ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘আগুনের গান ও অন্যান্য’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

একটা ভয়

 আমি ভয় পাই। স্রষ্টাকেও পাই, মানুষকেও পাই। কারণ আমি মানুষকে বুঝতে পারি না।
উদাহরণ হিসেবে আমার অপ্রকাশিত ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ বইয়ের এই কবিতার কথাই ধরতে পারেন।

গড কমপ্লেক্সের মিথ্যে স্বপ্নের পথে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে,
নিজেকে স্রষ্টা করে, নিজের স্বর্গ নিজেই বানাচ্ছে।
বলা হচ্ছে কিছুই করতে হবে না তোমাদের,
কাজ রোবট আর এআই করবে আমাদের।
মানুষ সময় হারাচ্ছে, কাজ হারাচ্ছে
কিন্তু হচ্ছে না হুশ। সবাই বেহুশ। 
যখন ধনকুবেরদের শ্রমিক দরকার হবে না,
তখন আমরা হবো শুধু অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা।
যদি তাদের সব সমস্যা সমাধানের থাকে প্রেরণা
সমাধান এখন থেকেই তবে কেন শুরু করছে না??

কিছু মানুষ ধরে নেয় এসব নিছক কল্পনা। আরে এআইতো আমরা ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারছি। তারা এটা আমাদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচে বানিয়েছে এমনটাই যদি আপনি ভেবে থাকেন তবে বলবো স্বপ্ন থেকে জেগে উঠুক। এআই আসার পর বিপুল পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন যন্ত্র কায়িক শ্রম ও মেধাশ্রম দুই কাজেই দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই পৃথিবীর এখন আর এত মানুষের প্রয়োজন হবে না। যাদের টাকা আছে শুধু তারাই বেঁচে থাকবে, মানে পুঁজিবাদী বা ধনকুবেররা। 

 ইয়াহু ইতমধ্যে খবর প্রকাশ করেছে পৃথিবী থেকে ৪ বিলিয়ন মানুষ কমিয়ে দেয়া উচিত। আর আমরা আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বৃত্তে। তাই পৃথিবীর পরবর্তী বিপর্যয়গুলো আমাদের কেন্দ্র করেই হতে যাচ্ছে।


২০১৩ সালের দিকে ভ্যালেরিপিয়ারিস ছদ্মনামে কেন মায়ার্স নামের এক শিক্ষক প্রকাশ করে এমন এক মানচিত্র যার ক্ষেত্রফল পৃথিবীর ১০ শতাংশের কম হলেও ৫০% এর বেশি মানুষ সেখানেই আছে। এই বৃত্তটিকে তাই ‘ভ্যালেরিপিয়ারিস সার্কেল’ নাম দেয়া হয়। এই সীমানায় আছে মিয়ানমার, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশের অংশবিশেষ। বৃত্তের কেন্দ্রে আছে মিয়ানমারের মং খেত জায়গাটি।

এই ম্যাপটি প্রকাশ পাবার পর থেকে সবার নজর এই অঞ্চলগুলোর ওপর। বিষয়টা আশ্চর্যজনক না? কারো যদি থানোসের মতো অর্ধেক জনসংখ্যা গায়েব করে দেয়ার ইচ্ছে থাকে তবে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা এটাই। করোনা ভাইরাসের জন্মও এই বৃত্তেই। বিষয়টা কী কাকতালীয়? ব্রিটিশ প্রফেসরের করোনা ভাইরাস ল্যাবে তৈরি দাবীটি কি একেবারেই উড়িয়ে দেয়ার মতো?
আচ্ছা, আপনার কী মনে হয়, থানোসের হাফ পপুলেশন গায়েব করে দেয়ার কনসেপ্টটা কোথ থেকে এসেছে?

পৃথিবীর নিকটবর্তী সময়ে যত বিপর্যয় আসবে, তা হবে মূলত মানবসৃষ্ট। বিজ্ঞানীরা বলেন ৬ষ্ঠ গণবিলুপ্তি বা 6th Mass extinction events। গণবিলুপ্তি (Mass extinction) হলো, এমন বিশাল বিলুপ্তি যাতে কমপক্ষে ৭৫% প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের দাবী, পৃথিবীর পরবর্তী গণবিলুপ্তি দুনিয়াব্যাপী আগ্নেয়গিরি বিষ্ফোরণ, জলোচ্ছাস, উল্কাপাত, গ্রহের সংঘর্ষ, কসমিক রেডিয়েশন বা টেকটনিক প্লেটের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে হবে না, এই বিলুপ্তির কারণ হবে মানুষ নিজেই। আর এটাই হবে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে বড় গণবিলুপ্তি। এতে পৃথিবীর ৯০ শতাংশের বেশি প্রজাতি বিলুপ্তি হবে বলে ধারণা করা হয়। যার মধ্যে অগণিত প্রজাতি আমরা ইতমধ্যে বিলুপ্ত করেও দিয়েছি।


 এগুলো কী শুধুই আমার কল্পনা? নিচের খবরগুলো দেখুন-

করোনার এত ঘন ঘন মিউটেশনে পরিবর্তন ঘটেছে যা কোনো প্রাকৃতিক জীবদেহের ক্ষেত্রে হয় না। কারণ মিউটেশন বিবর্তনের একটা লক্ষ বছর ব্যাপি চলতে থাকা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। 
চীন, জাপানের মতো দেশগুলো কিন্তু আসন্ন ঝড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর কিছুটা পিছিয়ে থাকা ভারত-বাংলাদেশের মতো দেশগুলো এখনও কামড়াকামড়িতেই ব্যস্ত...
`গেম অব থ্রোনস’ স্টাইলে বললে-



মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো