্ত যে আলো পৌঁছাবে তার রং হবে লাল। যদিও তা শুধু চাঁদের না, সূর্যের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। আকাশ ঢেকে যাবে বিষাক্ত কালো মেঘে, সূর্য কালো চটে ঢেকে যাবার বর্ণনার মতই অনেকটা। এখান থেকে যে তেজস্কৃয়তা বের হবে এবং তা থেকে নেমে আসা নিউক্লিয়ার উইন্টার আর এসিডের বৃষ্টি থেকে বেঁচে ফিরবে খুব কম মানুষই। যারা বেঁচে থাকবে তারাও মারা যাবে ক্যান্সারের মত প্রাণঘাতি রোগে কয়েক বছরের মধ্যেই।
যাই হোক, পৃথিবী থেকে মানবজাতিকে মিটিয়ে দিতে বর্তমানের প্রচলিত আকারের কতগুলো নিউক্লিয়ার বোমা লাগবে জানেন? পরিসংখ্যান বলছে ১০০-৪০০ নিউক্লিয়ার বোমা মানব সভ্যতাকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে যথেষ্ট। তবে এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যারা রেঞ্জের বাহিরে থাকবে তাদের শরীরে ধীরে ধীরে রেডিও এক্টিভ কণা জমবে, ক্যান্সার হবে, তারপর ধুকে-ধুকে মরবে। কিন্তু পৃথিবী থেকে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মানুষকে মুছে করে দেয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে খরচ করতে হবে ৫০০ থেকে এক হাজারের কিছু কম-বেশি নিউক্লিয়ার অস্ত্র।
জানেন পৃথিবীতে এই চার দেশের কাছে কি পরিমাণ পরমাণু হাতিয়ার মজুদ আছে? সর্বশেষ তথ্যমতে, রাশিয়ার কাছে ৫৪৫৯টি, আমেরিকা ৫১৭৭টি আর চীন ৬০০টি পরমাণু হাতিয়ার আছে। ইসরায়েল যেহেতু অফিসিয়ালি দাবী করে তাদের কাছে পরমাণু হাতিয়ার নেই কিন্তু বাস্তবে আছে তাই ওদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে একেক পর্যবেক্ষণে একেক মত উঠে আসে। তাই সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব না। তবে ধারণা করা হয় সংখ্যাটা শতাধিক। তারা এখানেই থেমে গেছে এমন নয়। যেসব দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে তারা তাদের অস্ত্রসংখ্যা বাড়িয়েই চলেছে। এখন আমার মত আপনার মনেও প্রশ্ন আসতে পারে আমেরিকা ও রাশিয়ার তাৎক্ষণিক ৫টা পৃথিবী থেকে মানুষকে মুছে দেয়ার বা চীনের অর্ধেক দুনিয়ার মানুষকে উড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা থাকার পরও তাদের নতুন করে অস্ত্র বানানোর দরকার কী? তারা তো এই অস্ত্রগুলো ব্যবহারই করতে পারছে না।
এবার বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই পরমাণু বোমা পরীক্ষা করার পর বিজ্ঞানী ওপেনহাইমার দুঃখী স্বরে সংস্কৃতের গীতার ১১তম অধ্যায়ের ৩২ নম্বর সেই বিখ্যাত শ্লোকটি কেন আউড়ে ছিল।
বিশ্বের ধনীরা যে বাঙ্কার তৈরি করতে শুরু করেছে তার কারণও এটাই। মার্ক জুকার্বার্গের বাঙ্কারের নকশা ফাঁস হওয়া নিয়ে তো কত কাহিনীই হলো। স্পেস এক্স চেষ্টা করছে বেঁচে থাকার অনুপযুক্ত মঙ্গল গ্রহে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে মানুষের ব্যাক-আপ রাখার ব্যাপারে। কেন এই পন্ডশ্রম? শুধুই কি বিজ্ঞানের অগ্রগতি? নাকি নিজেদের আগ মুহুর্তে পৃথিবী থেকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা? পৃথিবীর দিকে কী এগিয়ে আসছে মহাপ্রলয়? একটা না সব ধর্মগ্রন্থ মতেই কিন্তু পৃথিবীর ধ্বংস আসন্ন।
ডায়নোসরের মত মানুষের বিলুপ্তিও কি সময়ের ব্যাপার? মানুষের কবরের ওপর দাঁড়িয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিবে নতুন কোনো জীবপ্রজাতি অথবা তারাই পুনর্জন্ম লাভ করবে শুরু হবে শেষ বিচার? সব সময়ই বলবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন