তাসের ইতিহাস
তাসের সাথে আমরা প্রত্যেকেই পরিচিত। অগণিত খেলা খেলা সম্ভব এই ৫২টা তাস দিয়ে। চীনের ডমিনোর অনুকরণে ফরাসিরা ১৪ থেকে ১৫ শতকের দিকে নতুন করে সাজিয়ে ফেলে নিজস্ব স্টাইলের ৫২ তাসের এই প্যাকেজ। জুয়া খেলা হয় বলে আমাদের সমাজে কিছুটা নিন্দিতও এই তাস। কিন্তু জুয়া, অনলাইন বেটিং, কেসিনোর মতো অবৈধ জায়গা থেকে শুরু করে ম্যাজিক ট্রিক, বই, সিনেমা, প্রবাদ কোথায় নেই তাস?
কখনো কী ভেবে দেখেছেন এত এত খেলার ভিড়ে এই তাস এত যুগ ধরে টিকে গেল কিভাবে?
চলুন তাস সম্পর্কে আজ এমন কিছু ধারণা দেয়া যাক যা হয়তো আপনারা আগে কখনোই শোনেননি।
তবে তার আগে শোনা জিনিস দিয়েই শুরু করি। এগুলোর তাস খেলার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
দুই রঙের মোট চার প্রকারের তাস থাকে প্যাকেটে।
রুইতন বা ডায়মন্ড (♦️) ও হরতন বা হার্ট (♥️) লাল আর ইসকাপন বা স্পেড (♠️) ও চিড়িতন বা ক্লাব (♣️) কালো। এই চারটা কিন্তু ৪টা জিনিসের প্রতীক। রুইতন বুদ্ধি ও সম্পদের, হরতন প্রেমের, ইসকাপন সাহসিকতার আর চিড়িতন পরিশ্রমের প্রতীক।তাসের সাহেব-বিবি-গোলামেও কিন্তু মিশে আছে ইতিহাস আর মিথলজি
তাসের রাজা বা সাহেবরা
চার অপরাজেয় রাজা থেকে এসেছে তাসের চার রাজা।রুইতন বা ডায়মন্ড (♦️): জুলিয়াস সিজার। বিশ্ব ইতিহাসের ও রোমান সাম্রাজ্যের প্রধান স্তম্ভ। রোমানরা রাজা শব্দটাকে ঘৃণা করতো, তাই সে নিজেকে রোমান ডিক্টেটর (শাসক) ঘোষণা করেন। মিশরের শাসন ফিরে পেতে ক্লিওপেট্রা তার কাছেই গিয়েছিল।
হরতন বা হার্ট (♥️) : চার্লস ৮ম। তিনি প্রজাদের প্রতি সদয় ছিলেন বলে তাকে ‘আফাবলি’ নামে ডাকা হতো। বাকি তিন শাসকের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে দুর্বল। ১৪৯৪ সালে তিনি নিজেকে নেপলসের সিংহাসনের দাবিদার দাবি করে, ‘ইতালীয় যুদ্ধ’ নামে খ্যাত ঐতিহাসিক যুদ্ধ শুরু করে এবং ১৪৯৫ সালে নেপলস জয়ও করে ফেলেন। তার জয়ে অন্যান্য ইতালীয় রাজ্যগুলো ঘাবড়ে গিয়ে ‘লীগ অব ভেনিস’ জোট গঠন করে। কোণঠাসা হয়ে পরার ভয়ে তিনি আবার তার দেশ ফ্রান্সে ফিরে আসেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে কাঠের দরজার ফ্রেমে ধাক্কা খেয়ে অদ্ভুতভাবে মারা যায় চার্লস।
ইসকাপন বা স্পেড (♠️): কিং ডেভিড বা দাউদ (আ)। আব্রাহামিক সব ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ রাজা ও নবী। অপরাজেয় যোদ্ধা গালিয়াথকে পরাজিত করে তিনি জেরুজালেম জয় করেছিলেন। খ্রীষ্টান মতানুযায়ী তার গ্রন্থ ‘গীতসংহিতা’ (Books of Psalms) আর ইসলামী মতানুযায়ী ‘যাবুর’। ইহুদীরা বিশ্বাস করেন তার বংশধরদের মধ্য থেকেই ‘মসীহ’ আসবে। তার ছেলে ছিল সুলাইমান (আ)।
চিড়িতন বা ক্লাব (♣️): আলেকজান্ডার দি গ্রেট। এই জগদ্বিখ্যাত যোদ্ধার পরিচয় আলাদা করে দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এই উপমহাদেশে তিনি পরিচিত সিকান্দার নামে।
রুইতন বা ডায়মন্ড (♦️): রেচেল। জেকব বা ইয়াকুব (আ) এর স্ত্রী। বাইবেল অনুসারে তিনি অত্যন্ত রূপবতী ও ধার্মিক ছিলেন। তাকে পেতে জেকবকে ১৪ বছর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। তিনি সরাসরি রাজত্ব করেননি, তবে তাকে সম্মান করেই তাসে রাণীর আসনে বসানো হয়েছে।
হরতন বা হার্ট (♥️) : জুডিথ। বাইবেলের বীরত্বপূর্ণ নারী চরিত্র। তিনি নিজের বুদ্ধি ও সাহসিকতার জোরে অ্যাসিরিয় সেনাপতি হোলোফার্নেসকে মেরে নিজের জাতিকে রক্ষা করেছিল।
ইসকাপন বা স্পেড (♠️): এথিনা। গ্রীক যুদ্ধের দেবী। আশাকরি তার ব্যাপারে এটুকুই যথেষ্ট।
চিড়িতন বা ক্লাব (♣️): আর্গিন বা রোগিনা। ধারণা করা হয় গ্রীক পৌরাণিক রাজকন্যা আর্গিয়াকে আঁকা হয়েছে। যিনি আর্গোসের রাজকন্যা ছিলেন। তিনি পলিনাইসিসের স্ত্রী ছিলেন, যিনি পতিব্রতা ও সাহসী ছিলেন। তবে অনেকের মতে, ইনি কোনো একক রাণী নন। বরং এটার অর্থই রাণী। যাকে লাতিনে ‘রোগিনী’ বলা হতো তারই একটা অ্যানাগ্রাম। মানে 'Regina' বর্ণগুলো উল্টোপাল্টা করে সাজিয়ে 'Argine' নাম দেয়া হয়েছে।
হরতন বা হার্ট (♥️) : জুডিথ। বাইবেলের বীরত্বপূর্ণ নারী চরিত্র। তিনি নিজের বুদ্ধি ও সাহসিকতার জোরে অ্যাসিরিয় সেনাপতি হোলোফার্নেসকে মেরে নিজের জাতিকে রক্ষা করেছিল।
ইসকাপন বা স্পেড (♠️): এথিনা। গ্রীক যুদ্ধের দেবী। আশাকরি তার ব্যাপারে এটুকুই যথেষ্ট।
চিড়িতন বা ক্লাব (♣️): আর্গিন বা রোগিনা। ধারণা করা হয় গ্রীক পৌরাণিক রাজকন্যা আর্গিয়াকে আঁকা হয়েছে। যিনি আর্গোসের রাজকন্যা ছিলেন। তিনি পলিনাইসিসের স্ত্রী ছিলেন, যিনি পতিব্রতা ও সাহসী ছিলেন। তবে অনেকের মতে, ইনি কোনো একক রাণী নন। বরং এটার অর্থই রাণী। যাকে লাতিনে ‘রোগিনী’ বলা হতো তারই একটা অ্যানাগ্রাম। মানে 'Regina' বর্ণগুলো উল্টোপাল্টা করে সাজিয়ে 'Argine' নাম দেয়া হয়েছে।
তাসের যোদ্ধা বা গোলামরা
রুইতন বা ডায়মন্ড (♦️): হেক্টর। ট্রয় নগরের রাজকুমার। যাকে তার ভাই প্যারিসের হেলেনকে নিয়ে পালানোর পরিনামের ট্রয় যুদ্ধে বীরত্ব দেখানোর পরও একিলিসের হাতে নিশংসভাবে মরতে হয়েছিল।
হরতন বা হার্ট (♥️): এতিয়েন দ্য ভিগনোলেস। বিখ্যাত নারী যোদ্ধা জোয়ান অফ আর্কের সহযোদ্ধা ছিলেন। তবে তার আগে-পরেও অগণিত যুদ্ধে সে অংশগ্রহন করেছিলেন। ধারণা করা হয় যুদ্ধে হওয়া ইনফেনশনই তার মৃত্যুর কারণ ছিল।
ইসকাপন বা স্পেড (♠️): ওজিয়ার দ্য ডেন। ফরাসি মহাকাব্যের পৌরাণিক বীর। তার জন্মের সময় মায়াপুরীর রাণী তাকে আশির্বাদ করেন সে বৃদ্ধ বয়সে তার সাথে মায়াপুরীতে রাজত্ব করবে। উপকথা অনুযায়ী, এই বীর মারাই যায়নি। তাকে মায়াদ্বীপ আভালনে রাণী ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। যদি আবার কখনো ডেনমার্ক চরম বিপদে পড়ে জেগে উঠবে ওজিয়ার।
চিড়িতন বা ক্লাব (♣️): ল্যান্সলট। কিং আর্থারের অধীনস্ত বিখ্যাত বীর। কিন্তু গোপনে তার প্রেম ছিল আর্থারের স্ত্রী রাণী গুইনেভিয়ারের সাথে। রাজসভায় তাদের প্রেম ফাঁস হয়ে গেলে সৈন্যরা ভাগ হয়ে যায় ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে আর্থার মারা যায় ও আর্থারের সাম্রাজ্যের পতন হয়। কিন্তু এই অপরাধবোধ আর ল্যান্সলট ও গুইনেভিয়ারকে এক হতে দেয়নি। গুইনেভিয়ার পাপবোধ থেকে সন্ন্যাসিনী হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আর কখনো ল্যান্সলটের মুখোমুখি হননি।
হরতন বা হার্ট (♥️): এতিয়েন দ্য ভিগনোলেস। বিখ্যাত নারী যোদ্ধা জোয়ান অফ আর্কের সহযোদ্ধা ছিলেন। তবে তার আগে-পরেও অগণিত যুদ্ধে সে অংশগ্রহন করেছিলেন। ধারণা করা হয় যুদ্ধে হওয়া ইনফেনশনই তার মৃত্যুর কারণ ছিল।
ইসকাপন বা স্পেড (♠️): ওজিয়ার দ্য ডেন। ফরাসি মহাকাব্যের পৌরাণিক বীর। তার জন্মের সময় মায়াপুরীর রাণী তাকে আশির্বাদ করেন সে বৃদ্ধ বয়সে তার সাথে মায়াপুরীতে রাজত্ব করবে। উপকথা অনুযায়ী, এই বীর মারাই যায়নি। তাকে মায়াদ্বীপ আভালনে রাণী ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। যদি আবার কখনো ডেনমার্ক চরম বিপদে পড়ে জেগে উঠবে ওজিয়ার।
চিড়িতন বা ক্লাব (♣️): ল্যান্সলট। কিং আর্থারের অধীনস্ত বিখ্যাত বীর। কিন্তু গোপনে তার প্রেম ছিল আর্থারের স্ত্রী রাণী গুইনেভিয়ারের সাথে। রাজসভায় তাদের প্রেম ফাঁস হয়ে গেলে সৈন্যরা ভাগ হয়ে যায় ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে আর্থার মারা যায় ও আর্থারের সাম্রাজ্যের পতন হয়। কিন্তু এই অপরাধবোধ আর ল্যান্সলট ও গুইনেভিয়ারকে এক হতে দেয়নি। গুইনেভিয়ার পাপবোধ থেকে সন্ন্যাসিনী হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আর কখনো ল্যান্সলটের মুখোমুখি হননি।
এত এত পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক চরিত্র আর তাদের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণই প্রাথমিকভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল তাসের প্রতি।
রুইতনের একচোখা রাজাকে আগে খেয়াল করেছেন?
রুইতনের রাজা জুলিয়াস সিজার। তাসে তাকে একচোখা দেখানো হয় সবসময়। না, তার চোখে কোনো সমস্যা ছিল না। তাকে একচোখা আঁকা হয় তার কূটনীতি ও ধূর্ততা বোঝানোর জন্য।
তাছাড়া বর্তমানে শুধু তার তাসেই অস্ত্র কুড়াল। কারণ রোমান শক্তির প্রতীক ধরা হতো কুড়ালকে। এই কুড়ালের নাম ফাসেস। এর গোড়া একটা দণ্ডের বদলে বানানো হতো কাঠের অনেকগুলো চিকন ডালের আঁটি বেঁধে।
অবশ্য কুড়ালটা তার হাতে স্পষ্ট করে বলা যায় না। এর পেছনেও কারণ আছে, রোমান প্রজাতন্ত্র তাকে ভয় পেতে শুরু করেছিল এই ভাবে যে, তার হাতেই রোমান প্রজাতন্ত্রের পতন হবে আর রাজতন্ত্র শুরু হবে। তাই তার বন্ধু ব্রুটাসসহ সেনেটের একদল সদস্য খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪ অব্দে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। হতে পারে এই কুড়ালটা তার না, বরং পেছন থেকে তাকে মারতে আসছে।
অবশ্য কুড়ালটা তার হাতে স্পষ্ট করে বলা যায় না। এর পেছনেও কারণ আছে, রোমান প্রজাতন্ত্র তাকে ভয় পেতে শুরু করেছিল এই ভাবে যে, তার হাতেই রোমান প্রজাতন্ত্রের পতন হবে আর রাজতন্ত্র শুরু হবে। তাই তার বন্ধু ব্রুটাসসহ সেনেটের একদল সদস্য খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪ অব্দে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। হতে পারে এই কুড়ালটা তার না, বরং পেছন থেকে তাকে মারতে আসছে।
তবু এই হত্যার ফল হয় উল্টো। মানুষ প্রজাতন্ত্রের খারাপ দিকটাও দেখে ফেলেছে তাই প্রজাতন্ত্রের প্রতিও মানুষের বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে পরে। তার ছেলে অক্টোভিয়ান (কোন কোন মতে আগাস্টাস) ২৭ খ্রিষ্টপূর্বে পুনরায় তার বাবার শাসনভার গ্রহণ করে ও প্রথম রোমান সম্রাট হন। যদিও তিনি নিজেও নিজেকে সম্রাটের পরিবর্তে প্রিন্সেপস (প্রথম নাগরিক) উপাধি দিয়েছিলেন তবে তার মানে কি তা সবাই জানে।
হরতনের রাজাকে সুইসাইড কিং বলা হয় কেন?
সুইসাইড কিং নামে খ্যাত হরতনের রাজা। নামটা এসেছে তাসে সে নিজের মাথায় খঞ্জর চালাচ্ছে বলে। যদিও এই রাজা আত্মহত্যা করেননি।
প্রাথমিক ডিজাইনে এই খঞ্জর ছিলই না। এটা ছিল একটা মুদ্রণজনিত ভুল।
আগে ৮ম চার্লসের হাতেও সিজারের মতো কুড়াল ছিল। মানে কুড়াল ওয়ালা দুইজন ছিল লাল আর তলোয়ার ওয়ালারা কালো।
সেই আদি ফরাসি তাসের নকশা নকল করে যখন ব্রিটিশরা তাস বানাতে কাঠের ব্লক বানাচ্ছিলো তখন নিম্নমানের কাঠের ডাইসের কারণে তাসের ছাপে এই কুড়াল হারিয়ে শুধু অস্পষ্ট কিছু রেখা থেকে যায়।
সেই আদি ফরাসি তাসের নকশা নকল করে যখন ব্রিটিশরা তাস বানাতে কাঠের ব্লক বানাচ্ছিলো তখন নিম্নমানের কাঠের ডাইসের কারণে তাসের ছাপে এই কুড়াল হারিয়ে শুধু অস্পষ্ট কিছু রেখা থেকে যায়।
পরবর্তীতে এই ভুল সংশোধন করতে গিয়ে শিল্পীরা ঐ রেখাগুলোকে তলোয়ার মনে করে নতুন করে যে তাসের নকশা করেন তাতেই জন্ম নেয় সুইসাইড কিং। এক ভুলে কুড়াল হয়ে গেল আত্মঘাতি খঞ্জর।
টেক্কা এত পাওয়ারফুল হলো কিভাবে?
টেক্কা যার ইংরেজি নাম Ace এসেছে ফরাসি ‘As’ শব্দ থেকে। যার অর্থ এক একক।১৭৮৯ সালের আগ পর্যন্ত টেক্কা সবচেয়ে কমশক্তির তাসই ছিল। ১৩টা তাসের মধ্যে সে শক্তি ছিল সবচেয়ে কম, মাত্র ১। ফরাসি বিপ্লবের পর রাজার চেয়েও একজন সাধারণ মানুষ শক্তিশালী এই ধারণা থেকে বদলে যায় টেক্কার ক্ষমতা। টেক্কা হয়ে উঠে সবচেয়ে শক্তিশালী তাস। মানে টেক্কা বয়ে বেড়াচ্ছে প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসও।
ইসকাপনের টেক্কা আলাদা কেন?
সাধারণত ইসকাপনের টেক্কাটা অন্য সব টেক্কার চেয়ে বড় ও কিছুটা রাজকীয় নকশাওয়ালা হয়ে থাকে। অবশ্য এর পেছনেও কারণ আছে। ১৮ শতকে ইংল্যান্ড সরকার তাস খেলার ওপর কর আরোপ করেছিল। কিন্তু কোন প্যাকেটের কর পরিশোধ করা হয়েছে তাও তো নিশ্চিত করতে হবে। তাই যে প্যাকেটের তাসের কর পরিশোধ করা হতো তার ইসকাপনের টেক্কায় রাজকীয় সিল মেরে দেয়া হতো। সেখান থেকেই আজও ইসকাপনের টেক্কা বাকি ৩ টেক্কা থেকে আলাদা।
মুদ্রণ শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর পেছনের তাস
কারিগররা আগে হাতেই বই লিখতো, বইয়ে ছবি আঁকতো হাতেই। তাসও বানানো হতো হাতে এঁকেই। ১৪-১৫ শতকের দিকে ইউরোপে তখন তাসের চাহিদা তীব্র। হাতে তাস এঁকে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না চিত্রশিল্পীরা। ধারণা করা হয় তখন এক অজ্ঞাত শিল্পী বের করেন নতুন উপায়। কাঠে উল্টো খোঁদাই করে তা দিয়ে ছাপ ফেলে ঐ শিল্পী অল্প সময়ে অসংখ্য তাস বানিয়ে চমকে দেন সকলকে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সিল মারার পদ্ধতি। যা মুদ্রণশিল্পকে অনেক বেশি উৎপাদনশীল করে তোলে।
যদিও ছাচ বা সিল ব্যবহার করে লেখা আরও কয়েকশো বছর আগে ৯ম শতকেই চীন আবিষ্কার করেছিল তবে তা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল ১৫ শতকে ইউরোপীয়দের হাত ধরেই। তবে অনেকের মতে ইউরোপীয়রা আসলে নতুন করে এই পদ্ধতি আবিষ্কারই করেননি। সিল্ক রুটে কোনোভাবে এই ছাঁচ পৌঁছায় ইউরোপে। ইউরোপীয়রা নিজেদের অবদান প্রমাণ করতে আবিষ্কারের গল্প বানিয়েছেন।
যদিও ছাচ বা সিল ব্যবহার করে লেখা আরও কয়েকশো বছর আগে ৯ম শতকেই চীন আবিষ্কার করেছিল তবে তা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল ১৫ শতকে ইউরোপীয়দের হাত ধরেই। তবে অনেকের মতে ইউরোপীয়রা আসলে নতুন করে এই পদ্ধতি আবিষ্কারই করেননি। সিল্ক রুটে কোনোভাবে এই ছাঁচ পৌঁছায় ইউরোপে। ইউরোপীয়রা নিজেদের অবদান প্রমাণ করতে আবিষ্কারের গল্প বানিয়েছেন।
১৪৪০-১৪৫০ এর দিকে জার্মান যোহানেস গুটেনবার্গ দেখেন কাঠের ছাচগুলো দ্রুত নষ্ট হয়, তাই সে কাঠের পরিবর্তে অক্ষরের ধাতব ছাঁচ বানানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করে। জন্ম নেয় টাইপ টাইটার। ফলে কম খরচে অল্প সময়ের মধ্যে বাইবেলসহ ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক বইগুলো ছাপার হার বেড়ে যায় অনেক।
আশা করি, তাস সম্পর্কে নতুন কোন আকর্ষণীয় তথ্য জানাতে পেরেছি। এরপর হয়তো তাস দেখলে আপনার কল্পনায়ও জেগে উঠবে পৌরাণিক এসব চরিত্রেরা। অনুভব করবেন আদিম সেই নস্টালজিয়া। যা অমরত্ব দিয়েছিল এই মোটা কাগজগুলোকে।
আশা করি, তাস সম্পর্কে নতুন কোন আকর্ষণীয় তথ্য জানাতে পেরেছি। এরপর হয়তো তাস দেখলে আপনার কল্পনায়ও জেগে উঠবে পৌরাণিক এসব চরিত্রেরা। অনুভব করবেন আদিম সেই নস্টালজিয়া। যা অমরত্ব দিয়েছিল এই মোটা কাগজগুলোকে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন