ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘আগুনের গান ও অন্যান্য’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

সোনালী ব্যাগ কী আসলেই বাঙালি গবেষকের আবিষ্কার বলে মূল্যায়ন হয়নি?

সোনালী ব্যাগ। বাঙালির এক আজব আবেগ। যারা এই ব্যাগ নিয়ে আবেগী মন্তব্য করেন যে বাঙালি গবেষকের আবিষ্কার বলে মূল্যায়ন হয়নি তারা প্রত্যেকে কিনলেইতো ব্যাগটা সুপারহিট হয়ে যেতো।
এটা নিয়ে কখনোই কোনো কথা বলিনি, তবে আর নিতে পারছি না। গবেষককে ছোট করা এখানে উদ্দেশ্য না, উদ্দেশ্য এটা কেন সফল হয়নি তা বলা। খবরের কাগজে যে কত পরিমাণ এত ব্যাগ নিয়ে প্রচারণা, কান্নাকাটি দেখেছি আল্লাহই ভালো জানেন। 
যেমনটা খবরগুলোতে প্রচার হয়েছে আসলেই কি এটা পলিথিনের বিকল্প ছিল?
আচ্ছা, তার আগে বলুন, আপনি পলিথিন ব্যবহার করেন কেন?
আচ্ছা, আমিই বলি। দুটো কারণে। এক, কোনো কিছুকে পলিথিন পানি থেকে দূরে রাখে আর দুই, সস্তা। আপনি এজন্য পলিথিন কিনেন না যে এটা স্বচ্ছ।
এবার আসি এটা কেন বিকল্প হতে পারেনি। প্রথমত এটা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। মানে পলিথিনের যে সুবিধার জন্য আপনি এটা ব্যবহার করবেন, ঐটাই ছিল এই সোনালি ব্যাগের বড় দূর্বলতা। কিন্তু এটাকে এমনভাবে নিউজ করা হয়েছিল যেন এটাই তো আমরা চেয়েছিলাম। পানিতে গলে যাক, মাটিতে ১০০ বছর পরেতো আর থাকবে না। কিন্তু এটাকে স্বচ্ছ করতে ব্যবহৃত রাসায়নিক মাটির জন্য ঠিকই ক্ষতির কারণ হতো। তাই ইউনূস সরকারের আমলে এটা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়।
এটা ঠোঙার বিকল্প ছিল হয়তো কিন্তু পলিথিনের কোনোভাবেই না। একটু ক্লাসি ঠোঙা।
আর এটা সস্তাও ছিল না। ৫০ টাকা দিয়ে কেউ কেন একটা ব্যাগ কিনতে যাবে, যেখানে ৫০ টাকা দিয়ে কেজিদরে পলিথিন ব্যাগ কিনতে পারছে?
মূলত গবেষক একটা কাগজকলই তৈরি করেছিলেন, যেখানে পাট থেকে স্বচ্ছ ও ঝকঝকে কাগজ তৈরি হচ্ছিলো। কাগজ তৈরিতে যেহেতু পলিথিনের চেয়ে খরচ একটু বেশি, বিশেষ করে এমন কাগজ বানাতে, তাই তার দামটাও অন্যায্য নয়। তবে এটা ব্যর্থ হবার একটা বড় কারণ এর দাম।
তবে ভাবতে খারাপ লাগে তিনি এত বছর যাবত এই একটা বিষয় নিয়েই পরে আছেন এই আশায় যে একদিন তার এই প্রজেক্ট সফল হবে।
এই টাইম ক্যাপসুলে তার আটকে পড়া মোটেই ঠিক হয়নি। হয়তো এর পরে তিনি আসলেই যুগান্তকারী কিছু আবিষ্কার করে ফেলতেন, এটা নিয়ে এত দীর্ঘদিনের পণ্ডশ্রম না করলে।

মন্তব্যসমূহ

FS Quote

জনপ্রিয় পোস্টগুলো