বাংলা সাহিত্য ও শরীরতত্ত্ব
‘আট কুঠুরি নয় দরজা’ নামটা যেকোনো পাঠকের কাছের অতি পরিচিত। কেন হবে না, এটা সমরেশ মজুমদারের মাস্টারপিস। তবে বইটা মৌলিক হলেও নামটা মোটেও মৌলিক না। নামটা তিনি নিয়েছেন লালনের ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ গান থেকে। গানটা ছিল- “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়? ধরিতে পারলে মনবেড়ি দিতাম পাখির পায়। আট কুঠুরি নয় দরজা আঁটা মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা তার উপরে সদর কোঠা আয়না-মহল তায়। কপালে কি আছে জানি না পাখিটি আমার বশ মানিল না কোন দিন খাঁচা ছেড়ে পাখি কোন বনে পালায়। ওরে মন তুই খাঁচার আশে খাঁচা যে তোর তৈরি কাঁচা বাঁশে কোন দিন খাঁচা পড়বে খসে লালন কেঁদে কয়।” লালনের এটা একটা আধ্যাত্মিক গান। যেখানে পাখি বলতে তিনি প্রাণ বুঝিয়েছিল তা সবারই জানা। কিন্তু আট কুঠুরি আর নয় দরজাটা কি? আসলে লালন এখানে আট কুঠুরি বলতে আমাদের শরীরের আটটা আবশ্যক অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কথা বলেছিলেন। এগুলো হলো- মগজ (যেটাকে পরবর্তীতে তিনি সদর কোঠাও বলেছিলেন), হৃদপিন্ড, দুই ফুসফুস, পাকস্থলি, মুত্রথলি ও দুই কিডনি। এগুলোর প্রতিটিই মানুষের বেঁচে থাকতে আবশ্যক। লালন বলছে এই আট কুঠুরির ম...