প্রসেসর-ডিজিটাল ডিভাইসের মগজ
চলুন, আজকে আইসিটি শিখাই। ফোন বা কম্পিউটার কিনেছি বলে প্রসেসর জিনিসটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। জিনিসটা কী আর কেন গুরুত্বপূর্ণ আজ সে বিষয়ে বলবো।
কম্পিউটার বা ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের একটি, প্রসেসর। নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে- যে সবকিছু প্রসেস করছে। এটা আবিষ্কার না হলে কোনোদিনই কম্পিউটারে কোডিং করা যেতো না। মানে আমরা যেমন সুইচ অন-অফ করতে পারি, কম্পিউটারেও শুধু তাই করতে পারতাম। কঠিন কোনো কাজ তাকে দিয়ে করানো যেত না। আদিকালের অ্যাস্ট্রোল্যাব আজও কম্পিউটারের চেয়ে অনেক অত্যাধুনিক যন্ত্র হয়ে থাকতো।
আমরা যখন কিছু লেখি বা ছবি তুলি তখন তাকে কম্পিউটার ০ আর ১ হিসেবে ভাগ করে নেয়। আসলে কম্পিউটার ০ আর ১ ছাড়া কিছু বুঝেই না। ০ মানে অফ আর ১ মানে অন, শুধু এটুকুই বোঝে কম্পিউটার। তবে সে কোন তথ্যটাকে কোন ফর্মেটে ভাগ করবে তা আমরাই শিখিয়ে দিয়েছি। সে ব্যাপারে পরে বলছি।
এই ০ আর ১ যখন একের পর এক প্রসেসরের ভেতর দিয়ে যায় তখন সে ঐ ০ আর ১ এর প্যাকেট দেখে বুঝে নেয় কি করতে হবে।
ধরুন আপনার প্রসেসরটা ৩২ বিটের। মানে তার প্রতিটা প্যাকেট ৩২টা ০ আর ১ নিয়ে গঠিত। যদি ৬৪ বিটের হয় তবে প্রতিটা প্যাকেটে ৬৪টা বাইনারি ডিজিট রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো এত ডিজিটের প্রয়োজন কেন হলো?
- আসলে ইউনিকোড টেক্সট ফন্ট (UTF-8) 2²⁰টি বা ১০ লক্ষের বেশি অক্ষর আছে।
- আপনার ডিভাইস RGB মুডে চললে লাল, নীল ও সবুজকে মিক্স করে =2⁸ টি বা ২৫৬টি আলাদা আলাদা রঙের বক্সে বা পিক্সেলে রূপান্তর করে (কোনো ছবি অনেক বেশি জুম করলে বক্সগুলো দেখতে পাবেন), এই হাজার হাজার পিক্সেল জোরা লেগেই একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি হয়।
- অক্ষর, সংখ্যা ও ছবির মতো অডিওর 2¹⁶টি বা ৬৫,৫৩৬টি শব্দাংশ আলাদা আলাদা করে চিনতে পারে প্রসেসর। জানেন আমরা একটা গান শোনার সময় 44.1kHz বা প্রতি সেকেন্ডে ৪৪,১০০ টি আলাদা আলাদা শব্দাংশ বাজছে। যাদের প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা বাইনারি কোডের প্যাকেট।
কিন্তু ইউনিকোড চায় ভবিষ্যতে পৃথিবীর সব ভাষার সব বর্ণমালা যুক্ত করতে। তাছাড়া কিছু গবেষক চান ভবিষ্যতে প্রতিটা গন্ধও আলাদাভাবে কম্পিউটার চিনতে পারুক, এজন্য তারা উপায় বের করেছে ৬৪ বিটের।
- 2³² বিট=2²⁹ বাইট=0.5 GB প্রসেস করতে পারতো ৩২ বিটের প্রসেসর।
- 2⁶⁴বিট=2⁶¹ বাইট=2 EB=2×1024×1024 TB প্রসেস করতে পারবে ৬৪ বিটের আধুনিক প্রসেসর।
তবে সমস্যাও বেড়েছে। আগের প্রসেসরের প্রসেস করা ডাটা জমা করতে যদি ৪ জিবি র্যাম লাগতো, এখন একই কাজ করতে লাগবে ৮ জিবি। কারণ আগে ম্যামরিতে জমা হতো ৩২ টি বাইনারি ডিজিট, এখন জমা হবে ৬৪টি। তবু এই প্রসেসর মাত্র ২ গুণ ম্যমরি ব্যবহার করে কাজের গতিকে করে তুলেছে লক্ষ গুণ দ্রুত।
প্রত্যেকটাকে প্যাকেটকে আলাদা আলাদা করে চিনিয়ে দিয়েছে প্রোগ্রামাররা। কোনটাকে কি ধরতে হবে তাই বুঝতে লক্ষ লক্ষ ট্রানজিস্টরের জটিল বিন্যাসে তৈরি হয় এই প্রসেসরগুলো।
আমরা আমাদের ডিভাইসে যা কিছু করছি সব মূলত এই ৩টা প্রধান কাজই করে। লেখা, ছবি ও শব্দ। এভাবেই আমরা একটা যন্ত্রকে আমাদের সব কাজ করাতে সক্ষম হয়েছি। উদাহরণ হিসেবে ভিডিওর কথাই ধরতে পারেন। ভিডিওতে একইসাথে তিনটা ফরমেটই কিন্তু কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ভিডিওর ক্ষেত্রে আবার বিভিন্ন রকমের ফ্রেম রেট হয়। ফ্রেম রেট হলো ভিডিওতে প্রতি সেকেন্ডে কতটি ছবি বা ছবির ফ্রেম দেখাবে। কার্টুনের ক্ষেত্রে ১০-১২ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড, সিনেমার ২৪ অথবা ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে, খবর ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে এবং স্লো মোশন ভিডিও, খেলাধুলা ও একশনধর্মী কাজগুলো ৬০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে। ৫০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড (fps) এর বেশি গতির কোনো ভিডিও আমাদের চোখ আর আলাদা আলাদা ছবি হিসেবে ধরতে পারে না, তাই এগুলো আমাদের কাছে খুবই স্মুথ বা দেখার জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক।
একটা প্রসেসরে আসলে অগণিত মাইক্রো ট্রানজিস্টর রয়েছে, যারা পরস্পর জটিল সিস্টেম তৈরি করে 2³²টি বা 2⁶⁴টি আলাদা আলাদা সিগন্যালকে আমাদের সামনে উপস্থিত করছে বলেই আজ আমরা ছবি তুলতে পারছি, ভিডিও করতে পারছি, সিনেমা দেখতে পারছি, পারছি অনলাইনে বই পড়তে, ব্যাংকিং সেবা পেতে বা এআই ব্যবহার করতে। প্রসেসর নামের কম্পিউটারের মগজ না থাকলে এমন কিছু সম্ভবই হতো না।
এতকিছু বললাম, এজন্য যে বুয়েট অবশেষে অটোরিক্সার চেয়ে ভালো কিছু আবিষ্কার করলো। যদিও অনেকে হাসাহাসি করছেন যে ৩২ বিট এখন পুরোনো প্রসেসর, বর্তমানে ৬৪ বিট প্রসেসরের যুগ চলছে। আমি বলবো, এতো সবে শুরু। অনেক পথ চলা বাকি। আশা করাই যায়, শীঘ্রই ৬৪ বিটও তৈরি করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারও সেমিকন্ডাক্টর খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ‘প্রগতি ভি১’ এর উদ্ভাবকদের জন্য শুভ কামনা থাকলো। পৃথিবী এখনও হাতের নাগালের বাহিরে চলে যায়নি। একটু জোড়ে দোঁড়ালেই আমরা রেসে ফিরতে পারবো।
এতকিছু বললাম, এজন্য যে বুয়েট অবশেষে অটোরিক্সার চেয়ে ভালো কিছু আবিষ্কার করলো। যদিও অনেকে হাসাহাসি করছেন যে ৩২ বিট এখন পুরোনো প্রসেসর, বর্তমানে ৬৪ বিট প্রসেসরের যুগ চলছে। আমি বলবো, এতো সবে শুরু। অনেক পথ চলা বাকি। আশা করাই যায়, শীঘ্রই ৬৪ বিটও তৈরি করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারও সেমিকন্ডাক্টর খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ‘প্রগতি ভি১’ এর উদ্ভাবকদের জন্য শুভ কামনা থাকলো। পৃথিবী এখনও হাতের নাগালের বাহিরে চলে যায়নি। একটু জোড়ে দোঁড়ালেই আমরা রেসে ফিরতে পারবো।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন