পোস্টগুলি

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর আসন্ন বই ‘বারো ভূতের আঠেরো গপ্প’‘বঙ্গভূতের সঙ্গগুণে’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

পরিশ্রম ও কর্মসংস্থান

  পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি একথা ভুলে যান। এটা ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সবচেয়ে বড় মুলা। বাংলাদেশে শ্রমের মূল্য সবচেয়ে কম। খালি বাংলাদেশ কেন সারা পৃথিবীর সম্পদের ১% সম্পদও এত বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতে নেই। ধরুন, আপনি একজন শ্রমিক। কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনি একটা পণ্য তৈরি করে পান ৫০ টাকা, আপনার কোম্পানি কাঁচামাল কিনছে ৩৫০ টাকার। এখন তারা যদি আপনার বেতনের চেয়ে ১২ গুণ বেশি অর্থাৎ ৬০০ টাকা লাভ করতে না পারে, তবে আপনার ছাঁটাই কেউ আটকাতে পারবে না। এটাই গার্মেন্টসগুলোর নিয়ম। ঐ জিনিসটা ১০০০ টাকা যদি বিক্রি করা হয় তবে ৩৫০ টাকা বিনিয়োগের কারণে তারা যেখানে আয় করবে ৬০০ টাকা আপনি আপনার পরিশ্রম দিয়ে আয় করবেন ৫০ টাকা। ১০০০ টাকায় কিনে কারা? আপনি আমিই কিনি। কারণ আমাদের হাতে খুব বেশি অপশন নেই। আপনার কোম্পানি থেকে না কিনেন অন্য কোম্পানি থেকেও এমন দামেই কিনতে হবে। এ নিয়ে মুখ খুললে ছাঁটাই হবেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রশাসনের গুলি খাবেন আর যারা লাভ করার তারা ঠিকই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে চিরকাল। ওনারা টাকা উড়াবে, আপনাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাবে। ওনারা আপনাকে কোনোদিন সাবলম্বী হতেই দেবে না, এমন...

ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন

  আজও মনে আছে, সপ্তম কি অষ্টম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের সেই বিখ্যাত লাইন— “ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ভারতবর্ষ অধিকার করেন।” সমাজের শিক্ষক ক্লাসে প্রশ্ন করেছিলেন, “কে রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেন?” জবাব দিয়েছিলাম, “ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সেন।” “ধুর বেটা! সেন পাস কই?” বলে পিঠে ফেলেছিল একটা সেই লেভেলের ঢিসুম। এখনও মনে আছে। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লেখক যতি চিহ্ন ব্যবহার করেনি, তার ফল ভোগ করতে হয়েছিল, এই নির্দোষ বালকটিকে। হে লেখক সম্প্রদায়, আপনাদেরকে একটাই অনুরোধ; এরপর থেকে লেখার মধ্যে ঠিকঠাকভাবে যতি চিহ্ন ব্যবহার করবেন। আপনাদের সৃষ্ট একটা অতি সামান্য ভুল বোঝাবুঝি, আরেকজনের কান্নার কারণ হতে পারে।

খেলা-শতকড়ি

Shotokori-100 Coins Chess by FarhanShadik

শতকড়ি খেলার নিয়ম

ছবি
খেলার বিবরণ: শতকড়ি একটা ব্রেইন গেমস। এটিকে দাবার জটিল সংস্করণ বলতে পারেন। যা স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা আর তাম্রমুদ্রা ব্যবহার করে খেলা হতো। এটা সম্পূর্ণ রণকৌশলের খেলা। মুদ্রা আর রাজাদের সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এই খেলা। এগুলো দাবার মতো কোনো গুটি দিয়ে না বরং মুদ্রা দিয়ে খেলা হতো। খেলার সুবিধার্থে মুদ্রাগুলোর ওপরে চিহ্ন যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। খেলার গুটিগুলো ও তার মান: ১. সৈন্য/পদাতিক 💂 (মুদ্রা ২)-দাবার সৈন্য/বোড়ে/Pawn এর মতো। ২. অশ্বারোহী 🏇 (মুদ্রা ৩)-দাবার ঘোড়া/Knight এর মতো। ৩. তীরন্দাজ 🏹 (মুদ্রা ৪)-দাবার গজ/Bishop এর মতো। ৪. হাতি 🐘 (মুদ্রা ৫)-দাবার নৌকা/Rook এর মতো। ৫. সেনাপতি 🫅 (মুদ্রা ৬)-দাবার মন্ত্রী বা Queen এর মতো। ৬. রশদ 💰 (শুরুতে ৪টি মুদ্রা-৩টি রৌপ্য ও ১টি স্বর্ণ)-দাবার রাজার মতো। তবে পুরোপুরি না। নিয়মে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হবে। নিয়ম: দাবার মতো, ১. সৈন্য/পদাতিক 💂 (মুদ্রা ২)-শুরুর ঘর থেকে ১ বা ২ ঘর সোজা যেতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে ফাঁকা ১ ঘর সোজা বা প্রতিপক্ষের গুটি কাঁটার ক্ষেত্রে ১ ঘর কোণাকুণি যায়। সৈন্য পেছনে যেতে পা...

শতকড়ি

YOU (👑) 0 AI (🌙) 0 Your turn (👑) New game Rules Player Vs Player Back

শতকড়ি/100 Coins (২ খেলোয়াড়/2 Player mode)

PLAYER 1 (👑) 0 PLAYER 2 (🌙) 0 Player 1 turn (👑) New game Rules Player Vs Player Back

একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি

  ৯ নভেম্বর ২০২৫, খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল পাশের বাড়ির কারো চিৎকারে। সকালে জানতে পারলাম বড় দাদার (দাদার বড়ভাই) বাড়ির যে মহিলা দেখাশোনা করতেন ‘তার মেয়ে শশুরবাড়িতে আত্মহত্যা করেছে’। বাচ্চা হবার কারণে একা খরচ উঠাতে পারছিল না বলেই শশুরবাড়িতে রাখতে বাধ্য হয়েছিল স্বামী। প্রাথমিকভাবে সবাই ধারণা করেছিল, শশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কাহিনীকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলো। মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়নি। শরীরে পাওয়া গেলো রডের আঘাতের চিহ্ন। মানে এটা খুন। তারপর ঘটনা আরেক দফা বদলে গেল। জানা গেল খুনের কারণ। শ্বাশুড়ির পরকিয়া দেখে ফেলেছিল অভাগা মেয়েটি। এটাকে কোনো থ্রিলার গল্প ভাবতে পারেন, তবে এটা বাস্তব ঘটনা। শুধু এটা না, এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে আমাদের চারপাশে। কেন হচ্ছে এই অধঃপতন? কে এই সমাজকে সঠিক পথে নিয়ে আসবে? আরেকটা মজার তথ্য, মেয়েটির মামলা লড়ে লাভ কি হবে, উল্টো মামলা লড়তে গিয়ে হয়তো উকিলকে সামলাতে ভিটেমাটিটাও বেচতে হবে দুই পক্ষের। তাই পঞ্চায়েত মিমাংসা করে দিয়েছে স্বামীর ভিটেমাটি তার বাচ্চার নামে লেখে দিতে হবে। ব্যস! বিচার শেষ। বাচ্চাটি হয়তো বড় হয়ে ...

ক্লাসিক ১৬ গুটি খেলার নিয়ম

ছবি
১৬ গুটি এক প্রকার ব্রেইন গেমস। দু'জনে খেলতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার এই খেলাটা ইংরেজদের কাছে   ‘ S ixteen  Soldiers ’   নামে পরিচিত। এর কারণ এটাও দাবা ও শতগুটির মতো রণকৌশলের ওপর ভিত্তি করে বানানো একটি খেলা। নিয়ম:   ১. না কাঁটলে গুটি দাগ বরাবর ফাঁকা এক ঘর এগোতে পারে। ২. কাঁটতে হলে গুটি প্রতিপক্ষের গুটির ওপর দিয়ে ফাঁকা ২য় ঘরে যায়। ৩. সুযোগ থাকলে একাধিক গুটি কাঁটা যায়। ৪. প্রতিপক্ষের সব গুটি কেঁটে ফেলেছেন মানে আপনি বিজয়ী।  যারা লেখা পড়ে নিয়মটা বুঝতে পারেননি, আশা করি ভিডিওটা দেখলে বুঝতে পারবেন। ফিরে যান

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

ছবি
মনে হয় না কি অতি সাধারণ একটা গল্প? চাইলে তো আমিও লেখতে পারি এমন। কিন্তু এই অতি সাধারণ রূপকথার গল্প কিভাবে ছড়িয়ে পরলো সারা দুনিয়ায় কখনো ভেবেছেন? হ্যামিলন (Hameln/Hamelin) শহরটা কিন্তু বাস্তবেই ছিল, ছিল সেখানে ইঁদুরের প্রকোপও। তারচেয়ে জোরালোভাবে যা তখন ছিল তা হলো ইঁদুর বাহিত প্লেগ। সময়টা কারো মতে ১২৮৪ আবার কারো মতে ১৩৪৬-১৩৫৩। হঠাৎ করে প্লেগ ছড়িয়ে পড়লো চতুর্দিকে। মহামারির প্রাথমিক শিকার হলো ছোট ছোট বাচ্চারা। মা-বাবারা সন্তান হারিয়ে শোকার্ত তবে মেয়র উদাসীন। ভাবখানা এমন যে রোগ হয়েছে, সেরেও যাবে। এটা নিয়ে এত হৈচৈ করার কি আছে? ঐসময়ের আইন ছিল প্রচণ্ড কড়া, লেখকেরও তো প্রাণের মায়া আছে। কিন্তু তিনি মৌন থাকতে পারলেন না শাসকের উদাসীনতায়। জন্ম দিলেন প্রতিবাদী এক বাঁশিওয়ালার। যে বাঁশিওয়ালা সরাসরি বলে দিলো মেয়রের শপথ ভুলে যাওয়াই দায়ী এ শিশুগুলো হারিয়ে যাওয়ার পেছনে। প্লেগ রূপী বাঁশিওয়ালা তারই উদাসীনতায় কেড়ে নিলো এতগুলো শিশুর জীবন। নিয়ে উধাও হয়ে গেল চিরতরে। জনগণের চাপা ক্ষোভ মহামারির চেয়েও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিলো এই গল্প। যা আজও সময়ের বেড়াজাল ছিঁড়ে, মহামারির যন্ত্রণা ভুলে টিক...

আমার চোখে হিমু ও হুমায়ূন

ছবি
হুমায়ূনকে নিয়ে যেমন সমালোচনা বেশি তেমনই তার হিমুকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বেশি। এর জন্য দায়ী হুমায়ূন আহমেদ নিজেই। তিনি মৃত্যুর বর্ণনাও এমনভাবে লেখতেন যে পাঠকের মনে হবে— আহা কি দারুণ মৃত্যু! এমন মৃত্যুই তো চাই। হিমুকে সবজায়গাতেই মহাপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছে লেখক। কিন্তু সে কি আসলেই মহাপুরুষ? নাকি একজন সব হারানো ব্যক্তি? যে নিঃস্ব মানুষদের গণ্ডিতে ঘুরপাক খায়, কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে ভয় পায়। সে নিজের জন্য একটা কাল্পনিক জগত তৈরি করে নিয়েছে। যেখানে সে মহাপুরুষ, সে মুখ দিয়ে যা বলে তাই সত্যি হয়ে যায়। পাঠকরা ফ্যান্টাসিতে ভোগে সেও হিমুর মত যা ইচ্ছে করতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো হিমু নিজে যা চায় তা কখনোই করতে পারে না। যেমন সে কোনোদিন তার মায়ের ছবিটা পর্যন্ত দেখতে পারবে না। কারণ তার বাবার শর্ত অনুযায়ী তা একবার দেখেই তাকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এমনকি তার বাবার এমন উদ্ভট শর্ত ভাঙার সাধ্যও নেই তার। কেন তার সাধারণ জীবনযাপনে এত অনিহা? জানা যায়, তার প্রাথমিক জীবন কেটেছে সর্বাবস্থায় অন্যদের ক্ষতি করতে চাওয়া মামাদের আর একজন ভয়ংকর উন্মাদ বাবার সাথে। তাই তার বদ্ধ ধারণা, যে কিছু করে না সেই সবচ...
FS Quote