ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘আগুনের গান ও অন্যান্য’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

বিষকন্যা (প্রাচীন সিন্ধু অঞ্চলের মানব অস্ত্র)

 

প্রাচীন ভারতে 'বিষকন্যা' বলে একটা কনসেপ্ট ছিল। কোনো রাজা তাঁর প্রতিপক্ষ শিবিরে পাঠিয়ে দিতেন এই বিষকন্যাদের। তারা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন মানব অস্ত্র কোনো ঢাল-তলোয়ার নেই, নেই কোনো যুদ্ধ; একটা চুমুই কেড়ে নিত শত্রুর প্রাণ। প্রাচীন সাহিত্যে এর বর্ণনা পাওয়া গেলেও এই নিঁপুণ খুনীদের ইতিহাসে পাওয়া দুঃসাধ্য চাণক্যের চন্দ্রগুপ্তকে বাঁচানোর গল্প এই তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয়রাজা পর্বতকের হয়ে তাঁর প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী) রাক্ষস (তার নাম আসলেই রাক্ষস ছিল, নাকি লিপিকার গালি দিয়েছে কে জানে?) প্রতিদ্বন্দ্বী রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে হত্যার ছক কষেন। কিন্তু চাণক্য তা ধরে ফেলেন এবং সেই বিষকন্যার মাধ্যমে স্বয়ং পর্বতককেই সরিয়ে দেন।
চাণক্য বিষকন্যা কনসেপ্টটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলো
 ঐ সময়ে বিশেষ বিশেষ কিছু নক্ষত্রে জন্ম নেওয়া রূপসী মেয়েশিশুদের বিষকন্যা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয় বলে শোনা যায় অর্থশাস্ত্রে বিষ নিয়ে আরেকটি কনসেপ্ট আছে এমন এক গোপন বিষের, যাতে বিভিন্ন বিষের মিশ্রণে তৈরি এই বিশেষ মিশ্রণের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হলেও তা বোঝা যাবে না। ঠিক সাধারণ মৃত্যুর মতোই কয়েকদিন পর মানুষ মারা যায়, আর দশটা সাধারণ মানুষের মৃত্যুর সাথে যে মৃত্যুর কোনো তফাৎ নেই

বিভিন্ন শাস্ত্রে বিষকন্যা নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন সময় দেখা যায় সেখান থেকেই এসেছে এসব তিথিতে জন্ম নেয়া মেয়েরা অমঙ্গল বয়ে আনে এমন ধারণা যেমন:

द्वितीया सप्तमी द्वादश्यां तिथौ जाता कन्यका

आश्लेषा कृत्तिका शतभिषासु विषकन्या प्रकीर्तिता

দ্বিতীয়া, সপ্তমী বা দ্বাদশী তিথিতে আশ্লেষা, কৃত্তিকা বা শতভিষা নক্ষত্রে জন্মালে সে বিষকন্যা।

शनिवारे भरण्यां मङ्गले विशाखया

आदित्ये कृत्तिकायां विषकन्या प्रकीर्तिता

শনিবারে ভরণী, মঙ্গলবারে বিশাখা অথবা রবিবারে কৃত্তিকা নক্ষত্রে জন্ম হলে বিষকন্যা যোগ আছে

लग्ने शनिश्च पञ्चमे रविः नवमे कुजो यदि

विषकन्या भवेत् कन्या पतिनाशकरी स्मृता

লগ্নে শনি, পঞ্চমে রবি ও নবমে মঙ্গল থাকলে সেই কন্যাকে বিষকন্যা বলা হয়েছে।

 

द्वादशी रविवारेण चित्राश्लेषा तथा शनि

द्वितीया कृत्तिका चैव सप्तमी भौम विशाखा

দ্বাদশী তিথি রবিবারে বা শনিবারে চিত্রা ও আশ্লেষা নক্ষত্র, দ্বিতীয়া তিথিতে কৃত্তিকা নক্ষত্র এবং সপ্তমী তিথি মঙ্গলবারে বিশাখা নক্ষত্রে জন্ম নিলে বিষকন্যা যোগ

৩৬৫ দিন ও ৭ দিনের তালিকায় এই বিশেষ বিশেষ দিনগুলোর এত কম যে সহজেই অনুমান করা যায়, এনাটমি না জানা থাকার কারণে কত মেয়ে শিশু এই প্রক্রিয়ায় বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছিল আর তারা কতটা দুর্লভ ছিল

চিকিৎসা শাস্ত্রে বিষের ব্যবহার অনেক পুরোনো যার প্রভাব চিকিৎসাসেবার প্রতীকেও স্পষ্ট সম্ভবত, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিষের ব্যবহারের সময়ই সিন্ধু উপত্যকায় বিষকন্যা কনসেপ্টটিও জন্ম নেয়হতে পারে কেউ চন্দ্রবোড়ার মতো কোনো সাপের বিষ ভুলবশত খাওয়ার পরও বেঁচে গিয়েছিল। (কারণ পাকস্থলির পক্ষে এসব বিষ আর দশটা প্রোটিনের মতোই এটা শুধু তখনই বিষক্রিয়া করে যখন রক্তে মিশে যায়) তারপর শুরু হলো, এই বিশেষ বিষ কে হজম করতে পারবে, তা নিয়ে গবেষণা। সে যুগে যাদের অন্ত্রে বা পাকস্থলীতে কোনো ক্ষত বা প্রদাহ (আলসার) ছিল, বিষ সরাসরি রক্তে মিশে তারা মারা গেল। কিন্তু প্রাচীনরা যেহেতু অ্যানাটমির (শারীরস্থান) এত বিস্তারিত জানত না, তারা হিসাব কষেছে পঞ্চতন্ত্র বা জ্যোতিষশাস্ত্রের বিচারে কোন নক্ষত্রের মানুষ বেশি বেঁচে ফিরছে। ফলে তারা জ্যোতিষশাস্ত্রে হিসাব কষছিল কোন নক্ষত্রের নারীদের দিয়ে এ কাজ করানো যাবে

হঠাৎ করে কাউকে এই বিষ খেতে বললেই হয়তো তার শরীর তা গ্রহণ করবে না, কিংবা বিষ পরিপাকে যেন সমস্যা না হয়; তাই অনেক আগে থেকেই তাদের অল্প অল্প বিষ খাইয়ে প্রস্তুত করা হতো।

নিজের অজান্তেই তারা বিজ্ঞানের এক ভয়ঙ্করতম দিগন্তের সন্ধান পেয়ে গিয়েছিল। ওই নিয়মেই তারা জন্ম দিত বিষকন্যাদের, যারা যখন চাইত তখনই বিষ মুখে নিয়ে বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারত। Zviv cy‡iv‡bv ¶Z wKsev Zv‡`i b‡Li AvP‡o bZyb ¶Z ˆZwi K‡i Zv‡Z Pygyi gva¨‡g jvjvq লুকানো wel XywK‡q w`Z Kvw•LZ e¨w³i kix‡i| Mí-Dcb¨v‡m †hgb welKb¨viv memgq welv³ _vকে, তাদের স্পর্শেই যে কেউ মারা যাবে, Ggb bv welqUv| গুপ্তচরবৃত্তিতে এটি ছিল ভয়ংকরতম অস্ত্র যে রাজার সাথে পারছে না তার জন্য সন্ধি উপহার হিসেবে কোনো নারী যা ঐ আমলে খুব সাধারণ ছিল কিন্তু অনেক সময় ঐ নারীরা সাধারণ রক্ষিতা, দাসী বা নর্তকীর চেয়ে বেশি কিছুও হত যাদের ওপর প্রয়োগ করা হতো তার লোকেরাই ব্যস্ত হয়ে পড়তো সে চিহ্ন মুছতে কারণ এখানে সম্মানের বিষয় জড়িত ছিল

এটা অবশ্য আমার ব্যাখ্যা। তবে বিষকন্যার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাখ্যা হলো, আয়ুর্বেদে যেসব বিষ অল্পমাত্রায় ক্ষতি করে না, ঐসব মেয়েদের দেহে অল্প অল্প করে মাত্রা বাড়িয়ে বছরের পর বছর ধরে তাদের বিষ সহ্য করার ক্ষমতা বাড়াতো। একসময় তারা এতটাই বিষ সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করতো যা অনেকটা বিষধর সাপের মতোই।

এই বিষকন্যা কনসেপ্টটা আমার ভবিষ্যতের বই “হাতিয়ার হাতিম হত্যার হাতিয়ার”-এর থিম হতে চলেছে। 

মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো