ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে কী ইরান পরাজিত হতে চলেছে?
একদল ফেসবুক-টিকটকে লেখছে, “ওরা জানে ওরা হেরে যাবে, তবু ওরা মাথা নত করবে না।”
মানে সিরিয়াসলি? ইরান হেরে যাবে? একটা দেশ কিভাবে হারে জানেন?
আপনার কি মনে হয় খামেনির মৃত্যুতে যুদ্ধ শেষ হবে? না, যুদ্ধ আরো ফুঁসে উঠবে।
রাশিয়ার সাথে পারমাণবিক অস্ত্র না ব্যবহারের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি, ভেনুজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া, গ্রিনল্যান্ড দখলে নেয়ার চেষ্টা, ইসরায়েলে অর্থাৎ মুসলিম বিশ্বের ঠিক কেন্দ্রে ওদের ঘাটি শক্ত করা, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ হতে বাঁধা দেয়া সবই পূর্বপরিকল্পিত। এগুলো নিছক ট্রাম্পের ছ্যাবলামি না।
কিন্তু তাই বলে ইরান কি হার মেনে নিবে? কিছু দিন আগের আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ওরা শোপিস হিসেবে বানায়নি। আরেকটা গাজাও যদি হয়ে যায় তবু ইরান মাথা নত করার কথা না।
শেষ পর্যন্ত একসময় যখন দেখবে ইরানের সাথে যুদ্ধ করে কোনো লাভ হচ্ছে না বা দেশ এতোটাই বিধ্বস্ত যে তা দখল করেও লাভ করতে পারবে না, তখন যুদ্ধ দূর্বল হয়ে পরবে, জাতিসংঘের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করবে।
গত কয়েকটা যুদ্ধ দেখুন, আফগানিস্তানে পরাজয়ের মাধ্যমে আমেরিকার অধঃপতন শুরু, ইউক্রেনেও পরোক্ষভাবে কিছু উল্টাতে পারেনি, তাদের ইসরায়েলকে গুটি করে চালানো যুদ্ধ গাজার মনোবল ভাঙতে পারেনি, বাণিজ্য যুদ্ধে চীনের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখল চেষ্টায় সরাসরি ডেনমার্কের চপেটাঘাত।
আসলে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে কেউই জিতবে না। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি আর দু’পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এটাই হবে ফলাফল।
খামেনি চে গুয়েভারা স্টাইলে আগেই তার দেশের সেনাদের প্রস্তুত করে রেখে গেছে। গত ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময় একটা ভাষণে তিনি বলে গেছেন,
“আমার বয়স হয়েছে, শরীরের আর তেমন মূল্য নেই। এই যুদ্ধে আমি শুধু চেয়ারে বসে পরিস্থিতি দেখছি। ইসরায়েল যদি মনে করে আমাকে হত্যা করলেই তারা বিজয়ী—তবে তা তাদের ভুল ধারণা। এই যুদ্ধ পরিচালনা করছে ইরানের যুবসমাজ আর তারা অপরাজেয় থাকবে। আমাকে হত্যা করলেও ইরানের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ ইরান দাঁড়িয়ে আছে নৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে। ইরান কারও গোলামি করে না।”
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন