মুসলিমদের বদনামের দায় কার?
চলুন, আলোচনা করা যাক সারা দুনিয়ায় মুসলিমদের এত বদনাম কেন। শুধুই কি হলিউড-বলিউডের প্রোপাগান্ডা?
১. গালি দিয়ে কিছু মানুষ ধর্ম প্রচার করতে চায়।
ওরা আমাদের ধর্মগ্রন্থ পড়ে না। আমাদের বিচার করে আপনার-আমার কথা দিয়েই। এই কাজটা কিছু ওয়াজের বক্তাকেও করতে দেখেছি।
আমার কথা বাদ দিন। কোরানে সূরা আল-আনয়ামের ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আপনাদের জন্য লিখে রেখেছেন,
"আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না; কারণ তারাও অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি দেবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের আমল শোভন করে দিয়েছি। অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন তাদের প্রতিপালকের কাছেই; তখন তিনি তাদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।"
মানে, ধার্মিক সাজতে গিয়ে এখানে সরাসরি আল্লাহর আদেশই অমান্য করে বসে আছেন।
২. অপরাধীর অপরাধ ঢাকতে ভিক্টিমের দোষ খুঁজে খুঁজে বের করা।
খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) মৃত্যুর সময় ও তাঁর শাসনকালে বারবার মুসলিম প্রশাসন ও সেনাপতিদের অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর অন্তিম অসিয়তে বলে গেছেন, "আমি আমার পরবর্তী খলিফাকে জিম্মী বা অমুসলিম নাগরিকদের ব্যাপারে আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ওসিয়ত করছি। তাদের চুক্তির ওপর যেন লড়াই করা হয় এবং তাদের ক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝা যেন চাপানো না হয়।" (কিতাবুল খরাজ, ইমাম আবু ইউসুফ)
কেউ শুধু পর্দাশীল না হয়ে, সে যদি বিধর্মীও হয়, তবু তার বিচার করা আবশ্যক। আল্লাহর দরবারে আল্লাহ তার বিচার করলে করুক, কিন্তু পৃথিবীতে যিনাকারী বা ধর্ষণকারীর পক্ষ নেয়ার সুযোগ নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো অপরাধীকে (জুলুমকারী বা সীমা লঙ্ঘনকারীকে) আশ্রয় দেয় বা সাহায্য করে, তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ, ফেরেশতাদের অভিশাপ এবং সকল মানুষের অভিশাপ।" (সহীহ বুখারী: ১৮৭০; সহীহ মুসলিম: ১৩৭০)
অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানো বা তার পক্ষে কাজ করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "যে ব্যক্তি জেনেশুনে কোনো অন্যায়ের (বা অপরাধীর) পক্ষে বিতর্ক করে বা পক্ষাবলম্বন করে, সে যতক্ষণ না তা থেকে বিরত হয়, ততক্ষণ আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে।" (সুনান আবু দাউদ: ৩৫৯৭)
তাছাড়া কার কি দোষ ছিল তা খুটিয়ে খুটিয়ে বের করাও নিষেধ আছে।
রাসুলাল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা মুসলমানদের দোষত্রুটি অন্বেষণ করো না। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন..." (সুনান আবূ দাউদ: ৪৮৮০)
৩. মাদ্রাসাতেও সমকামীতা।
পত্রিকার পাতায় প্রায়ই উঠে আসে ভয়ংকর চিত্র। অথচ ইসলামে সরাসরি হারাম। শুধু ইসলামে না, অন্যান্য আব্রাহামিক ধর্মেও।তোমরা কি জগতে পুরুষদের সাথে কুকর্মে লিপ্ত হচ্ছ এবং তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে বর্জন করছ? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী এক জাতি। (সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ১৬৫-১৬৬)
কিছু মানুষ এসে বলার চেষ্টা করবে কেন মাদ্রাসা ছাড়া কোথাও কি ধর্ষণ হয় না? হয়, তবে তা ধর্মীয় স্থানে কিভাবে হতে পারে? এটাও মেনে নিতে হবে? মুসলিম বিশ্বের এমন কোনো মানুষ নেই যারা জানে না এটা হারাম। লুত (আ) এর জাতি ধ্বংস হবার কারণ ছিল এই সমকামীতা, তাহলে যারা মানুষকে ধর্মীয় শিক্ষা দিবে তারাই কেন এই কাজে জড়াবে? তাদের শিক্ষা কতটুকু আছে?
অবশ্য এ বিষয়েও ভবিষ্যৎবাণী আছে, অবশ্য তথাকথিত আলেম সমাজ এটা বলার কারণে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শেষ জামানায় কিছু এমন লোক হবে, যারা দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীন (ধর্ম) বিক্রি করবে। মানুষের সামনে তারা ভেড়ার চামড়ার মতো নরম ও মিষ্টি কথা বলবে কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ের চেয়েও বেশি হিংস্র ও পঙ্কিল। তাদের কথা হবে মধুর চেয়েও মিষ্টি, কিন্তু তাদের অন্তর হবে তিক্ত বিষের মতো। আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তারা কি আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে, নাকি আমার ওপর স্পর্ধা দেখাচ্ছে? আমি আমার নিজের কসম করে বলছি, আমি তাদের ওপর এমন এক ফিতনা বা বিপর্যয় চাপিয়ে দেব, যার মধ্যে তাদের বড় বড় বুদ্ধিমানরাও পথভ্রষ্ঠ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে।” (তিরমিজী: ২৪০৪; মুতাদরিকুল হাকেম; বায়হাকী ও জামেউস সগীর)
এটার আর ছবি দিবো না, তাদের আপনারাও চেনেন, আমিও চিনি সেসব ধর্মব্যবসায়ীদের।
হাদীসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (অর্থাৎ জিহ্বা বা মুখ) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অঙ্গের (অর্থাৎ লজ্জাস্থানের) হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।"
(সহীহ বুখারী: ৬৪৭৪, তিরমিজী, মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত: ৪৮১২)
নবীর শাফায়াত পেতে হলেও নিজের যৌনতা ও জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করো। মরার পরেও ভালো থাকবেন, আগেও।
আমার পাঠকদের কাছেও এই অনুরোধ। জিহ্বা মানে জিহ্বা দিয়ে করা সব রকম অন্যায় ও গোপনাঙ্গ দিয়ে করা সব ধরনের অন্যায় থেকে বেঁচে থাকুন। সবাই যদি শুধু এটুকু মেনে চলেন, দেশের অর্ধেক সমস্যা মিটে যাবে। আগে নিজে ধর্মের পথে আসুন, তারপর অন্যদের নিয়ে ভাবুন।




মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন