পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘আগুনের গান ও অন্যান্য’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

জিডিপি বৃদ্ধি মানেই কী উন্নতি?

ছবি
জিডিপি বাড়া নিয়ে সরকার হইচই করে। সব দেশের সরকারই করে। কিন্তু এটা আসলে একটা প্রোপাগান্ডা। হ্যা, ঠিকই শুনেছেন, Gross Domestic Product (GDP) বাড়ছে বলে প্রতিটা দেশের সরকার রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা চালায়। আবার বড় দেশগুলোও আমাদের জিডিপি বেশি মানে আমরা অনেক উন্নত এমন একটা ধারণা জনমনে গেথে দেয়।  আসলে Gross Domestic Product (GDP) এর মানে হলো, ঐ দেশের সীমানার ভেতরে বছরে কত টাকার প্রোডাক্ট তৈরি হলো। নিশ্চয়ই ভাবছেন তাহলে এই প্রোডাক্ট উৎপাদন বাড়লে ক্ষতি কী? এটার বৃদ্ধিই তো উন্নতি। বিষয়টা আসলে এত সহজ না। আসলে ডলারের মানটা বাড়লেই যে উৎপাদন বেড়েছে তা কিন্তু নয়। হতে পারে, মূদ্রাস্ফীতির কারণে বা জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সংখ্যাটা বেড়েছে কিন্তু আসল উৎপাদন ক্ষমতা বাড়েনি। মাথাপিছু আয় বাড়লে? মাথাপিছু আয় হলো, জনসংখ্যা দিয়ে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)-কে দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যা আসে। মানে গড়ে প্রতিটা নাগরিক কত টাকার পণ্য উৎপাদন করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাটাতো গেল, কিন্তু মূল্যস্ফীতি এখনও রয়ে গেছে। চলুন, আজ হিসাব করবো, সত্যিই একটা দেশের কতটা উন্নতি হয়েছে। আমি এ বিষয়ে একটা সূত্র ধার করানোর চেষ্টা করছি। তার...

সংস্কৃত যুগের হারিয়ে যাওয়া এক ছন্দ

গত কয়েকদিন বিভিন্ন ধরনের ছন্দ নিয়ে লেখছি। একটা ছন্দ নিয়ে না লেখলে এই ছন্দ বিষয়ক লেখাটা হয়তো অপূর্ণই থেকে যাবে। বঙ্কিম থেকে রবীন্দ্রনাথ ঐসময়ের সব এলিট সংস্কৃত পাঠকের মনে দাগ কাঁটা এক ছন্দ- মন্দাক্রান্তা। বাংলায় নামের অর্থ দাঁড়ায় মন্থরগতির ছন্দ।  এই ছন্দে লেখা কবিতা চাইলেই দ্রুত পড়তে পারবেন না, তাই এমন নাম। এই মন্থরগতি  দুঃখকে   অনেক ভারি করে তুলতে পারতো। কিন্তু এই ছন্দের পূজো করলেও কেউ পুরোপুরি এই ছন্দটাকে বাংলা সাহিত্যে নিয়ে আসতে পারেনি। এর কারণ বলা হয়, বাংলা অনেক সরল ভাষা। রবীন্দ্রনাথ মন্দাক্রান্তার অনুকরণে নিজস্ব ছন্দ তৈরির চেষ্টাও করেছিলেন। যেখানে রবীন্দ্রনাথের সেই ছন্দ মন্থর হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু  মন্দাক্রান্তা  ছন্দ কাঠামোর সাথে তার হুবুহু মিল ছিল না। যদিও রবীন্দ্রভক্তরা দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ আগের  মন্দাক্রান্তা ছন্দের  নিয়ম ভেঙে মন্দাক্রান্তা ছন্দকে বাংলায় নতুন রূপ দিয়েছে। আসল মন্দাক্রান্তা ছন্দের দল সংখ্যা  মন্দাক্রান্তা ছন্দ সংস্কৃতের এক জটিল ছন্দ। ব্যাকরণে খুব কড়াকড়ি। বর্তমানের হিসেবে স্বরবৃত্তের একটা ক্যাটাগরি। ছন্দের হিসেবে ১৭ দলে...

কোন সাহিত্যের কবিতার নিজস্ব স্টাইল কোনটা?

বাংলা সাহিত্যের কবিতা সিগন্যাচার স্টাইল বা নিজস্ব স্টাইল হলো পয়ার। প্রতিটা সাহিত্যেরই একটা না একটা সিগন্যাচার স্টাইল থাকে। এখানে বলে দেই, পয়ার কবিতা হলো ১৪ অক্ষরের লাইন নিয়ে গঠিত কবিতা। আরো বিস্তারিত লিখেছি “ কখন একটা লেখা কবিতা হয়ে উঠে? ” ব্লগে। এখানে আর সে বিষয়ে বলবো না। আজ অন্যান্য সাহিত্য নিয়ে লিখতে বসেছি। বাংলায় সেগুলোর উদাহরণ দেয়ারও চেষ্টা করবো। কোথাও কোথাও নিজেও লিখে দেখাবো। গ্রিক সাহিত্য: এপিক বা মহাকাব্যের জন্ম এই সাহিত্যেই। এপিলিয়ন নামের সংক্ষিপ্ত মহাকাব্যও তাদের সিগন্যাচার স্টাইল। গ্রিক মিথোলজিকে আজও টিকিয়ে রাখতে বড় অবদান আছে এসব মহাকাব্যগুলোর। এত বিশাল উদাহরণ দেয়া তো সম্ভব না। বাংলা সাহিত্যের এপিক ‘মেঘনাদবধ কাব্য’। আর বাংলা সাহিত্যের প্রথম এপিলিয়ন আমার ‘সিলেট জয়ের নৈপথ্যে’ হবে। এটা বাংলা সাহিত্যে এখনও আসেনি। বাংলা মহাকাব্য বিষয়ে আরও বিস্তারিত আগেই লিখেছিলাম। চাইলে এই লিংক থেকেই পছন্দমতো অন্য কোনো বাংলা মহাকাব্য ডাউনলোড করে পড়ে দেখতে পারবেন। ইতালীয় সাহিত্য: সনেট হলো, ইতালীয় সাহিত্যের সিগন্যাচার স্টাইল। খুব সহজ ভাষায় যদি বলি, সনেট হলো ১৪ লাইনের একটা মিত্রাক্ষর কবিতা, যা...

সোনালী ব্যাগ কী আসলেই বাঙালি গবেষকের আবিষ্কার বলে মূল্যায়ন হয়নি?

ছবি
সোনালী ব্যাগ। বাঙালির এক আজব আবেগ। যারা এই ব্যাগ নিয়ে আবেগী মন্তব্য করেন যে বাঙালি গবেষকের আবিষ্কার বলে মূল্যায়ন হয়নি তারা প্রত্যেকে কিনলেইতো ব্যাগটা সুপারহিট হয়ে যেতো। এটা নিয়ে কখনোই কোনো কথা বলিনি, তবে আর নিতে পারছি না। গবেষককে ছোট করা এখানে উদ্দেশ্য না, উদ্দেশ্য এটা কেন সফল হয়নি তা বলা। খবরের কাগজে যে কত পরিমাণ এত ব্যাগ নিয়ে প্রচারণা, কান্নাকাটি দেখেছি আল্লাহই ভালো জানেন।  যেমনটা খবরগুলোতে প্রচার হয়েছে আসলেই কি এটা পলিথিনের বিকল্প ছিল? আচ্ছা, তার আগে বলুন, আপনি পলিথিন ব্যবহার করেন কেন? আচ্ছা, আমিই বলি। দুটো কারণে। এক, কোনো কিছুকে পলিথিন পানি থেকে দূরে রাখে আর দুই, সস্তা। আপনি এজন্য পলিথিন কিনেন না যে এটা স্বচ্ছ। এবার আসি এটা কেন বিকল্প হতে পারেনি। প্রথমত এটা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। মানে পলিথিনের যে সুবিধার জন্য আপনি এটা ব্যবহার করবেন, ঐটাই ছিল এই সোনালি ব্যাগের বড় দূর্বলতা। কিন্তু এটাকে এমনভাবে নিউজ করা হয়েছিল যেন এটাই তো আমরা চেয়েছিলাম। পানিতে গলে যাক, মাটিতে ১০০ বছর পরেতো আর থাকবে না। কিন্তু এটাকে স্বচ্ছ করতে ব্যবহৃত রাসায়নিক মাটির জন্য ঠিকই ক্ষতির কারণ হতো। তাই ইউন...

মক্কা প্যাক্ট কী? যোগ দিলে কার কী লাভ?

ছবি
মক্কা জোট একটা সামরিক প্রতিরক্ষা জোট। বড় দেশগুলো থেকে নিজেদের নিরাপত্তা দিতে এসব জোট গঠন করা হয়। সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইউরোপের ন্যাটো। (ন্যাটো শুধু সামরিক জোট নয়। সামরিকের পাশাপাশি অন্যান্য যৌথ সেবাও দেয় সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের।) প্রথমেই স্পষ্ট করছি, এটা প্রতিরক্ষার জোট। কোনো দেশ এ জোটের কোনো দেশে আক্রমণ চালালে প্রত্যেকটা দেশ সর্বসম্মতিতে তার প্রতিরক্ষায় সেনা পাঠাবে। জোটের কোনো দেশ নিজেই গিয়ে যুদ্ধ বাঁধালে সহায়তা করবে না। তুরস্ক মক্কা জোটে সদস্য সংখ্যা মাত্র তিনটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বলার পর থেকেই অনেক মুসলিম দেশ তাকে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে বিশ্বে এই জোটে অংশ নিতে পারে বলে আলোচনায় বাংলাদেশ, ইরান ও মিশর। ইরান ও বাংলাদেশ সরাসরি যোগ দিতে আগ্রহী। মিশরও বলেছে তারা যোগ দেয়ার বিষয়ে ভাবছে। ইরান-সৌদি এক জোটে চলে এলে শিয়া-সুন্নির দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ভেঙে সব মুসলিম দেশ যে তাতে যোগ দিতে চাইবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া বিশ্বে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের কারণে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। যার কারণে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ইসরায়েল ও ভারতের গণমাধ্যম। বাংলাদেশ এ জোটে চলে গে...
FS Quote