স্পেস লুডু ডিজাইনের পেছনের গল্প


স্পেস লুডুটা আমার বাচ্চাকালে ডিজাইন করা। আমিও অন্যান্য বাচ্চাদের মতো ডোরেমন পছন্দ করতাম। ডোরেমনের একটা পর্বে একটা স্পেস থিম নির্ভর সাপ লুডু ধরনের কাল্পনিক খেলা ছিল। যেটা খুব অল্প সময়ের জন্য দেখানো হয়েছিল। যেটা আমি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারিনি কখনোই।
যার কারণে স্পেস থিমে আমি নিজের মতো করে এই ছক সাজাই। তবে এর নিয়মগুলো যাদের সাথে খেলেছি তারা ভুলে যেত তাই খুব একটা খেলতে পারিনি। শুরুতে এই ছক ১০০ ঘরের ছিল। 
আরো অনেক বেশি অপশন ছিল। এতবছর পর অনলাইন করার সময় ভাবলাম, এটাকে সরল করি একটু। কঠিন লজিকগুলো তুলে দিলাম। যেমন গ্রেভিটি। ঐ ঘরের ওপর-নিচে-ডানে-বামের ছয়টা ঘর থেকে কোনো গুটি টেনে নিজের ঘরে নিয়ে আসতো।

১০০ থেকে ৩৬ ঘরে নিয়ে এলাম। ৩৬ বাঁছার কারণ আমার নতুন ছক্কা আইডিয়া। ছক্কার ছয় প্রান্ত। আর ছয়-ছয় ছত্রিশ। সবসময় আমরা ছক্কাকে ১-৬ পর্যন্ত চিহ্নিত করে আসছি। আমি ভাবলাম একটু ব্যতিক্রম করা যাক। ছক্কার একটা নির্দিষ্ট সংখ্যাকে ভয় করতে হবে না। প্রতিবারই ঐটা আলাদা আলাদা অর্থ দেবে। তাই বোর্ডে আকার বসালাম সাথে ছক্কায়ও। এজন্য ধার করলাম ৬টা জ্যামিতিক প্রতীক- বৃত্ত, চতুর্ভূজ, ত্রিভুজ, রুইতন, পঞ্চভুজ ও ষড়ভুজ। রুইতন (Diamond) অবশ্য তাসের প্রতীক।

দাঁড়িয়ে গেল কম সময়ে খেলার উপযুক্ত এক ব্যতিক্রমী লুডু। যাতে গণনার কোনো প্রয়োজনই নেই, শুধু তার পরের ঘরগুলোর মধ্যে ডাইনের আকারটা খুঁজে নিলেই হলো। যার ফলে বাচ্চাদের খেলার উপযোগী হয়েছে কিছুটা। সাথে বাচ্চারা কিছু বৈজ্ঞানিক টার্মের সাথেও পরিচিত হলো। তবে খেলাটি ক্লাসিক ছক্কা দিয়েও খেলা যাবে। তাই ঘরগুলোতে নাম্বারিং করা হয়েছে। 

এখন যে যে লজিক রয়ে গেছে- হাইপারড্রাইভ (সবচেয়ে বড় লাফ, ৬ থেকে সোজা ২২), ব্ল্যাকহোল (রকেট ধ্বংস, আবার গুটি তুলে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে), ওয়ার্মহোল (এক প্রান্তে বসলে সোজা আরেক প্রান্তে), রিপেয়ার (একবার ছক্কা চালতে পারবে না) ও এলিয়েন (২ কদম পিছিয়ে যেতে হবে)।

খেলার লিংক- https://farhan-shadik.blogspot.com/2026/10/space-war-spe.html

মন্তব্যসমূহ

ফারহান সাদিক (সংগ্রাম) এর কাব্যগ্রন্থ ‘সিলেট জয়ের নৈপথ্যে’, ‘কালিদাসের মেঘদূতের প্রমিত অনুবাদ’ আর ‘গোরস্তানের দারোয়ান’ নিয়ে কোনো প্রকাশনী কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।
FS Quote